বাগাতিপাড়া (নাটোর) প্রতিনিধি,
নাটোরের বাগাতিপাড়ায় একসঙ্গে এসএসসি ও সমমানের (মাধ্যমিক)
পরীক্ষায় অংশ নেয়া সেই মা-ছেলে দুইজনেই পাস করেছে। ছেলে তন্ময় কুমার
কুণ্ডু চেয়ে ভালো ফলাফল করেছে মা মলি রাণী। মা মলি রাণী জিপিএ
পেয়েছে ৪.৫৩ এবং ছেলে তন্ময় কুমার কুণ্ডু জিপিএ ৪.৪৩ পেয়েছে।
দুজনেই কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের অধীনে পরীক্ষায় অংশ নেয়। মা মলি
বাগাতিপাড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ড্রেস মেকিং অ্যান্ড টেইলারিং
ট্রেডের এবং ছেলে তন্ময় বাগাতিপাড়া মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের
বিল্ডিং মেইনটেনেন্স ট্রেডের শিক্ষার্থী ছিলেন।
মলি রাণী জানান, নওগাঁর মান্দা উপজেলার প্রসাদপুরের অসিত কুণ্ডুর মেয়ে
তিনি। সংসারের প্রয়োজনে নবম শ্রেণিতে পড়ার সময়ই বাবা বিয়ে দিয়ে
দেন বাগাতিপাড়ার মিষ্টি ব্যবসায়ী দেবব্রত কুমারের সঙ্গে। পরে আর
লেখাপড়া করার সুযোগ হয়ে ওঠেনি। সংসারের কাজের চাপে খাঁটি
গৃহিণী হয়েই ছিলেন। এর মাঝে তাঁদের দুটি সন্তানের জন্ম হয়। ওরা
পড়ালেখা শুরু করে। কাজের ফাঁকে ফাঁকে ওদের পড়াতে বসতে হয়।বড় ছেলে
তন্ময় কুমার কুণ্ডু বাগাতিপাড়া মডেল পাইলট উচ্চবিদ্যালয় থেকে
কারিগরি শাখায় বিল্ডিং মেইনটেনেন্স ট্রেডে নবম শ্রেণিতে ওঠে। আর
ছোট ছেলে পাপন কুণ্ডু তৃতীয় শ্রেণিতে ওঠে।
মলি বলেন, ‘ওদের পড়াতে গিয়ে অনুভব করি, ছেলেদের পড়াতে হলে নিজেকে
আরও পড়ালেখা করতে হবে। নইলে স্বামীর সামান্য উপার্জনে ছেলেদের
গৃহশিক্ষক দেওয়া সম্ভব হবে না।’ আর এ জন্য তিনি তাঁর স্বামীর কাছে
নতুন করে পড়ালেখার অনুমতি চাইলেন। স্বামী রাজি হয়ে গেলেন সেই সঙ্গে
সহযোগিতার আশ্বাস দিলেন। এভাবেই তিনি নতুন করে বিদ্যালয়ে ভর্তি
হয়ে পড়ালেখা শুরু করলেন। তিনি বাগাতিপাড়া বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে
কারিগরি শাখায় ড্রেস মেকিং অ্যান্ড টেইলারিং ট্রেডে ভর্তি হন। মলি
কুণ্ডু বলছিলেন, ‘ভাগ্যক্রমে ছেলের সঙ্গেই এসএসসি পরীক্ষা দেয়ার
সুযোগ হয়েছে। দুইজন একই বই পড়ে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়েছি।’
ছেলের চেয়ে ভালো ফলাফল করায় উচ্ছ্বসিত মলি রাণী বলেন, ভবিষ্যতেও তিনি
পড়ালেখা অব্যাহত রাখবেন। একসঙ্গে পাস করায় মা-ছেলে উভয়ে বাঁধভাঙ্গা
উচ্ছ্বাসে মেতেছেন।