পারভেজ, কলাপাড়া প্রতিনিধি : পটুয়াখালী কলাপাড়ায় লালুয়া ইউনিয়নে পানিতে ভাসছে গ্রামের পর গ্রামঃ জনদুর্ভোগ চরমে। শুক্রবার রাতে রাবনাবাধ নদীর আস্বাভাবিক জোয়ারের তান্ডবে ৪৭/৫ নম্বর পোল্ডারের বেড়িবাঁধের ৮ টি পয়েন্ট বিধ্বস্ত হয়েছে। এর ফলে ইউনিয়নের পশুরবুনিয়া, চারিপাড়া, নাওয়াপাড়া, গাজীরখাল, মুন্সিপাড়া, বানাতিপাড়া, ১১নম্বর হাওলা, ধঞ্জুপাড়া, ছোট পাচ নম্বর, বড় পাঁচ নম্বর, চৌধুরীপাড়া গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্ধী ওইসব গ্রামের মানুষ মানবেতর জীবন-যাপন করছেন।অস্বাভাবিক জোয়ারের পানিতে ফসলী জমি, পুকুর, ঘেরসহ বাড়ি ঘর তলিয়ে গেছে। দুই হাজার কৃষক পরিবারের রাতের ঘুম হারাম হয়ে গেছে। নির্মান কাজ শেষ হওয়ার দুই মাসের মাথায় বেড়িবাঁধ বিধ্বস্ত হয়েছে।দুই বিঘা জমি আবাদ করে আমন ফসল ঘরে তোলার জন্য কৃষক বেল্লাল হাওলাদার রিং বেড়িবাঁধ নির্মাণে এক হাজার টাকা দিয়েছিলেন। শাহজাহান প্যাদা দিয়েছিলেন ২৫ শ’ টাকা। এভাবে আনিছুররহমান পাঁচ শ’, হেলাল হাওলাদার এক হাজার, আলমগীর হাওলাদার দুই হাজার টাকা দিয়েছিলেন। কলাপাড়া উপজেলার ৩নং লালুয়া ইউনিয়নের চারিপাড়া গ্রামে বাড়ি এসব কৃষকের।এভাবে চারিপাড়া, পশুরবুনিয়া, বানাতি, ১১ নং হাওলা ও ধঞ্জুপাড়া গ্রামের অন্তত দুই হাজার কৃষক পরিবার প্রায় ছয় লাখ টাকা খরচ করে নিজেদের অর্থায়নে দেড় কিলোমিটার রিং বেড়িবাঁধ নির্মাণ করেছিলেন। সবাই আমন ফসল রক্ষায় এ বাঁধটি করেছিলেন। নিশ্চিন্তে চাষাবাদ করে আমন চারা রোপণ করেন। ভাল ফলনের উজ্জল সম্ভাবনাও দেখা দেয়। কৃষকরা রঙিন স্বপ্নে বিভোর ছিল আর এক মাস পরে গোলায় ধান তুলবেন। কিন্তু সেইসব স্বপ্ন ধুলিস্যাৎ হয়ে গেছে। দুই হাজার কৃষক পরিবারের স্বপ্নের বাঁধ অস্বাভাবিক জোয়ারের তোড়ে ভেসেগেছে। সেই সঙ্গে আমন ফসল ঘরে তোলার আকাঙ্খা ফিঁকে হয়ে গেল। ফের বাঁধ মেরামত করার কোন সঙ্গতি এদের নেই। ফলে এসব পরিবারে এখন রাতের ঘুম হারাম হয়ে গেছে।নিজেদের অর্থায়নে ফসল রক্ষায় নির্মিত বাঁধ ভেসে গেছেরামনাবাদ পাড়ের এসব দরিদ্র কৃষক শ্রেণির মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। এই ভাঙ্গা বাঁধটি পানি উন্নয়ন বোর্ড মেরামত করেনি। তাই কৃষকরা এ বছর নিজেদের উদ্যোগে আমন ফলনের আশায় একটি রিং বেড়িবাঁধ করেছিলেন। তাও অস্বাভাবিক জোয়ারের তীব্র ঝাপটায় ভেসে গেল। এখন আমনক্ষেত পানির নিচেডুবে আছে।এলাকার মেম্বার মজিবর রহমান বলেন তিন দিন আগেও আমন ক্ষেতের সবুজ সমারোহেতাদের বুকে শিহরণ জাগত। মনে আশার জাল বুনেছিলেন গোলায় তুলবেন পাকা ধান। রঙিন সেই স্বপ্ন এখন বিবর্ণ, ধুসর হয়ে গেছে। যেন আগামি বছরের খোরাকি ধান সংগ্রহে রাজ্যের অনিশ্চয়তার কবলে পড়লেন দুই হাজার কৃষক পরিবার। প্রকৃতির সঙ্গে যুদ্ধকরে সিডরের পর থেকে বাস করা এই মানুষগুলো এখন চরম অসহায় হয়ে পড়েছে। গণমাধ্যমকর্মীদের দেখলে শুধু বলেন, কী করবেন ছবি তুইল্যা। কী করবেন পেপারে লেইখ্যা। কোন সমাধান তো হয়না । আরও কত কী। আগ্রহভরে তথ্যও দিতে চাননা এই অসহায় মানুষগুলো। এখন আমন ফসল তো দূরের কথা, রান্না করে খাওয়ার মতো অবস্থা নেই। জোয়ারের পানিতে মানুষগুলো ভাসছে আর অসহায়ের মতো চোখের সামনে ফসল নষ্ট হওয়া, পুকুরেরমাছ ভেসে যাওয়ার সর্বনাশা দৃশ্যগুলো দেখছেন।নিজেদের অর্থায়নে ফসল রক্ষায় নির্মিত বাঁধ ভেসে গেলে লোকালয়ে এমন অবস্থা দেখা দেয়–এসব মানুষ তাদের স্বপ্নের বাঁধ ভেঙ্গে যাওয়ায় এখন চরম দুর্বিষহ দশায় পড়েছেন। আগামি বছরের খোরাকি কীভাবে সংগ্রহ করবেন সেই দুশ্চিন্তায় দু’চোখে সর্ষেফুল দেখছেন। তাদের রাতের ঘুম হারাম হয়েগেছে। ফসল রক্ষায় এ বাঁধটি জরুরি ভিত্তিতে মেরামতের কোন তথ্যও জানাতে পারেননি পানি উন্নয়ন বোর্ডের কলাপাড়ার নির্বাহী প্রকৌশলীর অফিস।