রবিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৩, ১২:৩১ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::

আমিও সারাজীবন বাবার মতো দেশের উন্নয়নে কাজ করে যাবো : প্রধানমন্ত্রী

বাংলার প্রতিদিন ডেস্ক ::
  • আপডেট সময় বুধবার, ২২ মার্চ, ২০১৭
  • ১৫১ বার পড়া হয়েছে

বাংলার প্রতিদিন ডটকম ঃ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ২০০১ সালে ভারতকে গ্যাস দেওয়ার মুচলেকা দেওয়ার পাশাপাশি ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ এবং যুক্তরাষ্ট্রের ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছিল বিএনপি।

আজ মঙ্গলবার বিকেলে মাগুরায় আছাদুজ্জামান স্টেডিয়ামে জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত বিশাল জনসভায় দেওয়া বক্তব্যে শেখ হাসিনা এ কথা বলেন। দেশের উন্নয়নে আওয়ামী লীগের হাতকে শক্তিশালী করতে সবাইকে এক পতাকাতলে আসার আহ্বান জানান তিনি।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর মাগুরা সফরকে কেন্দ্র করে ছোট্ট জেলা শহর মাগুরা উৎসবস্থলে রূপ নেয়। সকাল থেকেই আশপাশের জেলা-উপজেলা থেকে সমাবেশে যোগ দিতে বিভিন্ন বয়সের জনগণ নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সমাবেশস্থল মাগুরা জেলা স্টেডিয়ামে এসে জড়ো হতে থাকেন। তোরণ, ব্যানার ও ফেস্টুনে ভরে যায় সমাবেশস্থল ও আশপাশের এলাকা। বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে নাচতে নাচতে গাইতে গাইতে, আবার অনেকে স্লোগানে, স্লোগানে আকাশ-বাতাস মুখর করে তোলে।

চৈত্রের তাপ অগ্রাহ্য করে সমাবেশে যোগ দেয় সর্বস্তরের মানুষ। প্রধানমন্ত্রী জনসভাস্থলে আসার অনেক আগেই মাগুরা জেলা স্টেডিয়াম ও আশপাশের এলাকা লোকে লোকারণ্য হয়ে ওঠে। জনসভাস্থলে আগতদের জন্য রাস্তায় রাস্তায় স্থানীয় উদ্যোগে পানি, ছিঁড়া ও বাতাসা সরবরাহ করা হয়।

বেলা সোয়া ৩টার দিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জনসভাস্থলে পৌঁছেই প্রায় ৩১০ কোটি টাকার ১৯টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন এবং নয়টি নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তরের ফলক উন্মোচন করেন। মঞ্চে উঠে প্রধানমন্ত্রী হাত নেড়ে অভিবাদন জানান জনতার মহাসমুদ্রকে।

২০১৯ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে উল্লেখ করে আবারও নৌকায় ভোট চান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে বলেন, ‘২০০১ সালে বাংলাদেশের সম্পদ, বাংলাদেশের গ্যাস ওই ভারতের কাছে বিক্রি করবে বলে মুচলেকা দিয়ে আমেরিকা আর ওই ভারতের ‘র’-এর ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসে বিএনপি। এই বাংলার মাটিতে যারা এদেশে গণহত্যা চালিয়েছে, আমার মা-বোনের ইজ্জত লুটেছে, যারা হত্যা-খুন করেছে, যারা জঙ্গিবাদের সৃষ্টি করেছে তাদের স্থান বাংলার মাটিতে নাই। তাদের স্থান বাংলার মাটিতে হবে না।’

আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি এক আল্লাহ রাব্বুল আলামিন ছাড়া আরো কাছে মাথা নত করি না, ভয়ও করি না। বাংলাদেশের মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়নের জন্য, বাংলাদেশের মানুষকে ক্ষুধা ও দারিদ্র্য থেকে মুক্তি দেওয়ার জন্য আমার জীবনকেও আমি উৎসর্গ করেছি। শুধু আপনাদের দোয়া চাই, আশীর্বাদ চাই। আপনাদের সহযোগিতা চাই যেন এই বাংলাদেশকে উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে পারি।’

সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মাগুরাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি রেললাইন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি বলেন, ২০০১ সালের মতো বিএনপি-জামায়াতের মতো অপশক্তি পুনরায় ক্ষমতায় গেলে দেশ ধ্বংসের মুখে পড়বে। তাই দেশবাসীকে এই হুমকির ব্যাপারে সদা সতর্ক থাকতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বারবার তাঁর জীবনের ওপর যে হামলা চেষ্টা হয়েছে এবং হচ্ছে, তাতে তিনি ভীত নন। তিনি জনগণের আর্থ-সামাজিক উন্নতির জন্য বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বাস্তবায়নে নিজেকে উৎসর্গ করেছেন। তিনি বলেন, ‘যারা আপনাদের ভোট চুরি করেছে, আর যাদের ভোট চুরির অপরাধে বাংলার জনগণ ক্ষমতা থেকে হটিয়েছে, দুর্নীতি, জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাস আর মানুষকে পুড়িয়ে পুড়িয়ে যারা হত্যা করেছে, বোমা মারা যাদের কাজ, এ দেশের ক্ষমতায় আসলে তারা আবারও দেশকে ধ্বংসের পথে নিয়ে যাবে। কারণ তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বে বিশ্বাস করে না।’ প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুর খুনি এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমাদের নির্বাচনী ওয়াদা আমরা পূরণ করে খুনিদের বিচার ও দণ্ড কার্যকর করেছি।’

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন মাগুরা জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আলহাজ তানজেল হোসেন খান। সমাবেশে মাগুরাবাসীর পক্ষে দাবি-দাওয়া উপস্থাপন করেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা এবং প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব-২ সাইফুজ্জামান শিখর।

সমাবেশে বক্তৃতা করেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য পীযূষ কান্তি ভট্টাচার্য, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ ও আবদুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বীরেন শিকদার, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, সংসদ সদস্য মেজর জেনারেল (অব.) এ টি এম আবদুল ওয়াহাব, আওয়ামী লীগ নেতা এস এম কামাল হোসেন, মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শাফিয়া খাতুন, যুব মহিলা লীগের সভাপতি নাজমা আক্তার ও সাধারণ সম্পাদক অপু উকিল, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসেন।

প্রধানমন্ত্রী যেসব প্রকল্পগুলো উদ্বোধন করেন সেগুলো হচ্ছে- ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট মাগুরা হাসপাতাল, মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা আছাদুজ্জামান স্টেডিয়াম, মাগুরা কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, মাগুরার শ্রীপুর উপজেলা ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স স্টেশন, সদর উপজেলা মঘি ইউপি অফিস থেকে আন্দোলবাড়িয়া সড়কে ফটকি নদীর ওপর ব্রিজ, সদর উপজেলাধীন জিসি-ইছাখাদা পর্যন্ত ৯ দশমিক ৭১ কিলোমিটার সড়ক, মাগুরা-শ্রীপুর সড়কে নতুন বাজার সেতু, ৩৫০ ঘনমিটার প্রতিঘণ্টা ক্ষমতাসম্পন্ন মাগুরা ভূ-গর্ভস্থ পানি শোধনাগার, প্রশাসনিক ভবন, সরকারি হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, আঞ্চলিক হাঁস প্রজনন খামার, প্রশিক্ষণ ভবন ও অতিথিশালা, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কার্যালয়, মাগুরা জেলা শাখা, শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫০ শয্যায় উন্নীতকরণ, শালিখা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫০ শয্যায় উন্নীতকরণ, মাগুরা টেক্সটাইল মিলস, আড়পাড়া মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র এবং মাগুরা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট।

এছাড়া আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস মাগুরা, শালিখা উপজেলাধীন বুনাগাতি থেকে বেরোইলপলিতা সড়কে নালিয়া ঘাটে ফটকী নদীর ওপর ৯৬ মিটার ব্রিজ, একই উপজেলাধীন বরইচারা আটিরভিটা-বরইচারা বাজার সড়কে ফটকী নদীর ওপর ৬৬ মিটার ব্রিজ, বাউলিয়া-শরশুনা সড়কে চিত্রা নদীর ওপর ৯৬ মিটার ব্রিজ, জাতীয় মহাসড়কের মাগুরা শহর অংশ ৪ লেনে উন্নীতকরণ, মাগুরা পৌরসভার তৃতীয় নগর পরিচালন ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প (২য় পর্যায়), শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং ও ইনকিউবেশন সেন্টার (হাইটেকপার্ক), শ্রীপুর উপজেলা মিনি স্টেডিয়াম, শালিখা উপজেলা মিনি স্টেডিয়ামের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © banglarprotidin.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themebazarbanglaro4451