তালা প্রতিনিধি:
তালায় ভাইকে পরিকল্পিতভাবে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় তার স্ত্রী তাজমা বেগম
(২৮) সহ ৫ জনকে আসামী করে আদালতে মামলা করেছে নিহতের ছোট ভাই
মনিরুল শেখ। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার কৃষ্ণকাটি এলাকায়।
মামলার বিবরণ ও এলাকাবাসী জানায়,উপজেলার চরকানাইদিয়া গ্রামের মুক্তার
আলী শেখ’র ছেলে হাফিজুর শেখ’র সাথে গত প্রায় ১২ বছর পূর্বে বিয়ে
হয় পার্শ্ববর্তী কৃষ্ণকাটির ইসলাম শেখ এর মেয়ে তাজমার সাথে। বিয়ের পর
তাজমাকে বাড়িতে রেখে হাফিজুর ঢাকায় একটি গার্মেন্টেসে চাকুরি
করতে চলে যায়। এর কিছুদিন পর তাজমা তাদের বাড়ী থেকে চলে গিয়ে একই
এলাকার তার দুলাভাই মৃত মেছের আলী সরদারের ছেলে রবিউল সরদারের বাড়ীতে
অবস্থান নিয়ে সেখানে থাকতে শুরু করে। এমন অবস্থায় হাফিজুর তার
চাকুরীর সমুদয় টাকা তার স্ত্রীর কাছে পাঠাতে থাকে। এক পর্যায়ে
হাফিজুর তার স্ত্রীকে ঢাকায় তার চাকুরীস্থলে নিয়ে বসবাস শুরু করে।
এসময় তার কাছে পাঠানো অর্জিত প্রায় ৪ লাখ টাকা কোথায় জানতে
চাইলে সে বলে সব টাকা তার দুলাভাই রবিউলের কাছে আছে। এক পর্যায়ে
স্ত্রী তাজমার পীড়াপিড়িতে তারা ঢাকা থেকে বাড়ীতে আসে। এর কয়েকদিন
পর স্ত্রী টাকা আনার কথা বলে একমাত্র সন্তান লামিয়াকে নিয়ে তার দুলাভাই
রবিউলের বাড়ীতে গিয়ে আর ফিরে আসেনি। এনিয়ে স্ত্রী তাজমা,তার বোন
নাজমা ও তার স্বামী রবিউলের সাথে হাফিজুরের মনোমালিন্য চলতে থাকে।
এক পর্যায়ে গত ২৪ জুলাই পাওনা টাকা দেবে বলে তারা তাকে বাড়ী থেকে
ডেকে নিয়ে যায়। ঐ রাতেই তারা তাকে ঘরের মধ্যে ফেলে শরীরের বিভিন্ন
স্থানে ব্যাপকভাবে মারপিট ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। এর পর বিষয়টি
আতœহত্যা বলে চালিয়ে দিতে তারা তার মুখে বিষ ঢেলে রাতেই ভ্যান যোগে
তালা হাসপাতালের বারান্দায় রেখে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে তার ভাই সহ অন্যান্য
স্বজনরা গিয়ে হাসপাতালের বারান্দায় হাফিজুরের লাশ দেখতে পায়। এর পর তারা
রবিউলদের বাড়িতে গেলে তাদের কাউকে খুঁজে পায়নি। ঘটনার পর বিষয়টি
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান এম মফিদুল হক লিটু,ইউপি সদস্য আতিয়ার
মোড়ল সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানিয়ে থানায় খবর দিলে পুলিশ লাশ
উদ্ধার করে সুরোতহাল রিপোর্ট শেষে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।
এর পর এনিয়ে থানায় হত্যা মামলা করতে গেলে থানা পুলিশ এক অজ্ঞাত কারণে
মামলা নেয়নি। পরে ২৭ জুলাই বাধ্য হয়ে নিহতের ভাই মনিরুল শেখ বাদী হয়ে
বিজ্ঞ ৩নং আমলী আদালত (তালা) সাতক্ষীরাতে মৃত মেছের আলী সরদারের ছেলে
দুলাভাই রবিউল সরদারকে প্রধান করে স্ত্রী তাজমা বেগম সহ ৫ জনকে
আসামী করে একটি হত্যা মামলা করে। যার নং ৯৮/১৭। ধারা ৩০২/৩৪ দন্ড
বিধি।
এলাকাবাসী ও পারিবারিক সূত্র জানায়,এনিয়ে ঘটনার দিন নিহত হাফিজুর
স্থানীয় চেয়ারম্যান এম মফিদুল হক লিটুর কাছে গিয়েছিল বিষয়টির
মিমাংসার জন্য। তবে লিটু তাকে পরের দিন সকালে মিমাংসার আশ্বাস
দিয়ে শ্বশুরালয়ে পাঠিয়ে দেয় এবং রাতেই সে নিহত হয়।
এব্যাপারে সংশ্লিষ্ট জালালপুর ইউপি চেয়ারম্যান এম মফিদুল হক লিটুর
সাথে কথা বললে তিনি ঘটনার আগের দিন বিকালে হাফিজুরের সাথে
বসাবসির বিষয়টি স্বীকার করে বলেন,ময়না তদন্তে একটি স্বাভাবিক
রিপোর্ট এসেছে। এলাকাবাসী ও পারিবারিক সূত্র জানায়,ঘটনার পর
নিহতের লাশ দাফনের আগে তার স্ত্রী তাজমা এমনকি তার একমাত্র কন্যা
লামিয়াকেও তার বাড়িতে পাঠানো হয়নি।
সর্বশেষ নিহতের স্বজনসহ এলাকাবাসীর দাবি,আসামীদের
গ্রেফতারপূর্বক জিজ্ঞাসাবাদ ও স্বাক্ষীদের স্বাক্ষ গ্রহন করলে বেরিয়ে
আসবে হত্যার প্রকৃত বিষয়টি।