বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ০১:৩০ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
দেশে কোনো পশু সংকট নেই – সাভারে মন্ত্রী আমিন উর রশিদ সাভার ও আশুলিয়ায় অপরিকল্পিত বাসা বাড়িতে বসবাসে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন জনগণ প্রাণিসম্পদ খাতকে সমৃদ্ধ করতে সরকার-বেসরকারি উদ্যোগ প্রয়োজন – মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী   কুমিল্লার নাগরিক সেবায় নতুন অধ্যায়: গঠিত হচ্ছে ওয়াসা ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নিচে ছোট পাইপ স্থাপনের অভিযোগ আশুলিয়ার জামগড়া ইস্টার্ন হাউজিং বাজারে জলাবদ্ধতায় ব্যবসা-বাণিজ্য স্থবির, ব্যবসায়ীদের প্রতিবাদ গৃহবধূ হত্যা মামলার আসামি র‍্যাবের হাতে গ্রেফতার! আশুলিয়ার বাইপাইল- ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট, চরম দুর্ভোগে জনসাধারণ আশুলিয়ায় কিশোর গ্যাং কতৃক অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র অপহরণের পর হত্যা: ২০ মাস পর লাশ উত্তোলন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সৌদি রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

এবার হেপাটাইটিস ‘বি’ চিকিৎসার ওষুধ উদ্ভাবন করলেন দুই বাংলাদেশি

বাংলার প্রতিদিন ডেস্ক ::
  • আপডেট সময় মঙ্গলবার, ২৪ অক্টোবর, ২০১৭
  • ২৭২ বার পড়া হয়েছে
এবার হেপাটাইটিস ‘বি’ চিকিৎসার ওষুধ উদ্ভাবন করলেন দুই বাংলাদেশি

অনলাইন ডেস্কঃ হেপাটাইটিস ‘বি’ ভাইরাসে সংক্রমিত ব্যক্তিদের চিকিৎসায় বাংলাদেশি দুজন গবেষক অধিক কার্যকর ও উন্নততর ওষুধ উদ্ভাবন করেছেন। ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের অনুমোদন পেলে আগামী বছরের শুরুতেই এটি বাজারে আসবে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের হেপাটোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. মামুন-আল-মাহতাব এবং জাপান প্রবাসী বাংলাদেশি লিভার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. শেখ মোহাম্মদ ফজলে আকবর হেপাটাইটিস ‘বি’ ভাইরাসের চিকিৎসার জন্য নতুন ধরনের এই ওষুধ ‘ন্যাসভ্যাক’ উদ্ভাবন করেন। এ দেশেরই একটি ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ওষুধটি প্রস্তুত ও বাজারজাত করবে। বাজারে প্রচলিত হেপাটাইটিস বি’র অন্যান্য ওষুধের তুলনায় এর দাম কম এবং সহজলভ্য হবে।

অধ্যাপক ডা. মামুন-আল-মাহতাব বাসসকে বলেন, ‘ন্যাসভ্যাক কোনো জাদুকরি ওষুধ নয়। কিন্তু এই ওষুধের ক্লিনিক্যাল পরীক্ষায় হেপাটাইটিস ‘বি’ ভাইরাসে আক্রান্ত শতকরা ৫০ ভাগ রোগীর ক্ষেত্রে ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে। আর লিভারের প্রদাহে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় আরোগ্য লাভের হার শতভাগ।

ডা. মাহতাব এই ওষুধের কার্যকারিতা যাচাইয়ের প্রধান পরীক্ষক এবং ডা. আকবর এই ওষুধ উদ্ভাবনের জন্য মৌলিক গবেষণা সম্পন্ন করেন।

জাপান প্রবাসী বাংলাদেশি লিভার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক আকবর ২৫ বছর ধরে হেপাটাইটিস বি চিকিৎসায় নতুন চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়ে গবেষণা করছেন। তাঁর গবেষণার মূল প্রতিপাদ্য হচ্ছে, হেপাটাইটিস বি’র বিরুদ্ধে মানুষের নিজের রোগ প্রতিরোধক্ষমতাকে বাড়িয়ে দিয়ে ভাইরাসটিকে নিয়ন্ত্রণ করা।

ডা. আকবর প্রথমে ইঁদুরের ওপর গবেষণা করেন। পরে জাপানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নিয়ে হেপাটাইটিস বি রোগীদের ওপর ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা-নিরীক্ষা পরিচালনা করেন। পরবর্তী সময়ে আরো গবেষণার জন্য ডা. মাহতাব বাংলাদেশে প্রায় এক হাজার হেপাটাইটিস ‘বি’ রোগীর ডেটাবেস তৈরি করেন।

২০০৯ সালে বাংলাদেশে ১৮ জন ক্রনিক হেপাটাটিস ‘বি’ রোগীর ওপর ‘ন্যাসভ্যাক’-এর প্রথম ও দ্বিতীয় দফা ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল পরিচালিত হয়। এতে আশাব্যঞ্জক ফলাফল পাওয়ায় ২০১১ সালে পুনরায় ১৫১ জন রোগীর ওপর ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল পরিচালনা করা হয়।

তৃতীয় দফায় এই ১৫১ জন ক্রনিক হেপাটাইটিস ‘বি’ রোগীকে দুই দলে ভাগ করে তাদেরকে যথাক্রমে ‘ন্যাসভ্যাক’ ও পেগাইলেটেড ইন্টারফেরনের মাধ্যমে চিকিৎসা করা হয়। ট্রায়ালটিতে সর্বমোট ৭৫ জন রোগীকে মোট ১৫ বার ‘ন্যাসভ্যাক’ আর অন্য ৭৬ জন রোগীকে মোট ৪৮ বার পেগাইলেটেড ইন্টারফেরন প্রয়োগ করা হয়।

ডা. মাহতাব বলেন, ‘এ পরীক্ষায় দেখা যায় ন্যাসভ্যাক পেগাইলেটেড ইন্টারফেরন-এর চেয়ে অধিক কার্যকর।’ তিনি বলেন, এশিয়া, লাতিন আমেরিকা, ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া এবং এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে এর চূড়ান্ত পর্যায়ের ট্রায়াল দেওয়া হয়েছে।

ডা. মাহতাব বলেন, কিউবার ওষুধ প্রশাসন এরই মধ্যে ন্যাসভ্যাককে অনুমোদন দিয়েছে। পাশাপাশি বেলারুশ, ইকুয়েডর, নিকারাগুয়া ও এঙ্গোলাতেও হেপাটাইটিস বি’র চিকিৎসায় ন্যাসভ্যাক ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে।

বর্তমানে হেপাটাইটিস ‘বি’ সংক্রমণ থেকে সম্পূর্ণভাবে সুস্থ করে তোলার মতো কোনো ওষুধ নেই। চিকিৎসকরা এ রোগের চিকিৎসার জন্য প্রচলিত চিকিৎসা পদ্ধতির আশ্রয় নেন। যাতে এসব রোগী ধীরে ধীরে সংক্রমণ থেকে আরোগ্য লাভ করে এবং লিভার সিরোসিস বা লিভার ক্যানসারের মতো রোগে আক্রান্ত না হয়।

ডা. মাহতাব বলেন, এমনকি এ ধরনের চিকিৎসাও দীর্ঘদিন কোনো রোগীর ওপর প্রয়োগ করলে তার নানা ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে। তবে ন্যাসভ্যাক-এর ক্লিনিক্যাল পরীক্ষায় প্রমাণিত হয়েছে যে এটি ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে অনেক বেশি কার্যকর। তিনি বলেন, ক্লিনিক্যাল পরীক্ষায় আরো প্রমাণিত হয়েছে যে, ন্যাসভ্যাক কেবলমাত্র হেপাটাইটিস বি’র চিকিৎসার জন্যই কার্যকর নয়, যে কোনো ক্রনিক ইনফেকশনের জন্যও এটি কার্যকর।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের দুই কোটি ৪০ লাখ লোক ক্রনিক হেপাটাইটিস ‘বি’ ভাইরাসে আক্রান্ত।

একটি বৈজ্ঞানিক গবেষণার উল্লেখ করে ডা. মাহতাব বলেন, ‘দেশে পাঁচ কোটির বেশি লোক হেপাটাইটিস ‘বি’ ভাইরাসে আক্রান্ত। এদের মধ্যে ৮০ লাখ লোক ক্রনিক হেপাটাইটিস ‘বি’ দ্বারা সংক্রমিত এবং তাদের লিভার সিরোসিস ও লিভার ক্যানসার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সুত্র/ntvbd


প্রিন্ট

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © banglarprotidin.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themebazarbanglaro4451