মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ০৮:৪৩ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
দেশে কোনো পশু সংকট নেই – সাভারে মন্ত্রী আমিন উর রশিদ সাভার ও আশুলিয়ায় অপরিকল্পিত বাসা বাড়িতে বসবাসে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন জনগণ প্রাণিসম্পদ খাতকে সমৃদ্ধ করতে সরকার-বেসরকারি উদ্যোগ প্রয়োজন – মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী   কুমিল্লার নাগরিক সেবায় নতুন অধ্যায়: গঠিত হচ্ছে ওয়াসা ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নিচে ছোট পাইপ স্থাপনের অভিযোগ আশুলিয়ার জামগড়া ইস্টার্ন হাউজিং বাজারে জলাবদ্ধতায় ব্যবসা-বাণিজ্য স্থবির, ব্যবসায়ীদের প্রতিবাদ গৃহবধূ হত্যা মামলার আসামি র‍্যাবের হাতে গ্রেফতার! আশুলিয়ার বাইপাইল- ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট, চরম দুর্ভোগে জনসাধারণ আশুলিয়ায় কিশোর গ্যাং কতৃক অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র অপহরণের পর হত্যা: ২০ মাস পর লাশ উত্তোলন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সৌদি রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

মিরসরাইয়ে পুলিশের সোর্স পরিচয়ে চাঁদাবাজি, অতিষ্ট জনগণ

বাংলার প্রতিদিন ডেস্ক ::
  • আপডেট সময় বুধবার, ৩১ মে, ২০১৭
  • ৪৫০ বার পড়া হয়েছে

 

এম আনোয়ার হোসেন, মিরসরাইঃ

মিরসরাই উপজেলার ১১ নম্বর মঘাদিয়া ইউনিয়নের উপকূলীয়

এলাকায় পুলিশের সোর্স পরিচয়ে প্রায় প্রতিদিন ব্যাপক

চাঁদবাজির অভিযোগ উঠেছে। ভূক্তভোগীদের অভিযোগ, সন্ধ্যা

নামার সাথে সাথে সিভিল ড্রেসের পুলিশের সাথেই উপকূলীয়

এলাকার বাজার বদিউল্লাহ পাড়ায় আসে পুলিশের সোর্স।

উপকূলীয় এলাকার খেটে খাওয়া মানুষ সন্ধ্যার পরপরই

নিত্যপ্রয়োজনীয় কেনাকাটার জন্য বাজারে আসার সময় এবং

বাজার শেষে বাড়িতে যাওয়ার সময় প্রথমে পুলিশের সোর্স পরিচয়

দিয়ে প্রায় প্রতিদিন কাউকে না কাউকে আটক করা হয়। পরে তার

দেহ তল্লাশীর সময় কৌশলে তার পকেটে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়

বিভিন্ন মাদকদ্রব্য ইয়াব ও গাঁজা ইত্যাদি। পরে তার কাছে

মাদকদ্রব্য পাওয়া গেছে দাবি করা হয় মোটা অংকের টাকা।

এলাকাবাসীর অভিযোগ কখনোই আটককৃতদের থানায় নেওয়া

হয়না, তাদেরকে বিভিন্ন অংকের টাকার বিনিময়ে কিছুক্ষণ পর

ছেড়ে দেওয়া হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এই টাকা নেওয়ার দরকষাকষির

দায়িত্ব পালন করে মিরসরাই থানা পুলিশের সোর্স রাজু ওরফে

কালাইয়্যা।

সম্প্রতি এক ভূক্তভোগী মঘাদিয়া ইউনিয়নের বদিউল্লাপাড়া

গ্রামের গুরা মিয়ার পুত্র আবদুল মান্নান বলেন, গত ২৬ মে (শুক্রবার)

সন্ধ্যায় আমি ব্যবসায়িক কারণে নোয়াপাড়া মসজিদের সামনে

আসলে ৩ জন সিভিল ড্রেসের পুলিশও পুলিশের সোর্স রাজু

আমাকে আটক করে আমার পরনের শার্ট ছিড়ে ফেলে। এসময়

পুলিশের সোর্স রাজু আমার পকেটে থাকা নগদ ২০ হাজার টাকা

নিয়ে আমাকে ছেড়ে দেয়। পরে বিষয়টি আমি স্থানীয় মঘাদিয়া

ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার ইউনুসকে বললে তিনি

বিষয়টি সুরাহা করবেন বলে আমাকে আশ্বাস দেয়। পরবর্তীতে

শনিবার সন্ধ্যায় এইবিষয়ে মিরসরাই থানার সামনের সালিশ ঘরে

বিষয়টি নিয়ে ২ জন পুলিশ সদস্য, ইউনুস মেম্বার ও আমার

উপস্থিতিতে ২০ হাজার টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দেয়া হয়।

এসময় পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয় আমার কাছ থেকে ওই বিশ হাজার

টাকা পুলিশের সোর্স রাজু নিয়েছিলো।

আরেক ভূক্তভোগী ব্যবসায়ী আবু তাহের জানান, কিছুদিন আগে

সিভিল ড্রেসের ৩ জন পুলিশসহ পুলিশের সোর্স রাজু বদিউল্লাহ

পাড়াস্থ আমার ভাইয়ের দোকানে গিয়ে আমাকে আটক করার চেষ্টা

করে। একপর্যায়ে আমি দোকান থেকে পালিয়ে যেতে বাধ্য হই। পরে

আমার দোকান ভাংচুর করে এবং দোকানের ক্যাশ বক্সে থাকা টাকা

পয়সা নিয়ে যায়।

অপর এক ভূক্তভোগী আজমীর জানান, মাস দেড়েক আগে পুলিশের

সোর্স রাজু আমাকে আটক করে জোর করে আমার পকেটে লাল

একটা বড়ি (ইয়াবা) ঢুকিয়ে দিয়ে আমাকে মারধর করে নিয়ে

যাওয়ার চেষ্টা করেছিলো। পরে এখানকার ছাত্রনেতা শওকতের মধ্যস্থতায়

আমাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এরআগেও একবার আমাকে ধরে ব্যাপক

মারধর করে এবং আমার কাছ থেকে এক হাজার টাকা নিয়ে যায়।

এই বিষয়ে পুলিশের সোর্স রাজুর কাছে জানতে চাইলে তিনি

বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে এসমস্ত অভিযোগ পুরোটাই মিথ্যাও

বানোয়াট। আমার মায়ের দুধের কসম আমি এসব বিষয়ে কিছুই

জানিনা।’

মঘাদিয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ইউনুস

বলেন, প্রায় প্রতিদিনই পুলিশের এএসআই আনোয়ার,

এএসআই শওকতও পুলিশের সোর্স রাজু আমাদের বদিউল্লাহ

পাড়ায় এসে মাদকদ্রব্য উদ্ধারের নামে সাধারন জনগনকে ধরে

হয়রানি করে। ব্যাপারটি আমি মঘাদিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান

সাহেবকে মৌখিকভাবে জানিয়েছি।

ভূক্তভোগী আব্দুল মান্নানের টাকা ফেরতের বিষয়ে থানার সালিশ ঘরে

বৈঠকের বিষয়টি স্বীকার করে তিনি বলেন, গত শনিবার (২৭ মে)

সন্ধ্যা ৭ টায় মিরসরাই থানার উচ্চপদস্থ কয়েকজন অফিসারসহ

মান্নানের টাকা ফেরত দেওয়ার ব্যাপারে একটি বৈঠক হয়েছিলো।

মঘাদিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর হোসাইন মাষ্টার

জানান, আমি বেশ কিছুদিন দেশের বাইরে ছিলাম। তাছাড়া

এবিষয়ে আমার কাছে এখনো পর্যন্ত নির্দিষ্টভাবে কেউ

অভিযোগ দেয়নি। তবে বিষয়টি নিয়ে আমি এবার উপজেলা

সমন্বয় সভায় আলোচনা করবো।

মিরসরাই থানার ওসি (তদন্ত) জাকির হোসেন বলেন, পুলিশের

সোর্সের চাঁদাবাজির বিষয়ে আমি কিছু জানিনা এবং

পুলিশের সোর্স রাজু নামের কাউকে আমি চিনিওনা। পুলিশের

সোর্স রাজু কর্তৃক নেওয়া টাকার ব্যাপারে মিরসরাই থানায়

কোন বৈঠকের বিষয়ে আমি অবগত নই। তবে মঘাদিয়া ইউনিয়নের

একজন মেম্বার কাল (২৭ মে) থানায় এসেছিলো। এ ব্যাপারে ওসি

স্যার থানায় আসলে আমরা বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে ব্যবস্থা

নেবো।


প্রিন্ট

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © banglarprotidin.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themebazarbanglaro4451