সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:১৭ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
দেশে কোনো পশু সংকট নেই – সাভারে মন্ত্রী আমিন উর রশিদ সাভার ও আশুলিয়ায় অপরিকল্পিত বাসা বাড়িতে বসবাসে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন জনগণ প্রাণিসম্পদ খাতকে সমৃদ্ধ করতে সরকার-বেসরকারি উদ্যোগ প্রয়োজন – মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী   কুমিল্লার নাগরিক সেবায় নতুন অধ্যায়: গঠিত হচ্ছে ওয়াসা ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নিচে ছোট পাইপ স্থাপনের অভিযোগ আশুলিয়ার জামগড়া ইস্টার্ন হাউজিং বাজারে জলাবদ্ধতায় ব্যবসা-বাণিজ্য স্থবির, ব্যবসায়ীদের প্রতিবাদ গৃহবধূ হত্যা মামলার আসামি র‍্যাবের হাতে গ্রেফতার! আশুলিয়ার বাইপাইল- ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট, চরম দুর্ভোগে জনসাধারণ আশুলিয়ায় কিশোর গ্যাং কতৃক অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র অপহরণের পর হত্যা: ২০ মাস পর লাশ উত্তোলন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সৌদি রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

মুন্সীগঞ্জে পদ্মা-মেঘনার ভয়াবহ নদী ভাঙ্গনে নদীগর্ভে বিলীন শত শত বসতবাড়ি সহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

বাংলার প্রতিদিন ডেস্ক ::
  • আপডেট সময় সোমবার, ২৪ জুলাই, ২০১৭
  • ২১২ বার পড়া হয়েছে

 

শুভ ঘোষ, মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি: পদ্মা-
মেঘনার নদী ভাঙ্গানে এক সপ্তাহের ব্যবধানে
মুন্সীগঞ্জের তিনটি উপজেলায় পদ্মা ও মেঘনার
তীরবর্তী দেড় শতাধিক ঘরবাড়ি নদীতে বিলীন
হয়ে গেছে। লৌহজং ও টঙ্গিবাড়ীতে পদ্মার
ভাঙনে ১১০ বসতবাড়ি ও মেঘনার ভাঙনে
গজারিয়ার অর্ধশতাধিক ঘরবাড়ি সহ বিস্তীর্ন
ফসলি জমি নদীতে বিলীন হয়ে যায়। এ অবস্থায়
ভাঙন আতঙ্কে নদী তীরবর্তী শতাধিক ঘরবাড়ি
ভেঙ্গে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে
গ্রামবাসী। বর্তমানে তিনটি উপজেলায় স্কুল,
মসজিদ, মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন স্থাপনা ভাঙনের
মুখে রয়েছে। যে কোনো সময় এসব স্থাপনা
নদীতে বিলীন হয়ে যাবে বলে গ্রামবাসীরা
জানান। পদ্মা ও মেঘনায় পানি বৃদ্ধির ফলে
প্রচন্ড ঘূর্ণায়মান ¯্রােতের সঙ্গে বড় বড় ঢেউ
আছড়ে পড়ায় ভাঙনের তীব্রতা বেড়েছে বলে
সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানদের সঙ্গে কথা বলে

জানা যায়। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে,
টঙ্গিবাড়ী উপজেলার কামারখাড়া ইউনিয়নের
বড়াইল, চৌসার, বাগবাড়ি ও জুসিষার গ্রামের
৬০টি বসতবাড়ি এক সপ্তাহের ব্যবধানে পদ্মায়
বিলীন হয়ে গেছে। নদীতীরবর্তী হাসাইল-
বানারী ও পাঁচগাঁও ইউনিয়নের অনেক গ্রামে
ভাঙ্গন আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্থ চৌসার গ্রামের হাসান
মিয়া জানান, চলতি মৌসুম নিয়ে এ পর্যন্ত
চার দফা পদ্মার ভাঙনের কবলে পড়েন তারা। ভাঙন
থেকে বাঁচতে নিরাপদ স্থানে আশ্রয়
নিয়েছেন। তাদের মতো বড়াইল গ্রামের সাত
শতাধিক নদীতীরবর্তী মানুষ নিরাপদ স্থানে চলে
গেছে।
কামারখাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন
হালদার জানান, পদ্মাতীরবর্তী পাঁচটি গ্রামে
ভয়াবহ নদী ভাঙ্গন চলছে। ক্ষতিগ্রস্থ ৬০টি
পরিবারের তালিকা উপজেলা প্রশাসনের কাছে
জমা দেওয়া হয়েছে। টঙ্গিবাড়ী উপজেলা
নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শহীদুল হক
পাটোয়ারি জানান, ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্থদের
সহযোগিতা করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে
উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
টঙ্গিবাড়ীর মতো একই অবস্থা বিরাজ করছে
লৌহজংয়ের গাঁওদিয়া, কুমারভোগ ইউপির

শিমুলিয়া বাজার, খড়িয়া গ্রাম, মেদিনীমন্ডল
ইউনিয়নের কান্দিপাড়া যশলদিয়া গ্রাম, মাওয়া
পুরাতন ফেরিঘাটসহ পদ্মাতীরবর্তী
গ্রামগুলোতে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে কমপক্ষে
অর্ধশতাধিক ঘরবাড়ি পদ্মায় বিলীন হয়ে
গেছে। এখনও ভাঙন অব্যাহত থাকায়
নদীতীরবর্তী একাধিক পরিবার তাদের বসতবাড়ি
ভেঙ্গে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাচ্ছে। পদ্মার ভাঙন
অব্যাহত থাকায় বর্তমানে লৌহজং উপজেলার
ছয়টি গ্রামের দুটি বাজার, একাধিক
মসজিদ, মাদ্রাসা, বিদ্যালয়, ইউনিয়ন পরিষদসহ
বিভিন্ন স্থাপনা ভাঙনের কবলে রয়েছে। এমনকি
লৌহজং-বেজগাঁও-গাঁওদিয়া বেরিবাঁধটি
পদ্মার ¯্রােতের তীব্রতায় যে কোনো সময় ভেঙে
যাওয়ার আশঙ্কা করছে গ্রামবাসী।
ক্ষতিগ্রস্থদের অভিযোগ, চলতি মাসের শুরু
থেকে ভাঙন দেখা দেওয়ার পর স্থানীয় এমপি,
প্রশাসনের কর্মকর্তারা পরিদর্শন করে গেলেও
এখনও ভাঙন প্রতিরোধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া
হয়নি। লৌহজংয়ের ইউএনও মো. মনির হোসেন
জানান, ক্ষতিগ্রস্থদের জন্য ত্রাণের টাকা এবং চাল
বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গাঁওদিয়া
এলাকায় বালু ভর্তি জিও ব্যাগ ফেলার উদ্যোগ
নিচ্ছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। পানি উন্নয়ন
বোর্ডের ঢাকা বিভাগীয় প্রকৌশলী মো.

আউয়াল মিয়া জানান, ভাঙন প্রতিরোধে তিন
কোটি টাকার বরাদ্দ চেয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে
আবেদন করা হয়েছে। বর্তমানে পদ্মায় প্রচন্ড
¯্রােত থাকায় বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলা হলেও
তা মুহূর্তেই পদ্মার তলদেশে হারিয়ে যাবে। তাই
ভাঙন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রেখে
সময়োপযোগী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

অপর দিকে জেলায় গজারিয়া উপজেলার হোসেন্দী
ইউনিয়নের পাঁচটি গ্রামে এক সপ্তাহের
ব্যবধানে ৪০ থেকে ৪৫টি ঘরবাড়ি সহ
বিস্তীর্ণ ফসলি জমি মেঘনায় বিলীন হয়ে
গেছে। বর্তমানে ইস্মানিরচর, নয়ানগর,
গায়ালগাঁও, হোসেন্দী ও চরবলাকী গ্রামে
চলছে মেঘনার ভাঙ্গনের তান্ডব। তাই ক্ষতিগ্রস্থ
গ্রামবাসী নিজ উদ্যোগে বালুর বস্তা ফেলে,
বাঁশের খুঁটি দিয়ে ভাঙন প্রতিরোধের চেষ্টা
চালিয়ে যাচ্ছেন। ভাঙ্গনের মুখে রয়েছে পাঁচটি
গ্রামের স্কুল, মসজিদ, মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন
স্থাপনা এবং বিস্তীর্ণ ফসলি জমি। গজারিয়া
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে,
হোসেন্দী ইউনিয়নের মেঘনাতীরবর্তী
গ্রামগুলোতে ভাঙ্গন শুরু হওয়ার খবর পেয়ে
ক্ষতিগ্রস্থদের তালিকা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া

হয়েছে। পাশাপাশি পানি উন্নয়ন বোর্ডকে
অবহিত করা হয়েছে।


প্রিন্ট

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © banglarprotidin.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themebazarbanglaro4451