একে.এম নাজিম, হাটহাজারীঃ বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ (বেফাক)এর
কার্যনির্বাহী পরিষদের এক জরুরী সভা গতকাল (২১ নভেম্বর) সোমবার দারুল উলূম
মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদ্ধসঢ়;রাসায় মহাপরিচালকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। সভায়
বেফাকের প্রশাসনিক বিষয়াদি এবং কওমি মাদ্ধসঢ়;রাসা সনদের মানের সরকারী স্বীকৃতি
প্রসঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা হয়। খোলামেলা ও প্রাণবন্ত পরিবেশে বেফাক
কর্মকর্তাগণ আলোচ্য বিষয়ের উপর স্ব স্ব অভিমত প্রকাশ করেন। সভায় বেফাকের
প্রশাসনিক বিষয়ে সর্বসম্মতিক্রমে কিছু গুরুত্বপূর্ণ কিছু সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা
হয়। কওমি মাদ্ধসঢ়;রাসা সনদের মানের সরকারী স্বীকৃতি গ্রহণের ক্ষেত্রে সকল কর্মকর্তা
একমত পোষণ করে বলেন, দারুল উলূম দেওবন্দের ৮ মূলনীতি অক্ষুণœ রেখে মাদ্ধসঢ়;রাসা
পরিচালনায় কোনরূপ সরকারী নিয়ন্ত্রণ এবং সিলেবাসে হস্তক্ষেপ ছাড়া কওমি মাদ্ধসঢ়;রাসার
স্বকীয় বৈশিষ্ট বজায় রেখে বেফাকের মাধ্যমে দাওরায়ে হাদীসের সনদের মান গ্রহণের
বিষয়ে আলোচনা হতে পারে। কোনরূপ প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য সরকারী নিয়ন্ত্রণ এবং কওমি
বৈশিষ্ট ও ভারতের দারুল উলূম দেওবন্দের উসূলে হাসতেগানা বা অষ্ট নীতিমালার সাথে
কোনরূপ আপোষ করে সনদের মানগ্রহণের সুযোগ নেই বলেও সকলে একমত পোষণ করেন।
কওমি সনদের বিষয়ে বেফাকের নীতিগত অবস্থান তুলে ধরার জন্য শীঘ্রই মাননীয়
প্রধানমন্ত্রীর কাছে ১০ সদস্যের বেফাক প্রতিনিধি দল আল্লামা শাহ আহমদ শফীর চিঠি
হস্তান্তর করবেন বলেও সভায় জানানো হয়।
দারুল উলূম হাটহাজারী মাদ্ধসঢ়;রাসার মহাপরিচালক শায়খুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ
শফীর সভাপতিত্বে বেফাক কার্যনির্বাহী পরিষদের সভায় উপস্থিত ছিলেন, আল্লামা
আশরাফ আলী, আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী, আল্লামা হাফেজ মুহাম্মদ জুনায়েদ
বাবুনগরী, মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস ফরিদাবাদ, মাওলানা আব্দুল হামিদ পীর সাহেব মধুপুর,
মাওলানা আনওয়ার শাহ, মাওলানা সাজেদুর রহমান, মাওলানা মুফতী মুহাম্মদ ওয়াক্কাস,
মাওলানা যোবায়ের আহমাদ চৌধুরী, মাওলানা নূরুল ইসলাম, মুফতী নূরুল আমীন,
মাওলানা মুফতী ফয়জুল্লাহ, মাওলানা ছফি উল্লাহ, মাওলানা মাহফুযুল হক, মুফতী ওমর
ফারুক, মাওলানা আনাস মাদানী, মাওলানা ওবায়দুর রহমান মাহবুব, মাওলানা আনোয়ারুল
করীম, মাওলানা ইয়াসীন, মাওলানা মুনীরুজ্জামান, মাওলানা আব্দুর রহমান, মাওলানা নূরুল
হুদা ফয়জী, মাওলানা মুসলেহ উদ্দীন রাজু, মাওলানা মাসউদুল করীম, মুফতী গোলামুর রহমান,
মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম, মাওলানা মোস্তাক আহমদ, মাওলানা আইনুদ্দীন, মাওলানা আব্দুল
হামিদ কুষ্টিয়া, মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস মিরপুর প্রমুখ।
বেফাকের মহাসচিব মাওলানা আব্দুল জাব্বার জাহানাবাদী ইন্তেকাল করায় হাটহাজারী
মাদ্ধসঢ়;রাসায় অনুষ্ঠিত গতকালের (১১ নভেম্বর) কার্যনির্বাহী পরিষদের সভায়
সর্বসম্মতিক্রমে বেফাকের কাউন্সিল অধিবেশন পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে
ঢাকা ফরিদাবাদ মাদ্ধসঢ়;রাসার পরিচালক মাওলানা আব্দুল কুদ্দুসকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
অন্যদিকে বর্তমান সহকারী মহাপরিচালক মাওলানা যোবায়ের আহমাদ চৌধুরীকে
ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালন করতে বলা হয়।
সভায় বেফাকের কেন্দ্রীয় কমিটিতে সহ-সভাপতি পদে অতিরিক্ত আরো ৫ জনকে অন্তর্ভুক্ত
করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। তারা হলেন, মাওলানা সাজেদুর রহমান বি-বাড়ীয়া, মাওলানা
সফি উল্লাহ, মাওলানা নূরুল ইসলাম, মাওলানা আব্দুল হামিদ পীর সাহেব মধুপুর, মাওলানা
আবদুর রব লালবাগ ও মাওলানা মোসলেহ উদ্দীন রাজু।
বেফাকের কার্যক্রম পরিচালনায় আরো স্বচ্ছতা আনয়ন ও সহজতর করার লক্ষ্যে ১৩ সদস্য
বিশিষ্ট উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন একটি বিশেষ কমিটিও গঠন করা হয়। কমিটির সদস্যগণ
হলেন, মাওলানা আশরাফ আলী, মাওলানা আনোয়ার শাহ, মাওলানা মুফতী ওয়াক্কাস, মাওলানা
নূর হোসাইন কাসেমী, মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস ফরিদাবাদ, মাওলানা নূরুল ইসলাম,
মাওলানা সাজেদুর রহমান, মাওলানা মাহফুজুল হক, মাওলানা মুফতী নূরুল আমীন, মাওলানা
আব্দুর রব (লালবাগ), মাওলানা মুহাম্মদ আনাস মাদানী, মাওলানা মুসলেহ উদ্দীন রাজু ও
মাওলানা মুনিরুজ্জামান।
সভায় বেফাকের পক্ষ থেকে আরাকানের রোহিঙ্গা মুসলমানদের উপর মায়ানমার সেনাবাহিনী
ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের লোকজন কর্তৃক বর্বরোচিত হত্যাকান্ড, ধর্ষন, বাড়ি-ঘর পুড়িয়ে
উচ্ছেদসহ জাতিগত নির্মুল অভিযানের বিরুদ্ধে মায়ানমার সরকারের তীব্র নিন্দা ও
কঠোর প্রতিবাদের পাশাপাশি জাতিসংঘ, ওআইসিসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন
ফোরামে রোহিঙ্গা ইস্যু তুলে ধরার জন্যে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি জোর আহ্বান
জানানো হয়। বেফাক কার্যনির্বাহী পরিষদের সভায় বি-বাড়ীয়ার নাসিরনগরসহ দেশের
কয়েকটি স্থানে সংখ্যালঘুদের উপর হামলার ও মন্দির ভাংচুরের ঘটনায়ও উদ্বেগ প্রকাশ করা
হয় এবং সংখ্যালঘুদের স্বাধীনভাবে ধর্মকর্ম পালনসহ তাদের সার্বিক নিরাপত্তা
নিশ্চিতের জন্যে সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
বৈঠকে বেফাকের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে ইন্তিকালের আগে পর্যন্ত মাওলানা আব্দুল জাব্বার
জাহানাবাদির বুদ্ধিমত্তা, ধৈয্য ও আত্মত্যাগের সাথে মহাসচিবের দায়িত্ব পালনকে সভায়
শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করা হয় এবং তাঁর পরিবার ও আত্মী-স্বজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা
প্রকাশ করা হয়। বেফাক নেতৃবৃন্দ মরহুম মাওলানা আব্দুল জাব্বারের কর্মমুখর জীবনের
ইতিবাচক দিক নিয়ে স্ব স্ব অভিমত ব্যক্ত করেন। সবশেষে বেফাক সভাপতি শায়খুল ইসলাম
আল্লামা শাহ আহমদ শফীর পরিচালনায় দোয়া ও মুনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। মুনাজাতে তিনি
দেশ-জাতির কল্যাণ ও রহমত কামনা করেন এবং নির্যাতিত আরাকানী মুসলমানদের জন্যে
বিশেষ দোয়া করেন।