এস.এম. সাইফুল ইসলাম কবির, বাগেরহাট :
বাগেরহাটের চিতলমারীতে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে এক হিন্দু পরিবারের বাড়িঘর ভাংচুর ও হামলায় শিশু-নারীসহ ৬ জন আহত হয়েছেন। আহতদের চিতলমারী স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করা হলে তাদের মধ্যে কয়েক জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয় চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে নির্দেশে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত থানায় মামলার প্রস্তুতিচলছিল।
পুলিশ ও আহতদের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার কালশিরা গ্রামের অনন্ত বিশ্বাসের সাথে প্রতিবেশি প্রকাশ বিশ্বাসের দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। বিষয়টি মীমাংসার জন্য গতকাল শুক্রবার দুপুর দিকে এক সালিশ-বৈঠক বসলে সেখানে এক পর্যায় অনন্ত বিশ্বাসের লোকজন প্রকাশ বিশ্বাসের বাড়িঘরে হামলা চালায়। এ সময় প্রকাশ বিশ্বাস ও তার পরিবারের লোকজন বাধা দিতে এগিয়ে এলে তাদেরকে বেদম মারপিট করা হয়। হামলায় শিবানী মন্ডল (৪০), শিল্পী বিশ্বাস (৩৫), চম্পা বিশ্বাস (৩৮), প্রনব বিশ্বাস (১২), প্রকাশ বিশ্বাস (৪৭) ও অশোক বিশ্বাস (৩৫) কে পিটিয়ে গুরুতর জখম হয়। আহতদের প্রথমে চিতলমারী স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করা হলে তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হলে তাদেরকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় ওই পরিবারটি ভীত-সন্ত্রাস্ত হয়ে পড়েছে।আহত প্রকাশ বিশ্বাস ও তার স্ত্রী চম্পা বিশ্বাস জানান, স্থানীয় চেয়ারম্যান শেখ নিজাম উদ্দিন নিজেই জুতা খুলে নারীদের মারপিট করেন এবং তার নির্দেশে বাড়িঘর ভাংচুর করা হয়। চিতলমারী সদর ইউপি আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. শরৎ চন্দ্র মজুমদার জানান, ওই জায়গায় ১৪৪ ধারা জারি করা রয়েছে এবং নীরিহ ওই সংখ্যালঘু পরিবারটির উপরে হামলা হতে পারে মর্মে তাদের জিডি করা রয়েছে। কিন্তু তারপরেও এ ন্যাক্কারজনক হামলা সকলকে হতবাক করেছে।এ ব্যাপারে চিতলমারী সদর ইউপি চেয়ারম্যান শেখ নিজাম উদ্দিন জানান, তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সঠিক নয়। মুলঘর ইউপি চেয়ারম্যান হিটলার গোলদারের ডাকে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। তবে তিনি উপস্থিত থাকাকালীন কোন হামলা বা মারপিটের ঘটনা ঘটেনি।এ ব্যাপারে চিতলমারী থানার ওসি মো. রেজাউল করিম জানান, মারপিটের বিয়য়টি তাকে জানানো হয়েছে। ঘটনা স্থালে গিয়ে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।