সোমবার, ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ০৬:২০ পূর্বাহ্ন

রাবির ভিসি-প্রোভিসি অভিযোগ নিয়ে বিদায় নিলেন

বাংলার প্রতিদিন ডেস্ক ::
  • আপডেট সময় সোমবার, ২০ মার্চ, ২০১৭
  • ১৭১ বার পড়া হয়েছে

অনলাইন ডেস্কঃ 

শেষ সময় অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ নিয়ে বিদায় নিল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) প্রশাসন। আজ রোববার উপাচার্য (ভিসি) ও উপ-উপাচার্য (প্রোভিসি) তাঁদের চার বছরের মেয়াদ পূর্ণ করেছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী আগামীকাল সোমবার থেকে উপাচার্য ও উপ-উপাচার্য নিজ নিজ বিভাগে যোগ দেবেন।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩ সালের ২০ মার্চ দায়িত্ব নেন উপাচার্য মুহম্মদ মিজানউদ্দিন ও উপ-উপাচার্য চৌধুরী সারওয়ার জাহান। এরপর ৬ মে কোষাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব নেন সায়েন উদ্দিন আহমেদ। বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য ও রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ তাঁদের নিয়োগ দেন। তবে উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যের মেয়াদ শেষ হলেও কোষাধ্যক্ষ থাকবেন মে মাস পর্যন্ত।

মিজানউদ্দিন প্রশাসনের শেষ দিনে আজ সকালে প্রশাসন ভবনের কনফারেন্স রুমে উপাচার্য ও উপ-উপাচার্য দপ্তরপ্রধানদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় মিলিত হন। বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, মতবিনিময়ের সময় উপাচার্য ও উপ-উপাচার্য তাঁদের দায়িত্ব পালনে সহযোগিতা করায় সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান। বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক কাজে আগামীতেও সংশ্লিষ্ট সবার অনুরূপ সহযোগিতা বজায় থাকবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তাঁরা। এ ছাড়া উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যের দায়িত্ব দেওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তাঁরা।

বিজ্ঞপ্তিতে আরো উল্লেখ করা হয়, মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন প্রধান প্রকৌশলী মো. সিরাজুম মুনীর ও প্রধান চিকিৎসক ডা. মো. তবিবুর রহমান শেখ, কোষাধ্যক্ষ সায়েন উদ্দিন আহমেদ ও রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মুহাম্মদ এন্তাজুল হক প্রমুখ।

উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যের শেষ কার্যদিবসে আজ সিন্ডিকেট সদস্য, হল প্রাধ্যক্ষ, ইনস্টিটিউট পরিচালক, অনুষদ অধিকর্তা ও বিভাগীয় সভাপতি, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতিসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানপ্রধান তাঁদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে অভিনন্দন জানান বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

অভিযোগ নিয়ে বিদায় : 
দায়িত্বের একেবারে শেষ প্রান্তে এসে এই প্রশাসনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অনিয়মের অভিযোগ। বিশ্ববিদ্যালয়ের জমি কেনায় অনিয়মের অভিযোগে উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যসহ চারজনের বিরুদ্ধে কেন তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।

এক শিক্ষার্থীর করা আবেদনের শুনানি শেষে গত ১৪ মার্চ বিচারপতি নাঈমা হায়দার ও বিচারপতি আবু তাহের মোহাম্মদ সাইফুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন।

আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান, স্বরাষ্ট্রসচিব, পুলিশের আইজি, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, উপ-উপাচার্য, রেজিস্ট্রার ও কোষাধ্যক্ষকে এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. মোখলেসুর রহমান।

গত ৫ মার্চ ‘জমি কিনতে রাবিতে গুরুতর জালিয়াতি’ শিরোনামে জাতীয় একটি দৈনিকে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে হাইকোর্টে রিট করেন আসাদুজ্জামান নামের এক শিক্ষার্থী।

প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, রাবির অতিথি ভবনের জন্য ঢাকায় জমিসহ ইমারত কেনায় সরকারি ক্রয় নীতিমালা লঙ্ঘন করে গুরুতর জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। এ ক্ষেত্রে দরপত্র দাখিলকারী প্রতিষ্ঠানের দরপত্র বাতিল ও পুনরায় দরপত্র আহ্বান ছাড়াই ১৩ কোটি ২৫ লাখ টাকার কেনাবেচায় (দলিল এবং চুক্তি সম্পাদন) অনিয়মের খবর পাওয়া গেছে। এ ছাড়া দুর্নীতিসহ নানা অসঙ্গতির মাধ্যমে অন্তত সাড়ে সাত কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © banglarprotidin.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themebazarbanglaro4451