নড়াইল প্রতিনিধি:
নড়াইাল সদর উপজেলার নিভৃত পল্লী বাশগ্রাম ইউনিয়নের নন্দকোল ও আগ্রাহাটি
গ্রাম। এক সময়ে এই দুটি গ্রামে হিন্দু সম্প্রদায়ের বসবাস থাকলেও বিভিন্ন
সময়ে পাশ^বর্তী দেশ ভারতে পাড়ি জমায়। যার কারনে জনশূন্য পড়ে গ্রাম দুটি।
পর্যাক্রমে ওই গ্রাম দুটিতে পাশ^বর্তী গ্রাম ও বিভিন্ন এলাকা থেকে বেশ
কিছু মুসলিম পরিবার বসতি গড়ে তোলে।
এদুটি গ্রাম থেকে জেলা শহরের দূরত্ব ১৫ থেকে ২০ কিলোমিটার। শুষ্ক মৌসুমে
যোগাযোগের যে রাস্তাটি তাও উচঁ-নিচু এবং ভাঙ্গাচোরা। মোটর সাইকেল
চালিয়ে যাওয়া অনেকটাই কষ্টসাধ্য। আর বর্ষাকালে চলাচলের একমাত্র মাধ্যমে নৌকা ও
ডোঙ্গা। এই দুটি গ্রামে এখনও বিদ্যুৎ পৌছায়নি।
নন্দকোল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নাজমুল হাসান লিজা জানান,
এই গ্রামে বসতি পরিবারের সংখ্যা ৩৫টি। ৭৫নং আগ্রাহাটি সরকারী
প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বর্তমান ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা ২২ জন । হতদরিদ্র এসব শিক্ষার্থীরা
স্কুলে আসলেও দুপুরে অভুক্ত থাকায় ক্লাসে মনোযোগ থাকতো না।
বিষয়টি জেলা প্রশাসকের দৃষ্টিগোচর হলে তিনি দুপুরের খাবারের ব্যবস্থার উদ্যোগ
নেন। জেলা প্রশাসক মোঃ হেলাল মাহমুদ শরীফ গত ৩০ জানুয়ারী স্কুলে গিয়ে শিক্ষক
ও অভিভাবকদের সাথে মতবিনিময় করেন। সকল প্রস্তুতি শেষে সোমবার (১৩
ফেব্রুয়ারী) থেকে দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা (মিড ডে মিল) চালু করেন। দুপুরে
শিক্ষার্থীদের হাতে খাবার তুলে দিয়ে মিড ডে মিল কার্যক্রমের উদ্বোধনের
পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মাঝে একটি করে কম্বল বিতরণ করেন।
এসময় নড়াইলের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট মোঃ কামরুল আরিফ, জেলা সমাজ
সেবা অফিসার রতন কুমার হালদার, সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসার আবু হেনা মোঃ
মোস্তফা কামাল, সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার বিনয় কুমার পাল, ভারপ্রাপ্ত প্রধান
শিক্ষক নাজমুল হাসান লিজা সহ অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব
করেন বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি আব্দুল গফফার মিয়া।
অপর দিকে পাশ^বর্তী আগ্রাহাটি গ্রামে বর্তমানে ৪০টি পরিবার বসবাস
করেন। ৭২ নং আগ্রাহাটি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী আছে ৩০ জন।
এ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদেরও দুপুরের খাবারের দায়িত্ব নিয়েছেন জেলা প্রশাসক মোঃ
হেলাল মাহমুদ শরীফ। সোমবার ওই বিদ্যালয়েও মিড ডে মিল কার্যক্রমের উদ্বোধন
করেন জেলা প্রশাসক মোঃ হেলাল মাহমুদ শরীফ। এছাড়া শিক্ষার্থীদের মাঝে কম্বল
বিতরণ করা হয়। এসময় বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি সোহরাব হোসেন
শেখ, প্রধান শিক্ষক আবুল হাসান মিনাসহ অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।
নন্দকোল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আব্দুল গফফার
মিয়া বলেন, ‘ গরীব এই দুটি স্কুলে মিড ডে মিল চালু করার ফলে অভিভাবকরা
খুবই খুশি। এখন থেকে ছাত্রছাত্রীদের দুপুরে না খেয়ে ক্লাস করতে হবে না’। এখন
থেকে স্কুলে উপস্থিতি এবং পড়াশোনাও ভাল হবে বলে তিনি আশাবাদী।