সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১২:২৩ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
দেশে কোনো পশু সংকট নেই – সাভারে মন্ত্রী আমিন উর রশিদ সাভার ও আশুলিয়ায় অপরিকল্পিত বাসা বাড়িতে বসবাসে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন জনগণ প্রাণিসম্পদ খাতকে সমৃদ্ধ করতে সরকার-বেসরকারি উদ্যোগ প্রয়োজন – মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী   কুমিল্লার নাগরিক সেবায় নতুন অধ্যায়: গঠিত হচ্ছে ওয়াসা ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নিচে ছোট পাইপ স্থাপনের অভিযোগ আশুলিয়ার জামগড়া ইস্টার্ন হাউজিং বাজারে জলাবদ্ধতায় ব্যবসা-বাণিজ্য স্থবির, ব্যবসায়ীদের প্রতিবাদ গৃহবধূ হত্যা মামলার আসামি র‍্যাবের হাতে গ্রেফতার! আশুলিয়ার বাইপাইল- ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট, চরম দুর্ভোগে জনসাধারণ আশুলিয়ায় কিশোর গ্যাং কতৃক অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র অপহরণের পর হত্যা: ২০ মাস পর লাশ উত্তোলন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সৌদি রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

তিনশ’ বছরের একটি ঐতিহাসিক শিমুল গাছের কাহিনী

বাংলার প্রতিদিন ডেস্ক ::
  • আপডেট সময় রবিবার, ৯ জুলাই, ২০১৭
  • ৩২৫ বার পড়া হয়েছে

মো. আখলাকুজ্জামান, গুরুদাসপুর প্রতিনিধি.
নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার খুবজীপুর ইউনিয়নের শ্রীপুর বাজারের পূর্বপার্শ্বে অবস্থিত তিনশ’ বছর বয়সের বর্ষিয়ান ঐতিহাসিক শিমুল গাছটি বয়সের ভাড়ে নুয়ে পড়েছে। অন্যান্য শিমুল গাছের তুলনায় এ গাছটির অবয়ব গঠিত হয়েছে এক আশ্চর্য আঙ্গিকে। গাছটির শেকর মাটির তলায় কতটুকু রয়েছে তা না জানা গেলেও মাটির উপরে রয়েছে ৬ টি কক্ষ আকৃতির শেকর।
সরেজমিন গিয়ে জানা যায়, নব্বই দশকে ওই শিমুল গাছটিকে প্রয়াত অধ্যক্ষ সরদার আব্দুল হামিদ ঐতিহাসিক রুপ দেন। পরে আফাজ নামের এক মারফত গুরু ওই শিমুল গাছটিকে দেখভাল করতেন। তিনি সেখানে ভক্তবৃন্দদের নিয়ে বছরের দুটো দিন (মাহে রমজানের প্রথম দিন আর আশ্বিনের এগারো তারিখে) ওরস মোবারক পালন করতেন। ওরসের নামে সেখানে বসতো ভক্তবৃন্দের মিলন মেলা। বর্ষিয়ান শিমুল গাছটি রেখে আফাজ উদ্দিনের জাগতিক পর্দার সমাপ্তি নেমে আসে প্রায় ২২ বছর আগে। সেকালেই অধ্যক্ষ আব্দুল হামিদের জীবনকাল শেষ হয়ে যায়। তারপর ওই এলাকার শিক্ষাবিদ ও সমাজসেবীরা শিমুল গাছটিকে ইতিহাসের রাস্তা করে দেয়। আফাজ গুরুর সমাপ্তি হলেও তার সেবাদাসী গৈরবজান এখনও বেঁচে আছেন।
শতবর্ষীয় গৈরবজান জানান, শিমুল গাছটির বয়স তিনশ’ বছরের কম হবেনা। আফাজ গুরুর স্ত্রী পিয়ারজান চার মাস আগে কবরবাসী হয়। এরপর শিমুল গাছটির পাশে নির্মিত আফাজ গুরুর মাজারটি দেখভালের দায়িত্ব পড়ে সেবাদাসী গৈরবজানের ওপর। গৈরবজান তার মেয়ে সুফিয়া বেগমকে সঙ্গে নিয়ে আফাজ গুরুর মাজার পরিচর্চার পাশাপাশি ওই ঐতিহাসিক শিমুল গাছটি দেখভাল করেন। তাদের সহযোগিতা করে পাশের বাড়ির গৃহবধু তিন সন্তানের জননী রেজেনা বেগম। আগের নিয়মেই প্রতিবছর নির্ধারিত দুটো দিন ওরস মোবারক পালিত হয় ওই শিমুল গাছের নিচে। স্থানীয় ও বহিরাগত ভক্তদের আনাগোনায় মুখরিত হয়ে থাকে শিমুল গাছের ছায়াতল আর আফাজ গুরুর মাজারটি। বর্তমানে সেখানে বহিরাগত ভক্তবৃন্দের নৈমিত্তিক সেবাদান করেন ওই এলাকারই এক মোক্ষম সাধক মো. আফাজ উদ্দিন।
সাধক আফাজ উদ্দিন জানান, প্রায় তিনশতক সরকারি জমির ওপর গড়ে উঠে ওই ঐতিহাসিক শিমুল গাছ ও মাজারের আস্তানা। এই সৃষ্টিকে কেন্দ্র করে আশিড় দশকে সেখানে গড়ে ওঠে মারফত লাইন ভক্তদের আস্তানা। অস্তিত্ব হাড়াতে বসা ওই শিমুল গাছটির তারুণ্যের বাহক রক্তলাল শিমুল ফুলের বাসন্তিক আগমনও হারিয়ে গেছে। তবে মাঝে মধ্যে বহিরাগত ভক্তবৃন্দের পদভাড়ে মুখরিত হয় শিমুল গাছটির ছায়াতল।
কিন্তু বিষ্ময়ের ব্যাপার, বর্ষিয়ান শিমুল গাছটি জীবনের শেষ বেলায় দাঁড়িয়ে অযতœ অবহেলায় এখন সিক্ত হয়ে গেছে। কারো কোন মাথাব্যাথা নাই ওই ঐতিহাসিক শিমুল গাছটি নিয়ে। ওই শিমুল গাছের তারুণ্যের হাওয়ায় তার অতৃপ্ত বাসনাকে যে পরিপূর্ণ করা সম্ভব। এ চিন্তা চেতনা নেই কারো মন মগজে। তবে ওই শিমুল গাছটি রক্ষানাবেক্ষণের ব্যাপারে গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নাটোর ডিসি অফিসার বরাবর একটি লিখিত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। #

 


প্রিন্ট

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © banglarprotidin.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themebazarbanglaro4451