প্লাবন গুপ্ত শুভ, ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার মহাসড়ক ও আঞ্চলিক সড়কগুলোর অনেক অংশজুড়ে ধানমাড়াই, ধান-খড় শুকানোসহ খড়ের গাদা তৈরি করা হচ্ছে রাস্তার ওপর। এতে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে যানবাহন। গত এক পক্ষ কালে উপজেলার বিভিন্ন সড়কে ছোটবড় ২৭টি দুর্ঘটনায় আহত হয়েছে ২১জন। আহতদের বেশিরভাগরই হাতপা ভেঙ্গে গেছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, মহাসড়ক ও আঞ্চলিক সড়কগুলোতে ধানমাড়াই, ধান-খড় শুকানো ও খড়ের গাদা তৈরির প্রবনতাকে গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ বিষয়ে কৃষকদেরকে সতর্ক করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন থেকে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদেরকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এরপরও রাস্তার ওপর ধানমাড়াই-শুকানো বন্ধ করা যায়নি।
ফুলবাড়ী-রংপুর মহাসড়ক সংলগ্ন উপজেলার তেতুলিয়া এলাকার তোজাম্মেল হক, লুৎফর রহমান ও বাচ্চু শেখ বলেন, বাড়িতে জায়গা না থাকায় ক্ষেতের ধান কেটে সরাসরি সড়কের ওপর তুলতে হচ্ছে। এখানেই মাড়াই, ধান-খড় শুকানোসহ খড়গুলো গাদা করে রাখতে হচ্ছে।
সরেজমিনে ফুলবাড়ী-মধ্যপাড়া-রংপুর মহাসড়কের স্বজনপুকুর থেকে মহেশপুর পর্যন্ত, ফুলবাড়ী-বড়পুকুরিয়া আঞ্চলিক সড়কের মধ্যসুলতানপুর, বাগড়া, ফুলবাড়ী-স্বপ্নপুরী সড়কের স্বজনপুকুর থেকে তেপুকুরিয়া, ফুলবাড়ী-বিরামপুর সড়কের বারোকোনা থেকে জয়নগর, ফুলবাড়ী-মাদিলাহাট সড়কের চাঁদপাড়া থেকে মাদিলাহাট পর্যন্ত, মাদিলাহাট-বিরামপুর সড়কের হাবিবপুর পর্যন্ত, মাদিলা-খড়মপুর-কেটরা, ফুলবাড়ী-দেশমা সড়ক, মাদিলা-আটপুকুর ভায়া পুখুরীহাট, ফুলবাড়ী-রুদ্রানী সড়ক ও ফুলবাড়ী-জলপাইতলী সড়ক পর্যন্ত আন্তত দুই শতাধিক স্থানে সড়কের আশপাশের কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ধান ক্ষেত থেকে কেটে সরাসরি রাস্তায় এনে মাড়াই, ধান-খড় শুকানোসহ বস্তা জাতকরণ ও খরের গাদা তৈরি করে রাখছেন। রাস্তার ওপর কৃষকদের ধানমাড়াই, ধান-খড় শুকানোসহ বস্তা জাতকরণ ও খরের গাদা তৈরি করার কারণে আঞ্চলিক সরু রাস্তাগুলোর বেশির ভাগই অংশই কৃষকদের দখলে থাকছে। ফলে যান তো দুরের কথা রিকশা-ভ্যান চলাচল করাও দায় হয়ে পড়ছে।
স্থানীয় মাইক্রোবাসচালক সঞ্জিত প্রসাদ (৩০) বলেন, যারা সড়কে ফসল মাড়াই ও শুকানোর কাজ করছে, তারা যানবাহন দেখেও না দেখার ভান করে। একটু অসতর্ক হলেই দুর্ঘটনা ঘটার ঝুঁকি থাকে। ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করতে হচ্ছে।
নিরাপদ সড়ক চাই সংগঠনের দিনাজপুর জেলা সভাপতি বিশ্বজিৎ দাস বলেন, ‘রাস্তায় ধান, ভুট্টা মাড়াই ও শুকানোটা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। গত বছর এটা না করার জন্য মাইকিং করা হয়েছে। প্রশাসনের সঙ্গে কথাও বলা হয়েছে। এ বছরও জনগণের মাঝে সচেতনতা বাড়াতে প্রচারণা চালানো হচ্ছে।’ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ নাসিম হাবীব বলেন, এ সময় সারা দেশের প্রায় সব সড়কে ধান মাড়াই ও ধান-খড়-ভুট্টা শুকানোর কাজ চলছে। এটা বিধিবহির্ভূত। একজন-দু’জন করলে সেটা বন্ধ করা যায়, কিন্তু সবাই করছে। তারপরেও যারা এ কাজ করছে, তাদের সাবধান করে দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. এহেতেশাম রেজা বলেন, রাস্তার ওপর ধানমাড়াই, ধান-খড় শুকানোসহ খড়ের গাদা তৈরির কারণে সড়কের নিরাপত্ত বিঘিœত হচ্ছে। শিঘ্রিই বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া হবে।