সোনারগাঁও থেকে জহিরুল ইসলাম মৃধা ঃ
মানুষ মানুষের জন্য এ চিরন্তন সত্যকে সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার সনমান্দি পূর্বপাড়া
গ্রামের স্বামী, ছেলে-মেয়ে ও আত্মীয় স্বজনহীন এক বৃদ্ধার পাশে দাড়ালেন
পুলিশ। থানার এক পুলিশ কর্মকর্তা তার নিজের ভবিষৎতের তহবিল (জিপিএফ)
ফান্ডের জমানো টাকা উত্তোলন করে ঘর বাড়ী নির্মান করে দিয়েছেন ওই
বৃদ্ধাকে। এ উদ্যোগের ফলে সোনারগাঁও উপজেলার সর্বত্র সাধারণ মানুষ সহ
সর্বস্তরের মানুষের মাঝে আলোচনার ঝড় বইছে। গতকাল শনিবার দুপুরে
আনুষ্ঠানিক ভাবে ওই বৃদ্ধাকে তার ঘর বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এলাকাবাসীরা জানায় পুলিশ মানে তারা ঘুষখোর দয়ামায়াহীন মানুষ। পুলিশ
মানে আতংক, পুলিশ শব্দটি শুনলেই সাধারণ মানুষের অন্তর ভয়ে কেপে উঠে। পুলিশ
যে জনগণের বন্ধু আসলে এর বাস্তব চিত্র খুবই কম দেখা যায়। পুলিশ দ্বারা
সাধারণ ও নিরাপদ মানুষও যে অত্যাচার নির্যাতনের শিকার হয়না তাও কিন্তু নয়।
আবার অপরাধী ও দুস্কৃতিকারীদের আশ্রয় প্রশ্রয়কারী হিসেবে অভিযোগের
তীর অনেক সময় পুলিশের দিকেই থাকে। টাকা ছাড়া আর কোন কিছুই যেন
পুলিশের অন্তরে দ্রবীভূত হয় না। অনেক ক্ষেত্রে পুলিশ সাধারণ মানুষের চোঁখের
পানিকে ওরা ওজন করে টাকা দিয়ে। পুলিশ সর্ম্পকে এমন ধারণা কে অবাস্তবে
রুপান্তরিত করে এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন সোনারগাঁও থানার এএসআই
আবুল কালাম আজাদ। সনমান্দি পূর্বপাড়া গ্রামের রুপবাহার(৭৫)
স্বামী,সন্তান, আত্মীয়স্বজনহীন চিকিৎসা ও বসত ঘরের অভাবে মানবেতর জীবপ
যাপন করতেছিল দীঘ কয়েক বছর যাবৎ। গত ২৭শে জানুয়ারী এএসআই আবুল
কালাম আজাদ সনমান্দি পূর্ব পাড়া মসজিদের জুমার নামাজের সময় আলেমদের
উদ্দেশ্যে জঙ্গী, মাদক বিরোধী আলোচনা শেষে থানায় ফেরার পথে জনৈক এক
ব্যক্তি জানায় যে, রুপবাহার নামের একজন অসহায় বৃদ্ধা মহিলা মানবেতর জীবন
যাপন করছে। এতে ওই এসআই বৃদ্ধা মহিলার কথা শুনে সেখানে উপস্থিত হয়ে
অসুস্থ্য অবস্থায় জরাজীর্ন ঘরে বৃদ্ধা রুপবাহার কে দেখতে পায়। বৃদ্ধা রুপবাহার
চিকিৎসার অভাবে হাত-পা ফুলে পানি জমে হাত-পায়ের বিভিন্ন অংশ ফুলে
গেছে। তার এই করুণ অবস্থা দেখে তিনি ওই গ্রামের আশ পাশের লোকজনের
কাছে খবর নিয়ে জানতে পারে যে, এই বৃদ্ধা রুপবাহারের পৃথিবীতে আপন
বলতে কেউ নেই। তখন এএসআই আবুল কালাম আজাদ বৃদ্ধা রুপবাহারের উন্নত
চিকিৎসার জন্য প্রথমে সোনারগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্রেক্সে ভর্তি করান
পরবর্তীতে তাকে বে-সরকারী হাসপাতালে চিকিৎসা প্রদান করে সুস্থ্য করে
তোলেন। রুপবাহার যে ঘুপটি ঘরে বসবাস করতো সেই বসত ঘরের সামনেই
ময়লার একটি বিশাল গর্ত ছিল। সেই বৃদ্ধা রুপবাহার ঘুপটি ঘর থেকে
আধুনিক আদর্শ বাড়ী এবং ময়লার স্তুুপ কে ফুলের বাগান করার পরিকল্পনা নিয়ে
কাজ শুরু করেন এ এস আই আজাদ। সেই পরিকল্পনাকে বাস্তবায়িত করতে তিনি
তার ভবিষৎত জমাকৃত তহবিল (জিপিএফ) ফান্ড থেকে টাকা উত্তোলন করে আদর্শ
ঘর বাড়ী নির্মান করেন। এই আদর্শ বাড়ী নির্মানের ফলে সনমান্দি ইউনিয়ন
সহ উপজেলার বিভিন্ন শ্রেনীর পেশাজীবি মানুষের মাঝে আলোচনা শুরু হয়।
সনমান্দি পূর্বপাড়া গ্রামের মেম্বার মোমেন বলেন এক অসহায় বৃদ্ধার পাশে
দাড়িয়ে এ এস আই আজাদ দৃস্টান্ত স্থাপন করলেন। পুলিশের ভূমিকায় আমরা
অভিভুত।
এ বিষয় জানতে চাইলে বৃদ্ধা রুপবাহার বলেন বাবা আমার শেষ বয়সে দেখা
শোনা করার মত কেউ ছিলনা। চিকিৎসার অভাবে আমি মরতে বসেছিলাম।
আল্লাহ আমাকে বাচানোর জন্য এক বিশেষ ব্যক্তিকে পাঠিয়েছেন। আমি যত
দিন বেচে থাকব তার জন্য নামাজ পড়ে দোয়া করবো।
সোনারগাও থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এ এসআই) বলেন, অসুস্থ্য বৃদ্ধা
নারীকে দেখে আমার মায়ের মত মনে হয়েছে তাই আমার জিপিএফ ফান্ডের
জমানো টাকা উত্তোলন করে তার জন্য চিকিৎসা সেবা ও ঘর নির্মান করে
দিয়েছি।
সনমান্দি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহিদ হাসান জিন্নাহ বলেন,
আমাদের দেশের পুলিশ এভাবে মানব সেবায় নিয়োজিত থাকলে দেশে কোন
অপরাধ, অন্যায়, অবিচার থাকবে না। সনমান্দি বাসির পক্ষথেকে ওই পুলিশ
কর্মকর্তাকে ধন্যবাদ জানান তিনি।