মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪৭ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
দেশে কোনো পশু সংকট নেই – সাভারে মন্ত্রী আমিন উর রশিদ সাভার ও আশুলিয়ায় অপরিকল্পিত বাসা বাড়িতে বসবাসে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন জনগণ প্রাণিসম্পদ খাতকে সমৃদ্ধ করতে সরকার-বেসরকারি উদ্যোগ প্রয়োজন – মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী   কুমিল্লার নাগরিক সেবায় নতুন অধ্যায়: গঠিত হচ্ছে ওয়াসা ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নিচে ছোট পাইপ স্থাপনের অভিযোগ আশুলিয়ার জামগড়া ইস্টার্ন হাউজিং বাজারে জলাবদ্ধতায় ব্যবসা-বাণিজ্য স্থবির, ব্যবসায়ীদের প্রতিবাদ গৃহবধূ হত্যা মামলার আসামি র‍্যাবের হাতে গ্রেফতার! আশুলিয়ার বাইপাইল- ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট, চরম দুর্ভোগে জনসাধারণ আশুলিয়ায় কিশোর গ্যাং কতৃক অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র অপহরণের পর হত্যা: ২০ মাস পর লাশ উত্তোলন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সৌদি রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

কোটচাঁদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পদ আছে ২৬টি কর্মরত ৫ জন!

বাংলার প্রতিদিন ডেস্ক ::
  • আপডেট সময় রবিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৭
  • ৩৩০ বার পড়া হয়েছে

 

মোস্তাফিজুর রহমান উজ্জল, ঝিনাইদহ প্রতিনিধি:
উপরে ফিটফাট, ভিতরে সদর ঘাট। কোটচাঁদপুর উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির দশা
এখন বহুল প্রচলিত এই প্রবাদ বাক্যের মতোই। উপজেলা পর্যায়ের এই
হাসপাতালটিকে পরিচ্ছন্ন, আধুনিক ও আকর্ষনীয় করে তোলা হলেও ডাক্তারের
অভাবে রোগীরা সেবা পাচ্ছে না। বর্তমানে ২৬ জন চিকিৎসকের পদ থাকলেও
কর্মরত আছেন মাত্র ৫ জন। যার মধ্যে একজন প্যাথলজিষ্ট ও একজন এনেসথেশিয়া
রয়েছে। ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলা শহরে ১৯৮৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এই
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি। উপজেলার ৫টি ইউনিয়ন আর ১টি পৌরসভার দেড় লক্ষাধিক
মানুষের চিকিৎসার প্রয়োজনে প্রতিষ্ঠিত এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি । ৩১ শয্যা
থেকে বাড়িয়ে ৫০ শয্যা করা হয়েছে। শুরু থেকেই কমপ্লেক্সটি চলছিল জোড়াতালি
দিয়ে। প্রয়োজনের তুলনায় জনবল না থাকায় রোগিদের চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব
ছিল না। কমপ্লেক্সটি ছিল অপরিষ্কার, ময়লা ও দূর্গন্ধযুক্ত। যা এক বছরের ব্যবধানে
কমপ্লেক্সটি পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন, দালালমুক্ত পরিনত হয়েছে। এখন নিয়মিত অস্ত্রপচার
হচ্ছে। রোগিরা ভালো পরিবেশে চিকিৎসা নিচ্ছেন। জরুরী বিভাগ, বর্হিবিভাগ
আর আন্তঃ বিভাগে রোগির সংখ্যা বেড়েছে। কিন্তু ডাক্তারের অভাবে রোগীদের যে
দুর্দশা সেটা রয়েই গেছে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটির কর্মকর্তা ও কর্মচারির সঙ্গে
কথা বলে জানা যায়, ২০১৬ সালের ২২ আগষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান
কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন ডাক্তার মোঃ শাহাব উদ্দিন। তিনি যোগদান
করেই বদলে দেন কোটচাঁদপুর উপজেলা হাসপাতালটি। কমপ্লেক্সটির কর্মী বাবলুর
রহমান জানান, ডাঃ মোঃ শাহাব উদ্দিন স্যার যোগদানের পরই কমপ্লেক্সটির বাইরে
সাইকেল রাখার জায়গা তৈরী করেছেন। এরপর কমপ্লেক্সের সামনে ফুলের বাগান তৈরী
করেন। কমপ্লেক্স এলাকার ভুতুড়ে পরিবেশ দূর করতে চারিদিকে সার্চলাইট স্থাপন
করেন। গোটা কমপ্লেক্স সিসিটিভির আওতায় নিয়ে আসেন। কমপ্লেক্সটির
ওয়ার্ডগুলোতে সাইন বোর্ড স্থাপন করেন। সেবিকাদের কক্ষে বসে মাইক্রোফোনের
সাহায্যে রোগিদের নানা তথ্য দেওয়া হচ্ছে। বর্হিবিভাগে চিকিৎসা নিতে
আসা রোগিদের বসার জন্য ২০ সেট অত্যাধুনিক এস.এস চেয়ারের ব্যবস্থা করা
হয়েছে। সেখানে ৪৬ ইঞ্চি এল.ই.ডি টেলিভিশন স্থাপন করা হয়েছে। অনেক
পরিবর্তনের পরও ডাক্তার না থাকায় হাসপাতালের রোগীরা অনত্র চলে যাচ্ছে।
চিকিৎসক সংকটের কারনে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রোগিদের চাহিদা অনুযায়ী
চিকিৎসা দিতে পারছেন না। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার

মোঃ শাহাব উদ্দিন জানান, এসকল কাজে কমপ্লেক্সের কর্মকর্তারা ও স্থানীয়রা তাকে
সহযোগিতা করেছেন। এখনও ১৩ জন কর্মচারি কাজ করে যাচ্ছেন যাদের বেতন
স্থানীয় ভাবে হয়ে থাকে। বিভিন্ন মানুষের আর্থিক সহযোগিতায় তারা
সবকিছু করে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটির সবকিছু সাজিয়ে
গুছিয়ে রাখলেও ডাক্তার সল্পতার কারনে রোগিদের চাহিদামতো সেবা দিতে পারছেন
না। মাত্র ৩ জন মেডিকেল অফিসার দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। কমপ্লেক্সে চিকিৎসা
নিতে আসা ইকড়া গ্রামের আমিুদ্দীন জানান, এখানকার উন্নত পরিবেশে তারা
খুশি। তবে ডাক্তার না থাকায় মাঝে মধ্যে সমস্যা হচ্ছে। বলুহর গ্রামের আতিয়ার
রহমান জানান, আগে তারা বে-সরকারি ক্লিনিকে ছুটতেন। এখন আর তাদের
সেখানে যেতে হয় না। তবে ডাক্তার নেই বলে তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র
চলে যেতে হয়।


প্রিন্ট

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © banglarprotidin.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themebazarbanglaro4451