মোঃ আশিকুর রহমান টুটুল, নাটোর জেলা প্রতিনিধি,
শুরু হয়েছে বর্ষা মৌসুম তাই তো নাটোরের লালপুর উপজেলার কৃষক কুল
রোপা আমন ধানের বীজতলা তৈরীতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। বাংলাদেশের
মানচিত্রে উচু ও কম বৃষ্টিপাতের এলাকা হিসেবে পরিচত হওয়ায় লালপুর
উপজেলার মানুষের এক মাত্র ভরসা এই বর্ষা মৌসুমের রোপ আমন ধান। এই
অঞ্চলের বেশির ভাগ কৃষকি বৃষ্টির উপর নির্ভরশীল। চলতি মৌসুমে আষাঢ়ের
শুরুতেই আশানুরূপ বৃষ্টিপাত হওয়ায় উপজেলার প্রায় কৃষকই রোপা আমন
ধানের বীজতলা তৈরীতে ব্যস্থ হয়ে পরেছেন।
আধুনিক ও যন্ত্রের যুগে প্রয়োজনের তাগিতে বীজতলা তৈরীর কাজে
উপজেলার কোন কোন এলাকার কৃষকরা ব্যবহার করছে গুরুর নাঙ্গল। এছাড়া
বেশির ভাগ কৃষকই আধুনিক পদ্ধতিতে রোপ আমন ধানের বীজতলা তৈরী
করছে।
উপজেলা কৃষি অফিস তথ্য মতে জানাগেছে, এবছর লালপুর উপজেলায় প্রায়
৬৫০০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধানের চাষ হতে পারে তার জন্য উপজেলায়
প্রায় ৩০০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধানের বীজতলার জন্য নির্ধারন করা
হয়েছে।এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত উপজেলায় প্রায় ২০০ হেক্টর জমি রোপা
আমন ধানের বীজতলা আর্জিত হয়েছে। জানাগেছে, উপজেলা চৈতালী
আবাদ কাটার পরে প্রায় জমিতেই চাষকৃত মুগকালাই, তিল, ভুট্টা
উত্তোলনের পরেই জমিতে রোপা আমন ধানের চারা রোপন করবেন। তাই
অনেকেই অনেক টা দেরি করেই বীজতলা তৈরীর কাজ হাতে নিয়েছেন। তবে
চলতি রোপা আমন মৌসুমে বেশির ভাগ কৃষকি ঝুকছে উচ্চ ফলনশীল
হাইব্রিট জাতের ধান বীজের দিকে। তার মধ্যে ধানি গোল্ড, সম্পদ, ব্রি-ধান-
২৯,১১,৫২,৩৪,৩৯,বিনা-৭, মিনিকেট, উল্লেখযোগ্য।
এব্যাপারে ওয়ালিয়ার রোপা আমন ধান চাষী সোহেল রানা, হাবিবুর রহমান,
মোস্তফা, রবিউল ইসলাম, মোস্তফা কাউছার, লিয়াকত, সাহাবুল ইসলাম বলেন
আমাদের লালপুর উপজেলার কৃষকের এক মাত্র ভরসা বর্ষা মৌসুমের রোপা আমন
ধান যা স¤পূর্ণটাই নির্ভর করে বৃষ্টির উপরে। এবছর বর্ষার শুরুতেই
আশানুরপ বৃষ্টি হওয়ায় মৌসুমের শুরু থেকেই অনেক টা উৎসবের সহিত শুরু
করেছি রোপা আমন ধানের বীজতলা তৈরী আর ২০-২৫ দিনের মধ্যে মাঠে মাঠে
শুরু হবে ধান লাগানো কাজ। এবছর যদি ঠিকমোত বৃষ্টিপাত হয় আর
আবহাওয়া অনুকুলে থাকে তাহলে আশা করছি রোপা আমন ধানের বাম্পার ফল
হবে।
এব্যাপারে উপজেলা কৃষি অফিসার হাবিবুল ইসলাম খাঁন বলেন, উপজেলা
প্রায় ৬৫০০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধানের চাষ হবে তার জন্য ইতি মধ্যে
প্রায় ২০০ হেক্টর জমিতে বোর ধানের বীজতলা আর্জিত হয়েছে। বছরের
শুরুতেই বৃষ্টির দেখা পাওয়ায় এই উপজেলার কৃষকেরা লক্ষমাত্রার অধিক হারে
রোপা আমন ধানের চাষ হবে। তবে গত কয়েক দিনের টানা বর্ষনে উপজেলার
কিছু সংখ্যক জমির বীজতলা ডুবে গেছে। যা দুএকদিনের মধ্যে
বৃষ্টিরপানি নেমে গেলেই আবার সাবেক হয়ে যাবে। এতে বীজতলার তেমন
কোন ক্ষতি হবেনা।