শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৩৯ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
সিএনজি চালক থেকে লাখপতি: কাইয়ূম, এ স্বামী-স্ত্রী মিলে চালায় অনলাইন জুয়ার ডার্ক নেটওয়ার্ক মানুষের কল্যাণে কুলঞ্জ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে লড়বেন ফরহাদ আলম কিশোরগঞ্জে পাউবো কর্মকর্তার কাছে চাঁদা দাবি ও হামলার অভিযোগ ধউর-আশুলিয়ার দুই সার্ভিস সেতু চালু, গতি পাবে যোগাযোগ ও অর্থনীতি: শেখ রবিউল আলম আশুলিয়ায় একটি ভবনের ৬ তলায় পোশাক শ্রমিকের রহস্যজনক মৃত্যু, ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার বাংলার প্রতিদিনের স্টাফ রিপোর্টার মোঃফরহাদ হোসেনের উপর হামলা স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎ: বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক আরও জোরদারের আশাবাদ সিলেটের গোলাপগঞ্জে দিন দুপুরে যুবক’কে মারধর করে দুই লক্ষ টাকা ছিনতাই  ‎মাদকের বিরুদ্ধে তরুণদের সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে – পানিসম্পদ মন্ত্রী  লুণ্ঠিত ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে নতুন পুরস্কার ঘোষণা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

ঝিনাইদহে মরমী লোক কবি পাগলা কানাইয়ের ১২৭ তম মৃত্যু

বাংলার প্রতিদিন ডেস্ক ::
  • আপডেট সময় মঙ্গলবার, ১২ জুলাই, ২০১৬
  • ৩৬৩ বার পড়া হয়েছে

ঝিনাইদহ জেলা প্রতিনিধি, ঝিনাইদহ:

‘মরণের আগে মর, সমনকে শান্ত কর, যদি তাই করতে পার, ভরপারে যাবি রে মন

রসনা, অথবা জিন্দা দেহে মুরদার বসন, থাকতে কেন পর না / মন তুমি মরার ভাব

জানো না’- এমনই হাজারো আধ্যাত্মিক লোক সঙ্গীতের রচয়িতা মরমি

সাধক কবি পাগলা কানাইয়ের ১২৭তম মৃত্যু বার্ষিকী ছিল মঙ্গলবার ২৮

আষাঢ়।

দিবসটি উপলক্ষে সকালে কবির মাজার সদর উপজেলার বেড়বাড়ি গ্রামে

পুস্পমাল্য অর্পণ করা হয়। বিকেলে আলোাচনা সভা এবং পাগলা কানাই

রচিত সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়। কবির জন্মভিটা ঝিনাইদহ সদর উপজেলার

বেরবাড়ি গ্রামে ‘পাগলা কানাই স্মৃতি সংরক্ষণ সংসদ’ দিনব্যাপী এসব

কর্মসূচি আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে প্রতি বছরের মতো এবারো দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে কবির ভক্তরা

অংশ গ্রহন করেন। তারা প্রয়াত কবির প্রতি শ্রদ্ধার নিদর্শনস্বরূপ ধুয়াজারি

গানসহ কবির রচিত সঙ্গীত পরিবেশন করেন। পাগলা কানাই স্মৃতি সংরক্ষণ

সংসদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুর রশিদ জানান, বিকেলের

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়েছেন ঝিনাইদহ

জেলা প্রশাসক মাহবুব আলম তালুকদার।

এছাড়া ঝিনাইদহ পুলিশ সুপার আলতাফ হোসেন ও স্থানীয় ইউপি

চেয়ারম্যান নজরুল ইসলামসহ সরকারি কর্মকর্তা, কবির হাজারো ভক্ত

অনুষ্ঠানে অংশ নেন। তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, পাগলা কানাই ছিলেন

লালন পরবর্তী বাংলার অন্যতম মরমী সাধক ও লোককবি।

তিনি ১৮০৯ সালের মার্চ মাস মোতাবেক ১২১৬ সালের ২৫ ফাল্ধসঢ়;গুন

ঝিনাইদহ সদর উপজেলার লেবুতলা মাধবপুর গ্রামে জন্মগ্রহন করেন। তার

বাবার নাম ছিল মেসের আলী ও মা মোমেনা খাতুন। কৈশোরে বাবার

মৃত্যুর পর কানাই মামাবাড়ি বেড়বাড়ি গ্রামে চলে আসেন। সেখানে

তিনি গবাদি পশু রাখতেন।

এ সময় তিনি আধ্যাত্মিক সাধক ও একাধিক বাউল শিল্পীর সংস্পর্শে

আসেন। এরপর তিনি নিজেই রচনা করতে থাকেন একের পর এক গান। প্রথমা

বস্থায় তার গানের শ্রোতা ছিলেন রাখালরা। কানাইয়ের গানে মুগ্ধ রাখালেরা

তাকে ‘পাগলা কানাই’ বলে ডাকতেন। অল্পদিনেই রাখালদের ছাড়িয়ে তার

সুনাম ছড়িয়ে পড়ে দূর-দূরান্তে। আধ্যাত্মিক গান রচনা ও বিভিন্ন

অনুষ্ঠানে পরিবেশনের মাধ্যমে ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন পাগলা কানাই।

প্রায় ৮০ বছরের জীবদ্দশায় কানাই প্রায় তিন হাজার আধ্যত্মিক ও ভক্তি সঙ্গীত

এবং কবিতা রচনা করে গেছেন।

তার রচিত গানের মধ্যে রয়েছে পালাগান, জারিগান, ধুয়াগান, কবিগান,

মুর্শিদি, মারফতি গান। ১৮৮৯ সালের ১২ জুলাই মোতাবেক ১২৯৬ সালের

২৮ আষাঢ় এই মরমী সাধক ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুর পর পাগলা কানাইকে

মামাবাড়ি বেড়বাড়ি গ্রামে দাফন করেন। সেখানেই সরকারিভাবে তৈরি

করা হয়েছে ‘পাগলা কানাই স্মৃতি অডিটরিয়াম’।

বিপুল জনপ্রিয়তা এবং বাংলা গানে অসাধারণ অবদান রাখা সত্ত্বেও পাগলা

কানাই রাষ্ট্রীয়ভাবে অবহেলিতই থেকে গেছেন বলে তার ভক্তদের অভিযোগ।

মরমী এই কবির গান সংরক্ষণে সরকারিভাবে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

ভক্তদের আশঙ্কা, দ্রুত সংরক্ষণ করা না হলে চিরতরে হারিয়ে যাবে কবি রচিত বহু


প্রিন্ট

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © banglarprotidin.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themebazarbanglaro4451