এম আনোয়ার হোসেন, মিরসরাই:
সালাম প্রকাশ বেলাল পেশায় সেইফ লাইন গাড়ির চালক হিসেবে মানুষের
কাছে পরিচিত। কিন্তু রাতে বেলায় সে পেশাদার ছিনতাইকারী। কখনও
গাড়িতে যাত্রী তুলে ছিনতাই করা হয়। আবার কখনও নিজেরা যাত্রীবেশে
প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস ভাড়া নিয়ে গাড়ি ছিনতাই করে নিয়ে
যায়। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মিরসরাইয়ে একাধিক ছিনতাইয়ের
ঘটনা ঘটার পর এই বিষয়টি নিয়ে নড়েচড়ে উঠে মিরসরাই থানা
পুলিশ। সর্বশেষ গত রোববার (২১ মে) সীতাকুন্ডের ভাটিয়ারী,
হাসনাবাদ, নেভী কলোনী, জলিল গেইট এলাকায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ
ছিনতাই গ্রুপের নেতা সালাম প্রকাশ বেলালসহ ৩ জনকে গ্রেফতার
করে। গ্রেফতারের পর বেলাল পুলিশকে জানায়, দিনের বেলায় তারা গাড়ি
চালালেও রাতের বেলায় যাত্রীদের ছিনতাই করে। তাদের গ্রুপে ১২ জন সদস্য
রয়েছে। পুলিশ তাদের কাছ থেকে ছিনতাই করে নেওয়া দুইটি মোবাইল
ফোনও ২ টি ছুরি উদ্ধার করেছে।
মিরসরাই থানার পিএসআই বাহারুল ইসলাম জানান, গত ১ মে একটি
প্রাইভেটকার ছিনতাই মামলায় তদন্তের সূত্র ধরে রোববার (২১ মে) রাতে
সীতাকুন্ড থানার বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে মৃত আহমদ নুরের
ছেলে ছিনতাই দলের নেতা সালাম প্রকাশ বেলাল, সলিমপুর এলাকার নুর
আলমের ছেলে ওমর ফারুক ও ভাটিয়ারী এলাকার মোহাম্মদ জামালের ছেলে
সোহেলকে গ্রেফতার করা হয়। সম্প্রতি যাত্রীদের কাছ থেকে ছিনতাই
করা ২ টি মোবাইল ফোনও দুইটি ছুরি তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা
হয়েছে। গত ২৭ এপ্রিল সেইফ লাইন গাড়িতে ছিনতাইয়ের শিকার
সংগীত শিল্প লক্ষণ দাশ গ্রেফতারকৃত ছিনতাইকারীদের ২ জনকে
সোমবার (২২ মে) সকালে থানায় এসে সনাক্ত করেছে।
মিরসরাই থানার ওসি (তদন্ত) জাকির হোসেন জানান, ছিনতাইকারী দলের
নেতা বেলাল পুলিশকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানায় তাদের ছিনতাই
গ্রুপে ১২ জন সদস্য রয়েছে। তারা প্রায় সবাই গাড়ি চালকও হেলপার।
দিনের বেলায় গাড়ি চালায়, রাতের বেলায় কখনও যাত্রীদের ছিনতাই করে,
আবার কখনও যাত্রী সেজে প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস, অটোরিকসা
ছিনতাই করে। প্রতিরাতে ৪-৫ টি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটায়।
ছিনতাই করা টাকাপয়সাও মালামাল সবাই ভাগাভাগি করে নেয়। বেলাল
পুলিশকে জানায়, ছিনতাইয়ের জন্য তারা সেইফলাইন গাড়ি, লেগুনা,
প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস ব্যবহার করে। সেইফলাইন, লেগুনা গাড়িতে
আগে থেকে তাদের ৩-৪ জন বসা থাকে। এরপর ১ জন বা ২ জন যাত্রী উঠলে
তাদের নিয়ে চলে যায়। পরে নির্জন জায়গায় যাত্রীদের ছুরি ধরে এবং
মারধর করে মালামাল নিয়ে নামিয়ে দেয়। প্রাইভেটকার মাইক্রেবাস
ছিনতাইয়ের জন্য ৫-৬ জন মিলে গাড়ি ভাড়া করা হয়। পরে নানা কৌশল
খাটিয়ে গাড়ির চালককে জিম্মি করে তার মালপত্র নিয়ে মারধর করে
নির্জন এলাকায় নামিয়ে দিয়ে গাড়ি ছিনতাই করা হয়। তারা
দীর্ঘদিন ধরে কয়েক গ্রুপে বিভক্ত হয়ে চট্টগ্রাম জেলার বিভিন্ন
সড়কে ছিনতাই কর আসছে।
জাকির হোসেন আরো জানান, ছিনতাইকারী দল নেতা সালাম প্রকাশ
বেলালের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের খুলশী থানা, রাঙ্গুনিয়া থানা ও কর্ণফুলী
থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। মিরসরাই থানা এলাকায় ছিনতাইয়ের
ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে ২ টি মামলা দায়ের হয়েছে। ছিনতাইকারী দলের
অন্য সদস্যদের নামও পাওয়া গেছে। তাদের গ্রেফতারের পুলিশ চেষ্টায়
রয়েছে।