বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:৫৯ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
দেশে কোনো পশু সংকট নেই – সাভারে মন্ত্রী আমিন উর রশিদ সাভার ও আশুলিয়ায় অপরিকল্পিত বাসা বাড়িতে বসবাসে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন জনগণ প্রাণিসম্পদ খাতকে সমৃদ্ধ করতে সরকার-বেসরকারি উদ্যোগ প্রয়োজন – মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী   কুমিল্লার নাগরিক সেবায় নতুন অধ্যায়: গঠিত হচ্ছে ওয়াসা ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নিচে ছোট পাইপ স্থাপনের অভিযোগ আশুলিয়ার জামগড়া ইস্টার্ন হাউজিং বাজারে জলাবদ্ধতায় ব্যবসা-বাণিজ্য স্থবির, ব্যবসায়ীদের প্রতিবাদ গৃহবধূ হত্যা মামলার আসামি র‍্যাবের হাতে গ্রেফতার! আশুলিয়ার বাইপাইল- ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট, চরম দুর্ভোগে জনসাধারণ আশুলিয়ায় কিশোর গ্যাং কতৃক অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র অপহরণের পর হত্যা: ২০ মাস পর লাশ উত্তোলন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সৌদি রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

এক শিকলেই কেটে গেছে চাঁন মিয়ার ২২ বছর

বাংলার প্রতিদিন ডেস্ক ::
  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ৫ এপ্রিল, ২০১৮
  • ১৫৭ বার পড়া হয়েছে

টি.আই সানি,গাজীপুর প্রতিনিধি:
গাজীপুরের শ্রীপুর পৌর এলাকার দক্ষিনপাড়া গ্রামের রেল
লাইন ঘেঁষা ছোট খুপরী ঘরে মাজেদা খাতুনের পাঁচ সন্তান
নিয়ে বসবাস। অভাব পিছু ছাড়েনি এই পরিবারটিতে
কখনও। একটা সময় অভাবের কারনে মাজেদা খাতুনের স্বামী
তাকে ছেড়ে অন্যত্র চলে যান। এখন মাজেদা খাতুনের সবচেয়ে
বড় কষ্ট তাঁর বড় ছেলে চাঁন মিয়াকে ২২ বছর ধরে শিকলে
বেঁধে রেখেছেন। কারন ১৯৯৬ সালের দিকে তাঁর মস্তিস্কের
বিকৃতি ঘটেছে। অনেক কষ্ট করে সন্তানদের মুখে দু
মুঠো ভাত তুলে দেয়ার জন্য সংগ্রাম করতে হয় মাজেদাকে।
ছেলের চিকিৎসার ব্যবস্থা করানোটাই ২২ বছর ধরে স্বপ্নেই
রেখেছেন তিনি।
মাজেদা খাতুন জানান, তাঁরা দীর্ঘ প্রায় ত্রিশ বছর ধরে এই
রেল সড়কের পাশেই রেলের জমিতে খুপরী ঘর তৈরী করে বসবাস
করে আসছেন। তাঁর স্বামী মোস্তফা একজন দিনমুজুর ছিল।
তাদের সংসারের প্রথম সন্তান এই চাঁন মিয়া। তাঁর বয়স
যখন সাতবছর তখনই ময়মনসিংহের একটি মাদ্রাসায় তাকে
হাফেজী পড়ার জন্য ভর্তি করা হয়। কিন্তু ১৯৯৬ সালের দিকে
তাঁর মানসিক সমস্যা তৈরী হয়। পরে আর অর্থাভাবে কোন
ধরনের চিকিৎসা করাতে পারেননি। এসময় থেকেই তাকে
শিকলে বাড়িতে বেঁধে রাখা হচ্ছে। সময় গড়িয়ে চলে
গেছে ২২ বছর।
তিনি আরো জানান, পরে তাদের সংসারে আরো চারজন
সদস্যের জন্ম হয়। কিন্তু অভাবের কারনে একটি সময় তাঁর

স্বামী তাদের ছেড়ে চলে যায়। এর পর থেকেই বিভিন্ন
বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করে কোন রকমে সন্তানদের মুখে ভাত
তুলে দেয়ার চেষ্টা করছেন। বিভিন্ন সময় তাঁর প্রতিবন্ধি
সন্তানের সহযোগিতার জন্য মানুষের দ্বারে দ¦ারে ঘুরছেন।
স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাকে সহযোগীতার আশ্বাস
দিয়েছেন কয়েকবার কিন্তু তা মুখেই সীমাবদ্ধ রয়েছে।
এ বিষয়ে শ্রীপুর পৌরসভার ২ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর
তাজউদ্দিন আহমেদ জানান,হতদরিদ্র পরিবারের এই মানসিক
প্রতিবন্ধি সন্তানই এখন তাদের বড় সমস্যা। এরা সহায়তার
জন্য একবার আমার কাছে এসেছিল। তাদের কিছু কাগজ
জোগাড় করার জন্য বলেছিলাম পরে আর আসেনি।
শ্রীপুর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মনজুরুল হক
জানান, সমাজের অবহেলিত হতদরিদ্র লোকজনের সহায়তায়
সরকারের সামাজিক কর্মসূচী কার্যক্রম চলমান আছে। এই
প্রতিবন্ধির পরিবারকে কর্মসূচীর মাধ্যমে সহায়তা করা
হবে।


প্রিন্ট

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © banglarprotidin.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themebazarbanglaro4451