গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি : গোপালগঞ্জ সদর উপজেলায় কুয়াডাঙ্গা
থেকে মানিকদাহ পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার সড়কের বেহাল দশা
হয়ে আছে দীর্ঘ দিন যাবত। কার্পেটিংসহ পাথর কুচি, ইটের খোয়া
উঠে সড়কের মাঝে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতে
সেখানে পানি জমে থাকছে। ভোগান্তিতে রয়েছে পথচারীরা।
মোটরসাইকেল, রিকশা,ভ্যান,ইজিবাইকসহ ছোট ইঞ্জিন চালিত
যানবাহন গুলো চলছে পায়ে হাঁটার রাস্তা (ফুটপাত) দিয়ে।
শহরের কুয়াডাঙ্গা-মানিকদাহ পর্যন্ত ৩-৪ কিলোমিটার সড়কে অসংখ্য
বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে, বিশেষ করে বিসিক ব্রিজের পাশে এবং
শেখ রাসেল শিশু পার্কের উত্তর ও পূর্ব পাশে, শেখ কামাল ষ্টেডিয়ামের
পূর্ব পাশে বড় বড় কত গুলো গর্ত রয়েছে এই স্থানে ছোট বাহন গুলো
মুল সড়ক দিয়ে না গিয়ে পায়ে হাটার রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করে
রিকশা, ভ্যান, মোটরসাইকেলসহ আরো অনেক যানবাহন। পায়েহাটা
রাস্তা দিয়ে চলার একমাত্র কারন এসব জায়গা গুলোতে সামান্য বৃষ্টি
হলেই পানি জমা হয়ে থাকে। এবং ট্রাক, মালবাহীগাড়ী চলায় ওই সব
স্থানের পানি কাদাঁয় পরিনত হয় এবং সেখান দিয়ে ছোট ধরনের ইঞ্জিন
চালিত বাহন গুলো চলতে সমস্যা হয়।
এতে জনসাধারনের ভোগান্তির যেন শেষ নেই। পথচারিদের পায়েহাটা
রাস্তা দিয়ে হাটতে গেলে বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে সেখান দিয়ে ছোট
যান গুলো চলাচল করছে। এতে পথচারীদের দাড়িঁয়ে থাকতে হচ্ছে। শেখ
রাসেল শিশু পার্কের উত্তর পাশে কয়েক বার র্দূঘটনাও ঘটেছে।
অন্য দিকে একই রাস্তার লঞ্চঘাট ব্রিজের পাশে, শেখ ফজিলাতুন্নেসা
মহিলা কলেজ, অডিটরিয়াম,পাবলিক লাইব্রেরি ও পাসপোর্ট অফিসের
সামনে দিয়ে তিন-চার কিলোমিটার রাস্তার বেহাল দশা। রাস্তায় এসব
জায়গায় গর্ত থাকার কারনে ছোট যানবাহন গুলো যেমন জনসাধানের
চলাচলে সমস্যা সৃষ্টি করছে তেমনি নষ্ট করছে পায়ে হাটার পার্শ্ব
রাস্তাও।
মোটরসাইকেল আরোহী মো: নাহিদ ইসলাম পায়ে হাটা রাস্তা দিয়ে
আসছিলেন তার কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিলো কেন আপনি পার্শ্ব
রাস্তা দিয়ে মোটরসাইকেল চালিয়ে আসলেন এখান দিয়েতো মানুষ
হাটে মোটরসাইকের চালালে দূর্ঘটনা ঘটতে পারে?
তিনি বললেন, রাস্তার অবস্থা খুবই খারাপ ওখান দিয়ে মটর সাইকেল
চালানো সম্ভব নয় তাই এখান দিয়ে আসছি।
অটো রিকশা চালক মোহাম্মাদউল্লা তিনি বলেন, রাস্তায় অনেক জায়গা
পানি বেধেঁ আছে তাই ওখান দিয়ে গেলে গাড়ীর চাকা গর্তে পড়ে
আটকে যায় । গাড়ির ইঞ্জিন ও যন্ত্রাংশ ভেঙ্গে বা বিকল হয়ে যেতে পারে
তাই ফুটপাত দিয়ে যাচ্ছি। রাস্তা ভালো না হলে কোন ভাবেই এখান
দিয়ে গাড়ী চালানো যাবে না।
ষ্টোডিয়াম মার্কেটের ব্যবসায়ী রতন বিশ্বাস বলেন, একটু বৃষ্টি
হলেই এখানে পানি বেধেঁ থাকে এবং সেই পানি অনেক দিন যাবত
আটকে থাকে। ই রাস্তা খারাপ হওয়ার কারনে অধিকাংশ যানবাহন গুলো
পায়ে হাটার রাস্তা দিয়ে চলাচল করে। তখন লোকজন পাশে দাড়িয়ে থাকে
গাড়ী যাওয়ার পর তারা হাটতে পারেন। রাস্তায় কার্পেটিং উঠে গিয়ে এ
ধরনের গর্ত তৈরি হয়ে আমাদের সমস্যা হচ্ছে।
এছাড়াও শহরের পুলিশ লাইন-ঘোনাপাড়া রোডে যানজট লেগেই থাকে
অনেক সময় ট্রাফিক পুলিশ এই রাস্তায় যানবাহন পাস করে দেন।
এছাড়াও এই রাস্তা দিয়ে প্রতিনিয়ত ট্রাক, মাইক্রোবাস রিকশা, ভ্যান
, অটোরিকশাসহ অসংখ্য যানবাহন যাতায়াত করে। বিসিক শিল্প
নগরীতে একাধিক কারখানা রয়েছে ওই সকল মালামাল আনা নেওয়ার জন্য
এই রাস্তা ব্যবহার করা হয়ে থাকে। রাস্তাটি বিশেষ প্রজেক্টে মাধ্যমে
২০১৩-১৪ অর্থ বছরে এলজিইডি করেন। যদিও এটি পৌরসভার আওতাভুক্ত।
এর পর থেকে এই রাস্তার কোন কাজ পৌরসভা করেনি।
গোপালগঞ্জ পৌরসভার এক ওয়ার্ড কমিশনার আলিমুজ্জামান বিটু
বলেন, এই রাস্তায় প্রতিনিয়ত অনেক যানবাহন চলাচল করে। রাস্তার কিছু
কিছু স্থানে একটু সমস্যা হয়েছে বিশেষ করে মৌলভীপাড়া থেকে
পাসপোর্ট অফিস পর্যন্ত। তবে এই রাস্তার সংস্কার কাজ খুব দ্রুত শুরু
হবে ইতিমধ্যে টেন্ডার দেওয়া হয়েছে।
গোপালগঞ্জ পৌরসভার নিবার্হী প্রকৌশলী অবিনাশ চন্দ্র সরকার বলেন,
এ সমস্যা সমাধানের জন্য আমরা অতিদ্রুত রাস্তাকে ২০ ফুট প্রশস্ত
এবং পানি যাতে রাস্তায় জমা না থাকতে পারে সে জন্য ড্রেনের ব্যবস্থা
করার পরিকল্পনা রয়েছে এবং সেই সাথে আরো কয়েক কিলোমিটার রাস্তা
বাড়ানোর কথা আমরা চিন্তা করছি। আশা করি ঈদের পরে এই কাজে হাত
দেয়ার ব্যবস্থা করা হবে।