তালতলী (বরগুনা) সংবাদদাতা ঃ
বরগুনার তালতলী উপজেলার বড় ভাইজোড়া গ্রামে জমি-জমা সংক্রান্ত
বিরোধের জের ধরে আবুল বাশার (৩৫) নামের এক যুবককে কুপিয়ে আহত
করেছে প্রতিপক্ষরা। গতকাল সোমবার রাত সারে ১১ টায় সময় ওই যুবক
বরিশাল শেরই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায়
মারা গেছে।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নয়াভাইজোড়া গ্রামের আব্দুল
আজিজের ছেলে আবুল বাশারের সাথে বড় ভাইজোড়া গ্রামের সাবেক
ইউপি সদস্য ছালাম হাওলাদার ও তার ভাইদের মধ্যে ১৭ একর জমি নিয়ে দীর্ঘ
দিন যাবৎ বিরোধ চলে আসছিল। এ নিয়ে স্থানীয় ভাবে বহুবার শালিস বৈঠক
হয়েছে। রবিবার সকাল নয়টার দিকে আবুল বাশার বড় ভাইজোড়া গ্রামের
তাসলিমা বেগমের বাড়ীতে ক্রয় করা গরু আনতে যায়। খবর পেয়ে সাবেক
ইউপি সদস্য ছালাম হাওলাদার ও তার ভাইয়েরা তার লোকজন নিয়ে তাসলিমার
বাড়ী ঘেরাও করে। আবুল বাশার তাদের দেখে তাসলিমার ঘরে আশ্রয় নেয়। পরে
সন্ত্রাসীরা ওই ঘর ভেঙ্গে আবুল বাশারকে ধরে তাসলিমার বাড়ীর পশ্চিম পাশে
কালভার্টের কাছে নিয়ে যায়। পরে ছালাম হাওলাদার, তার ভাই জামাল, কামাল ও
আল আমিনসহ ১০/১২ জন সন্ত্রাসী ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তার
মাথা,ডান হাত, বাম পা ভেঙ্গে দেয় এবং ডান পায়ের পাতা ও হাটু কুপিয়ে
যখম করে পানিতে ফেলে রেখে দেয়। পরে স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে প্রথমে
আমতলী হাসপাতালে আনে। ওই হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে
মূমূর্ষ অবস্থায় বরিশাল শেরই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ
করেন। ওই দিন দুপুরে তাকে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
সোমবার রাত সারে এগারটার সময় চিকিৎসাধীন অবস্থায় আবুল বাশার ওই
হাসপাতালে মারা যায়। মঙ্গলবার দুপুরে লাশের ময়না তদন্ত শেষে পরিবারের
কাছে হস্তান্তর করেছে। এ ঘটনায় পুলিশ ছালাম হাওলাদারের চাচাতো ভাই
সোহরাফ হাওলাদার ও ভাইয়ের জামাতা এমদাদুলকে আটক করেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী তাসলিমা বেগম বলেন, আবুল বাশার রবিবার সকালে আমার
বাড়ীতে গরু নিতে আসে। এ খবর পেয়ে ছালাম হাওলাদার তার ভাই কালাম,
জামাল ও আল আমিনসহ ১০/১২ জন লোক এসে আবুল বাশারকে আমার ঘরে
আটকে রাখে। পরে তারা ঘরের দরজা ভেঙ্গে আবুল বাশারকে চল মেরে ধরে বাড়ীর
পশ্চিম পাশে কালভার্টের কাছে নিয়ে যায়। ওইখানে নিয়ে ধারালো অস্ত্র
দিয়ে কুপিয়ে পানিতে ফেলে দেয়।
তালতলী থানার ওসি কমলেশ চন্দ্র হালদার বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি।
সোহরাফ হাওলাদার ও এমদাদুল নামের দু’জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক
করা হয়েছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মামলার প্রস্তুতি চলছে।