নাটোর জেলা প্রতিনিধি,
নাটোরের বাগাতিপাড়ায় বাল্যবিয়ে দেওয়ার অভিযোগে দুই অভিভাবককে কারাদন্ড
দিয়েছে ভ্রাম্যমান আদালত।এদের একজন কনের বাবা এবং অপরজন অপর একজন কনের
দুর সম্পর্কের খালাতো ভাই। মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাসরিন বানুর আদালত এ আদেশ দেন।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানাগেছে,
গত ২১ অক্টোবর শুক্রবার উপজেলার রহিমানপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী
আঁখী খাতুনের বিয়ে ঠিক করেন একই গ্রাম রহিমানপুরের আবুল কালামের ছেলে
কাজল হোসেনের সাথে। তার দুর সম্পর্কের খালাতো ভাই হেলাল উদ্দিনের বাড়িতে
তার বিয়ের হওয়ার কথা ছিল। হেলাল উপজেলার কাজির চক মোল্লা পাড়ার মৃত বাবু
আলীর ছেলে। কয়েক বছর আগে বাবার মৃত্যুর পর আঁখি খাতুন তার মা শাহিদা
বেওয়ার সাথে হেলালের বাড়িতেই থাকত। ঘটনার দিন খবর পেয়ে উপজেলা গ্রাম
পুলিশের সভাপতি দফাদার মুক্তার হোসেন, গ্রামপুলিশ শফিউল আযম, আলমগীর
হোসেন ও মাহবুব হোসেনকে বিয়েবাড়ি পাঠিয়ে ইউএনও নাসরিন বানু বাল্য
বিয়ে বন্ধ করেন। সে সময় হেলাল উদ্দিন বিয়ে না দেওয়ার প্রতিশ্র“তি দেন। কিন্তু
এরপরও তিনি গোপনে আাঁখি খাতুনের বিয়ে দেওয়ায় গ্রাম পুলিশ পাঠিয়ে
হেলাল উদ্দিনকে মঙ্গলবার আটক করা হয়। এদিকে গত সোমবার উপজেলার খন্দকার
মালঞ্চি গ্রামের এনামুল হোসেনের মেয়ে ইমু খাতুন (১৬) এর বিয়ে পার্শ্ববর্তী
সালাইনগর গ্রামের শহিদুলের সাথে ঠিক করেন পরিবারের লোকজন। পরে খবর পেয়ে
গ্রাম পুলিশ পাঠিয়ে ওই বাল্য বিয়েও বন্ধ করেন ইউএনও। কিন্তু বন্ধের পরও গোপনে
কনের বাবা এনামুল মেয়ের বিয়ে দিয়ে দেন। এ ঘটনা জানতে পেরে ইউএনও’র
নির্দেশে তাকেও আটক করা হয়। পরে মঙ্গলবার বিকেলে হেলাল উদ্দিন ও ইমুর বাবা
এনামুলকে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করা
হয়।