বেনাপোল প্রতিনিধিঃ
যশোরের শার্শা উপজেলার বাগআঁচড়া সাতমাইল এলাকার রুবা ক্লিনিকে
ডাক্তারের ভুল চিকিৎসায় আয়েশা বেগম (২৭) নামে এক প্রসূতির মৃত্যু
হয়েছে বলে অভিযোগ স্বজনদের।
রোগীর স্বজন বাবু জানান, তার ফুফাতো বোন শার্শা উপজেলার সামটা
গ্রামের আলমগীর ড্রাইভারের স্ত্রী আয়শা বেগমের বুধবার ভোরে প্রসব
বেদনা উঠলে স্বজনরা বাগআঁচড়া সাতমাইল এলাকায় ডাক্তার আহসান
হাবীব রানা ও তার স্ত্রী ডাক্তার জেরিন আফরোজ নিপুর মালিকানাধীন রুবা
ক্লিনিকে ভর্তি করেন। দিনভর দুই ডাক্তার রোগীকে ভুল চিকিৎসা দিতে
থাকেন। এক পর্যায়ে আজ রাত সাড়ে ছয়টার দিকে রোগী আয়েশা মারা
যান। এসময় তড়িঘড়ি করে স্বজনদের ডেকে আয়েশাকে ঢাকায় নিয়ে যেতে
বলেন ডাক্তার। যদিও তার আগেই মারা গেছেন আয়েশা।
স্থানীয় সংবাদ কর্মীরা জানান, এর আগেও এই ক্লিনিকে বাগআঁচড়া
ইউনিয়নের ম্যারেজ রেজিস্ট্রার হাফিজুর রহমানের স্ত্রীর ভুল চিকিৎসায় মারা
যান।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশ সরকারের দি মেডিকেল প্রাকটিস অ্যান্ড
প্রাইভেট ক্লিনিক ল্যাবরেটরিজ রেজুলেশন অর্ডিন্যান্স ১৯৮২ মোতাবেক
বেসরকারি ক্লিনিকে যে সব জনবল, চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং পরিবেশ থাকার
কথা এ ক্লিনিকে তার লেশ মাত্র নেই। দশ বেডের জন্য অনুমতি থাকলেও এ
ক্লিনিকে রয়েছে ৪০টি বেড। যা আইনত দন্ডনীয়। গুরুতর অনিয়ম,
অব্যবস্থাপনা ছাড়াও ক্লিনিকটিতে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ। নেই সিনিয়র স্টাফ
নার্স। প্রত্যšত গ্রাম অঞ্চল থেকে ‘পেটে ভাতে’ মেয়েদর নিযুক্ত করে তাদের
দিয়ে চলে সিনিয়র স্টাফ নার্সের কাজ। ক্লিনিকে অপারেশন থিয়েটরের
অবস্থা আরো শোচনীয়। অপারেশনের জন্য প্রয়োজনী যন্ত্রপাতি, পর্যাপ্ত
অক্সিজেন ও আলোর ব্যবস্থা নেই। অথচ এখানে চলছে বড় বড় সব অপারেশন।
এসব অব্যবস্থা, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং ভুল চিকিৎসার বলি হচ্ছেন সাধারণ
মানুষ।
তবে প্রসূতি মৃত্যুর অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ডাক্তার আহসান হাবীব
রানা। তিনি দাবি করেন, তার ক্লিনিকে রোগী মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।
ডাক্তার আহসান হাবীব রানা জানান, ‘আমি সাময়িক চিকিৎসা দিয়ে
রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য নিয়ে যেতে বলেছি। এলাকার একটি মহল
আমাকে ফাঁসানোর জন্য ষড়যন্ত্র করছে।’
এ ব্যাপারে বাগআঁচড়া পুলিশ তদšত কেন্দ্রের অফিসার ইনচার্জ (ওসি)
হুমায়ন কবীর বলেন, লোকমুখে মৃত্যুর বিষয়টি শুনেছি। তবে কেউ কোনো
অভিযোগ নিয়ে পুলিশে আসেনি। অভিযোগ পেলে তদšতপূর্বক আইনগত
ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’