বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ০৮:১২ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
দেশে কোনো পশু সংকট নেই – সাভারে মন্ত্রী আমিন উর রশিদ সাভার ও আশুলিয়ায় অপরিকল্পিত বাসা বাড়িতে বসবাসে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন জনগণ প্রাণিসম্পদ খাতকে সমৃদ্ধ করতে সরকার-বেসরকারি উদ্যোগ প্রয়োজন – মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী   কুমিল্লার নাগরিক সেবায় নতুন অধ্যায়: গঠিত হচ্ছে ওয়াসা ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নিচে ছোট পাইপ স্থাপনের অভিযোগ আশুলিয়ার জামগড়া ইস্টার্ন হাউজিং বাজারে জলাবদ্ধতায় ব্যবসা-বাণিজ্য স্থবির, ব্যবসায়ীদের প্রতিবাদ গৃহবধূ হত্যা মামলার আসামি র‍্যাবের হাতে গ্রেফতার! আশুলিয়ার বাইপাইল- ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট, চরম দুর্ভোগে জনসাধারণ আশুলিয়ায় কিশোর গ্যাং কতৃক অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র অপহরণের পর হত্যা: ২০ মাস পর লাশ উত্তোলন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সৌদি রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

জলাবদ্ধতায় পাঠদানে ব্যাহত গুরুদাসপুরের রানীগ্রাম-১ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

বাংলার প্রতিদিন ডেস্ক ::
  • আপডেট সময় রবিবার, ৯ জুলাই, ২০১৭
  • ৩২৩ বার পড়া হয়েছে
????????????????????????????????????

মো. আখলাকুজ্জামান, গুরুদাসপুর প্রতিনিধি:
বৃষ্টি হলেই বিদ্যালয় ক্যাম্পাসে জমে হাঁটুজল। পরে তা ছড়িয়ে পড়ে তিনটি ভবনের কক্ষে। তখন নিয়মিত পাঠদানসহ বন্ধ হয়ে যায় ছাত্রছাত্রীদের অ্যাসেম্বলি ও খেলাধুলা। গত তিনদিনের বৃষ্টিতে স্থায়ী জলাবদ্ধতায় ওই রূপ নিয়েছে বিদ্যালয়টিতে। নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার রানীগ্রাম-১ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চিত্র এটি।
বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানান, বিদ্যালয়ের মাঠটি অপেক্ষাকৃত অনেক নিচুতে তাই বৃষ্টি হলেই মাঠে পানি জমি যায়। পানি নিষ্কাশনের নালাও নেই। একারনে বছরের পর বছর ধরে জলাবদ্ধতার কবলে পড়েছে বিদ্যালয়টি।
এ কারনে বর্ষাকালীন তিন থেকে চার মাস স্বাভাবিক পাঠদান ব্যাহত হয় বিদ্যালয়টিতে। সেই সাথে অ্যাসেম্বলি ও খেলাধুলা। বিষয়টি নিয়ে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি (এসএমসি)’র সদস্যবৃন্দ মশিন্দা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানিয়েও স্থায়ী সমাধান হয়নি।
এদিকে গত শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টির পানিতে বিদ্যালয়ের মাঠ ও তিনটি ভবনের কক্ষে পানি জমেছে। কোমলমতি শিক্ষার্থীরা ঝুঁকি নিয়ে বিদ্যালয়ে এসে প্রথম সাময়িকী পরীক্ষা দিচ্ছে। তিন কক্ষের অপেক্ষাকৃত উঁচু একটি ভবনে গাদাগাদি করে নেওয়া হচ্ছে তাদের পরীক্ষা । বিদ্যালয়ের অন্য তিনটি ভবনে পানি জমে থাকায় আসবাবপত্র, আলমারী ও চেয়ার বেঞ্চ নষ্ট হচ্ছে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্রগুলো রশি দিয়ে বেঁধে আলমারীর ওপরে রাখা হয়েছে বলে জানালেন প্রধান শিক্ষক মো. জাহিদুল ইসলাম।
প্রধান শিক্ষক আরো জানান, ১৯৫২ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টি কাছিকাটা বাজারের মাঝে অবস্থিত। বিদ্যালয়ের সামনে দিয়ে একটি পাকা সড়ক ‘কাছিকাটা-চাটমোহর সড়ক’ রয়েছে। প্রায় ১০ বছর আগে বিদ্যালয়ে জমে থাকা পানি নিষ্কাশনের জন্য একটি নালা নির্মানসসয করা হয়েছিল। মাঠটিতে মাটি ভরাট করায় সেই নালাটি বন্ধ হয়ে গেছে। তাছাড়া সড়ক ও বাজারটি উঁচু হওয়ার কারনে বৃষ্টির পানি এসে জমে বিদ্যালয় মাঠে। ফলে বিদ্যালয়ের প্রায় সাড়ে তিনশত ছাত্রছাত্রীর পাঠদান বিঘিœত হচ্ছে। বর্ষাকালীন ৩-৪ মাস বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের উপস্থিতি কম থাকে। এছাড়া টয়লেটগুলো পানিতে ডুবে যাওয়ায় পরিবেশ বিষিয়ে উঠেছে।
আসমানী, কবিতা ও মায়শা নামে কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, মাঠে ও শ্রেণিকক্ষে পানি জমে থাকার কারনে তারা খেলাধুলা ও অ্যাসেম্বলি করতে পারছে না। গাদাগাদি করে তিনটি কক্ষে তাদের পাঠদান করতে হচ্ছে। অসর্তকতায় মাঠে জমে থাকা পানিতে পড়ে গিয়ে পোষাক ও বইখাতা ভিজে যায় শিক্ষার্থীদের। আবার পানি শুকিয়ে গেলেও মাঠ ও শ্রেণি কক্ষগুলো কাদা পানিতে শ্যাঁতসেঁতে হয়ে থাকে।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির (এসএমসি) সভাপতি বিশ্বনাথ পাল জানান, জলাবদ্ধতার কারনে শিক্ষার্থীরা অতিকষ্টে পড়ালেখা করছে। শিক্ষকদেরও পোহাতে হচ্ছে দুর্ভোগ। জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান না হলে শিক্ষা ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়তে পারে যে কোন মূহূর্তে।
মশিন্দা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান প্রভাষক মোস্তাফিজুর রহমান সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন,পরিষদের পক্ষ থেকে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো.রফিকুল ইসলাম সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বর্ষা এলেই বিদ্যালয়টিতে এমন পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হয়। বরাদ্দ না থাকায় বাস্তবভিত্তিক পদক্ষেপ নিতে পারছেননা তিনি।
উপজেলা নির্বার্হী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মনির হোসেন গতকাল দুপুরে জানান, বিদ্যালয়টির এমন দুর্দশা প্রত্যক্ষ করতে বৃষ্টি উপেক্ষা করে বিদ্যালয়টিতে যান তিনি। বিদ্যালয়ের মাঠে ও তিনটি ভবনের কক্ষে পানি জমে থাকা ও গাদাগাদি করে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় অংশ গ্রহন করার বিষয়টি ব্যথিত করেছে তাঁকে। এটা দুঃখজনক। স্থানীয় উইপি চেয়ারম্যান ও বাসিন্দাদের উদ্দেশ্যে ইউএনও বলেন, ‘ কোমলমতি এসব শিশু শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগের কথা’ তাঁদের ভাবা উচিত ছিল। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পানিনিস্কাশনের স্থায়ী উদ্যোগ নিবেন তিনি।


প্রিন্ট

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © banglarprotidin.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themebazarbanglaro4451