গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি,
অবশেষে নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার খুবজীপুর মোজাম্মেল হক ডিগ্রী
কলেজের ‘ শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব’ থেকে চুরি যাওয়া ১৫টি ল্যাপটপের
মধ্যে ১৩টি ল্যাপটপ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
গত বুধ ও বৃহষ্পতিবার বগুড়া সদরের পালপাড়া ছাত্রাবাস, নন্দীগ্রাম উপজেলা
সদর, সিরাজগঞ্জের তাড়াশ ও কাজীপুর উপজেলা এলাকায় অভিযান চালিয়ে
এসব ল্যাপটপ উদ্ধার করে পুলিশ।
শুক্রবার দুপুরে গুরুদাসপুর থানা পুলিশের পক্ষ থেকে চুরি যাওয়া ল্যাপটপ উদ্ধার
নিয়ে স্থানীয় সাংবাদিকদের ডেকে প্রেসব্রিফিং করা হয়। এসময় ওসি
দিলীপ কুমার দাস, ওসি (তদন্ত) তারেকুর রহমান সরকার, মামলার তদন্তকারি
কর্মকর্তা (এসআই) সুব্রত কুমার মাহাতো ও অধ্যক্ষ রসুল উদ্দিন মৃধা
উপস্থিত ছিলেন। সাংবাদিকদের সামনে উদ্ধার করা ১৩টি ল্যাপটপ ও চুরির
সাথে জড়িত কলেজ ছাত্র রহিদুল ইসলাম (১৭)কে হাজির করা হয়।
রহিদুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানায়, ল্যাপটপ চুরির ঘটনায় একই কলেজের
এইচএসসি প্রথম বর্ষের ছাত্র তারেক (১৭) ও সবুজও (১৭) জড়িত রয়েছে।
তাদের পরামর্শে চুরির পথ বেছে নেয় বলে জানায় সে। পরে বিভিন্ন এলাকায়
থাকা তার পরিচিত বন্ধুদের কাছে ২-৩ হাজার টাকা করে এসব ল্যাপটপগুলো
বিক্রি করে। সাকুল্যে ৪০-৫০ হাজার টাকা হাতে পেয়েছিল তারা।
গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দিলীপ কুমার দাস জানান, গত
মঙ্গলবার ল্যাপটপ চুরি সন্দেহে কলেজের দুই ছাত্র চরপিপলা গ্রামের ফিরোজ
হোসেন (১৭) ও পিপলা গ্রামের রহিদুল(১৭)কে আটক করে পুলিশ। তবে
ফিরোজ চুরির ঘটনায় সম্পৃক্ত না থাকায় গতকাল শুক্রবার তাকে ছেড়ে দেওয়া
হয়। রহিদুলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চুরি যাওয়া ল্যাপটপগুলো উদ্ধার করা হয়।
তবে চুরির সাথে তারেক ও সবুজ নামের সাথে আরো দুই কলেজ ছাত্র জড়িত
রয়েছে। তাদের গ্রেফতার ও আরো দুইটি ল্যাপটপ উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছে
পুলিশ। জবানবন্দি আদায়ের জন্য শুক্রবার পুলিশ হেফাজতে থাকা রহিদুলকে
আদালতে হাজির করা হয়েছে।
ওই কলেজের অধ্যক্ষ রসুল উদ্দিন মৃধা সাংবাদিকদের জানান, ল্যাপটপগুলো উদ্ধার
হওয়ায় পুলিশকে ধন্যবাদ জানান।
থানা সুত্র জানায়, গত ২১ ফেব্র“য়ারি গভীররাতে ওই কলেজের আইসিটি কক্ষ
থেকে ১৫ টি ল্যাপটপ চুরি হয়। পরদিন ওই ঘটনায় অধ্যক্ষ বাদী হয়ে থানায়
একটি চুরি মামলা দায়ের করেন।