অওরীন মাহামুদ (পারভেজ) কলাপাড়া প্রতিনিধি: কলাপাড়ার মহিপুর ইউনিয়নের ৪৫ নংমনোহরপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে সরকারী বিস্কুট আত্মসাত ও স্কুল চলাকালীন সময় ঘুমিয়ে থাকা সহ নানা অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিস্কুট গুলো সে নিজের পুকুরে মাছের খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করার পাশাপাশি তার আত্মীয় স্বজনদেরবিলিয়ে দেয়।এ ঘটনা ফাঁস হওয়ার সাথে সাথে শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।লিখিত অভিযোগে স্কুল পরিচালনা পরিষদের একাধিক সদস্য জানান, ১৫ মার্চ থেকে ২০ মার্চ এ ৬ দিন ব্যাপী মহিপুর কো-অপোরটিপ মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে মহিপুর ইউনিয়ন বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এ উপলক্ষে শিক্ষার্থীরা ওই অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহন করে বিধায় বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়নি। অথচ ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো.জাহাঙ্গীর আলম শিক্ষার্থী হাজিরা খাতায় গড়ে ১৫০ জন শিক্ষার্থী উপস্থিত দেখানোর পাশাপাশি ৯ কার্টুন বিস্কুট সে শিক্ষার্থীদের মাঝে বিতরন দেখিয়ে আত্মসাত করে।এ বিস্কুট তিনি নিজের বাড়িতে রাখার পাশাপাশি আত্মীয়-স্বজনদের মাঝে বিলিয়ে দেয়।এছাড়া তার পুকুরে মাছের খাদ্য হিসেবেও ব্যবহার করে। অথচ সিডর বিধস্ত কলাপাড়ায় শিশু শিক্ষার্থীদের অপুষ্টির কথা বিবেচনা করে সরকার এ এলাকায় স্কুল ফিডিং প্রকল্প চালু করে।যা এনজিও সংস্থা প্রত্যাশা বাংলাদেশের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করছে।এ দিকে, গত ২২ মার্চ কলাপাড়া উপজেলা প্রত্যাশা বাংলাদেশের জেলা সমন্বয়কারী ওই বিদ্যালয় পরিদর্শন কালে ১ কার্টুনের উপরে বিস্কুট ষ্টোরে জমা দেখে এর কারন জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক এর কোন জবাব দিতে পারেনি বলেওই অভিযোগে উল্লেখ করেন। এ ব্যাপারে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো.জাহাঙ্গীর আলম জানান, তার স্কুলের এক শিক্ষকের ষড়যন্ত্রের শিকার তিনি। স্কুলের বিস্কুট কেউই আত্মসাত করেনি।এটা মিথ্যা অপবাদ বলে তিনি উল্লেখ করেন।প্রত্যশা বাংলাদেশ কলাপাড়া উপজেলার কো-অর্ডিনেটর মোসা.আয়েশা সিদ্দিকা জানান,তারা ওই স্কুল পরিদর্শন কালে ১০৪ প্যাকেট বিস্কুট পেয়েছে।তবে তা শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরন করা হয়েছে। তবে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ সত্য নয় বলে উল্লেখ করেন তিনি।স্কুলের সহ-সভাপতি ও মহিপুর ইউপি সদস্য মোঃ আঃ রব হাওলাদার জানান, প্রধান শিক্ষকের বিস্কুটচুরির ঘটনা সত্য। ওই স্কুলের বিস্কুট সঠিক ভাবে শিক্ষার্থীরা না পাওয়ার বিষয়টি বিভিন্ন সময় এলাকাবাসী আমাকেও জানিয়েছে। কলাপাড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো.আরিফুজ্জামান জানান,আমাদের একটি মিটিংএর আলোচনায় ওই স্কুলের বিস্কুটের গড়মিলের কথা শুনেছি।তবে কেউ অভিযোগ দেয়নি।অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।