মাসুদ হোসেন : জাতীয় পুরষ্কার প্রাপ্ত জনপ্রিয় কন্ঠ শিল্পী সঙ্গীতের যুবরাজ আসিফ আকবর ১০ জুলাই, ১৯৯২ এর এই দিনে মাত্র উনিশ বছর বয়সে ভালবেসে (বাল্য বিয়ের মাধ্যমে) একে অপরের হাত ধরেছিলেন, এক সাথে পুরো জীবন কাটিয়ে দেবার জন্য! বিবাহ পরবর্তী সময় ২৫ বছর হলেও তার আগে হৃদয়ের লেনা দেনা জনিত ইনভেস্ট ছিল আরও প্রায় তিন বছর ! সব মিলে এই দীর্ঘ সময়ে অনেক কঠিন পথ পাড়ি দিয়েছেন কন্ঠশিল্পী আসিফ আকবর ও সালমা আসিফ মিতু। তাদের এই ২৫ বছরের বিবাহ বার্ষিকী রজত জয়ন্তী পালিত উপলক্ষে স্ত্রী বেগম সালমা আসিফ তার ব্যাক্তিগত ফেসবুক আইডিতে উল্ল্যেখ করে বলেন-
“সামাজিক জীবনের নারী-পুরুষের বৈধ সম্পর্কের নাম। যাতে স্বামী-স্ত্রীতে পারিবারিক জীবন যাত্রা করে। যা পর্যায়ক্রমে পরিবার বড় হতে থাকে-স্বামী-স্ত্রী,পিতা-মাতা,ছেলে-মেয়ে। সেখানে সবাই একসময় যৌথ কিংবা একক পরিবার গড়ে তোলে এবং তার দায়িত্ব নিয়ে বসত গড়ে –এই প্রকৃতির নিয়ম। তাতে সময়ে সময়ে ভাল-মন্ধ,ঝগড়া-বিবাদের পরিবেশের সৃষ্টি হয়ে । যা থেকে বড় ছোট সবাই নিজের জীবনের শিক্ষা গ্রহন করে বেড়ায়। আমাদের পুরুষশাসিত সমাজে নারীর কোন সহজ মূলায়ন নেই বলেই চলে। থাকবে কি করে ! এই পুরুষরাই যে একে অপরকে ছোট করে। বলে থাকেন এই যে তুমি/তুই বউয়ের কথা শুনে বেড়াও তবে তো এই……তবে সেই… কত না ভাষা। আসল কথা -পুরুষ ছাড়া নারীরা যেমন অচল,নারী ছাড়া পুরুষরাও অচল। মহান সৃষ্টিকর্তাই এই ভাবে তৈরী করেছেন । তাহলে আমরা কেনইবা আমরা আমিই আমিই করে বেড়াই।
দিন যায়,মাস যায়,বছর যায় ঘুরে ফিরে আমার একেকটি বছর পার হয়ে যায় । আমাদের চলা সেই ৮২ থেকে । আমাকে তিনি জানেন ,চেনেন শুধু বাকী বুঝতে । চেনা জানাটা স্বাভাবিক খেলার মাঠের একমাত্র মেয়ে দর্শক বলে কথা । সবারই প্রায় আদর–ভালবাসার পাত্রি। আর সেই জানা- বোঝাটা হল- ০০/০১/১৯৯০। কত কিছুই না সাজিয়ে রেখেছিলেন ,বলবে কি বলবে না ,কিভাবে বলবেন –আর কত কিই না । যাক, কিছুটা সহজ স্বীকারটি ভাষায়-হোক সে এলোমেলো প্রকাশ যে করে দিলাম ভবিষ্যৎ না বুঝে। কিছু বিক্ষিপ্ত ঘটনার জন্মের কারনেরই ৩মাস কারা দিবসের মূল ঘটনায় মোর নিল ০৭/০৭/১৯৯২ । সারা রাত যুদ্ধের পর ০৮/০৭/১৯৯২ বিকাল ৫টায় বেড়িয়ে গেলাম উদ্দেশ্যবিহীন পথে। অজানা ভবিষ্যৎ,অজানা পরিস্থিতি,তখনকার বয়স-সময় অনুযায়ী যা ভাল মনে হয়েছে তাই করেছি । ৮তারিখ থেকে ১০ তারিখ রাত ১০অব্দি কত কি যে হলো আর নাই বলি । তবে হ্যাঁ , কাছে দূরের সবাই কম বেশী সেই রাতে পর থেকে গায়ক আসিফ আকবর পর্যন্ত অনেকেই জানেন ,আর সঙ্গীত শিল্পী আসিফ আকবর এর সব কিছু সবার দেখা ও জানা। অজানা বলতে কিছুই নেই । ধন্যবাদ আমার সেই আসিফকে পরিস্থিতি সামলে নেয়া ও আমাকে সুন্দর পরিবারে সদস্য করার জন্যে। এখনকার এই আসিফ শুধু আমার না এই আসিফ সারা বাংলাদেশীদের ।
আমাদের এত দিনের জীবনের খুব একটা খারাপ সময় আসেনি । যা এসেছে সামলে নেয়ার মত আল্লাহ সাহায্যও করেছেন,গত ৩/৪ বছরের কিছু বিষাক্ত মানুষ/বিষয় নিয়ম ভাঙ্গার চেষ্টায় মশগুল। সৃষ্টিকর্তাই আগের মত সাহায্য করবেন আর যদি সময় নীতি ভঙ্গ করে তবে তা হবে স্বাদবিহীন ,গন্ধবিহীন,মায়া মমতা বিহী্ন, ভালবাসা –আনন্দ বিহীন । সবই স্বয়ং সৃষ্টিকর্তা বুঝে নিবেন । আমার দিক থেকে এ পর্যন্ত আমি ব্যক্তি হিসেবে কারো সাথে কোন প্রকার অসচেতনতা, অন্যায়,অপরাধের সাথে জরিত নই। যাহা করিব ভালই করিব এই লক্ষেই বিদ্ধমান। সব সিদ্ধান্তই সময়ের। সময়কে আমি অনেক ভালবাসি। কেননা সৃষ্টিকর্তা আমাকে কখনই ঠকান নি , যা চেয়েছি তাই পেয়েছি । যেটা খারাপ সেটা নিশ্চয় কোন অবচেতন মনে চেয়েছি তাই পেয়েছি । এক সাথে আছি ২৫বছর। কেউ ভাল বলুক আর না ই বলুক, কেউ ভালবাসুক আর না ই ভালবাসুক থাকতে চাই আমৃত্যু।
দুঃখ গুলো হোক শুধু,শুধুই আমার,একান্ত আমার । কোন কষ্ট যেন তোমায় না স্পর্স করে ,করে শুধুই আমায়। আর পৃথিবী সমস্ত আনন্দ,সুখ,ভালবাসা হোক শুধুই তোমার আসিফ, শুধুই তোমার । আনন্দঘন মূহুর্তে ভরে থাকুক তোমার একান্ত তোমার সময়। মিতু শুধু তোমারই শুধু তোমারই।