গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি:
নাটোরের গুরুদাসপুর থেকে ছেড়ে যাওয়া চালভর্তি ট্রাক ১০দিনেও গন্তব্যে
পৌছায়নি। শেষ পর্যন্ত ট্রাকের মালিক গিয়াস উদ্দিনের বিরুদ্ধে চাল
আত্মসাতের অভিযোগ এনে মামলা করেছেন চালের মালিক মোয়াজ্জেম
হোসেন। গতকাল বৃহষ্পতি নাটোরের আমলী আদালত-৩(গুরুদাসপুর)
মামলাটি করেন তিনি।
মামলায় ট্রাকের মালিক গিয়াস উদ্দিন (৫৫) চালক মোঃ সোহেল(২৫) ও
চালকের সহকারি ফজলু হোসেন(২৪) কে আসামী করা হয়েছে (মামলা নং-
সিআর ৪৯/১৭)। মামলার আইনজীবি মো. লোকমান হোসেন বলেন,মামলার
অভিযোগটি তদন্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করার জন্য গুরুাদসপুর
থানার ওসিকে নির্দেশ নিয়েছেন আদালত। ওসি দিলীপ কুমার দাস গতকাল
বৃহষ্পতিবার পর্যন্ত ওই নির্দেশনার কপি হাতে পাননি বলে
এপ্রতিনিধিকে নিশ্চিত করেন।
মামলারনথি ও ক্ষতিগ্রস্থ চাল ব্যবসায়ি মোয়াজ্জেম হোসেনের সাথে
কথাবলে জানাগেছে, তিনি গুরুদাসপুর পৌর শহরে চাঁচকৈড় বাজারে
গতিঘর ভাড়া নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চাল,গম ও রবিশস্যের ব্যবসার সাথে জড়িত
রয়েছেন। তাঁর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নাম মেসার্স শান্ত ট্রেডার্স।
গত ৬ ফেব্রুয়ারি বিকাল ৫টার দিকে ব্যবসায়ি মোয়াজ্জেম হোসেনের
চাঁচকৈড় বাজারের ভাড়াকরা গোডাইন থেকে মামলার প্রধান আসামী
গিয়াস উদ্দিনের ট্রাকে (ট্রাক নং- ঢাকা মেট্রা-ট- ১৪-৬৬৩৪) ৩০৫ বস্তা
মিনিকেট চাল ( প্রতিবস্তার দাম ২হাজার ২৪১ টাকা হিসেবে ৬লাখ ৮৩
হাজার ৫০০ টাকা) পাঠান। প্রেরিত চালের বস্তাগুলো মানিকগঞ্জ জেলার
পাড়াগ্রাম হাটের চাল ব্যবসায়ি হাজী আলা উদ্দিনের কাছে চাল পাঠানো
হয়েছিল। কিন্তু গতকাল বৃহষ্পতিবার পর্যন্ত ওই চালের বস্তাগুলো গন্তব্যে
পৌঁছায়নি। চাল ব্যবসায়ি হাজী আলা উদ্দিন গতকাল মুঠোফোনে
জানান, মামলায় উল্লেখিত ট্রাক নম্বরে পাঠানো কোন চাল তিনি পাননি।
চালব্যবসায়ি মোয়াজ্জেম হোসেন অভিযোগ করেন, চালের বস্তাগুলো সময়মত
গন্তব্যে না পৌঁছায় ট্রাকের মালিককে এবিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি
ট্রাকনষ্ট হওয়াসহ নানা অজুহাত দেখিয়ে সময়ক্ষেপন করেন। বিষয়টি
স্থানীয়ভাবে মিটিয়ে ফেলতে উপজেলা চালকল মালিক সমিতি ও পরে
গুরুদাসপুর থানায় বরাবর লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু গুরুদাসপুর
থানা ও চালকল মালিক সমিতি বিষয়টি আমলে না নেওয়ায় আদালতে মামলা
করতে বাধ্য হয়েছি।
মোয়াজ্জেম আরো অভিযোগ করেন, ইতিপুর্বেও ট্রাক মালিক গিয়াস
উদ্দিনের বিরুদ্ধে আব্দুল মালেক ও রশিদ এগ্রোফুডের দুই ট্রাক চাল চুরির
অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি নাটোর ডিবিপুলিশ-১ (গোয়েন্দা পুলিশ)
অবগত রয়েছেন।
থানায় মামলা না নেওয়ার কারন জানতে চেয়ে গতকাল বৃহষ্পতিবার (সন্ধ্যা
৬.১০মি.) গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দিলীপ কুমারের
মুঠোফোনে তিনবার ফোন করলেও তিনি ফোন ধরেননি। চালকল মালিক
সমিতির সাধারন সম্পাদক সামছুল হক শেখ বলেন, অভিযোগের কপি
পেয়েছি। মালিক সমিতির মিটিং ডেকে অভিযোগের বিষয়টি আলোচনা
করে সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হবে।
মামলার আসামী ও ট্রাক মালিক গিয়াস উদ্দিন দাবী করেন, চালের ট্রাকটি
গন্তব্যে যাওয়ার পথে চালক ও তার সহকারিকে অজ্ঞান করে একটি চক্র চালসহ
ট্রাকটি নিয়েগেছে। এবিষয়ে সাভার মডেল থানায় গত ১০ ফেব্র“য়ারি
একটি মামলা করা হয়েছে ( মামলা নং-১৪)। চালসহ ট্রাকটি উদ্ধারের চেষ্টা
চলছে।