সালেকিন মিয়া সাগর,চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি:
প্রতি বছর শীত শুরু হওয়ার সাথে সাথে চুয়াডাঙ্গাসহ বিভিন্ন জেলার
উপকুলীয় অঞ্চলে ঝাঁকে ঝাঁকে আসতে শুরু করে অতিথি পাখি। পাখির
কলকাকলিতে মুখরিত হয়ে উঠে উপকুলীয় জেলার হাওরাঞ্চল। উপকুলীয়
বিভিন্ন উপজেলার বড় বড় হাওরের জলাশয়ে খাবারের সন্ধানে প্রতি বছরই
শীত মৌসুমে এসে জড়ো হয় বিভিন্ন প্রজাতির বাঁলি হাঁস,
ল্যা›জা হাঁস, চখা, পাণকৌড়ি, ডাহুক, সরালী ও কাইমসহ শত
প্রাজাতির অতিথি পাখি। এ সকল বিদেশি অতিথি পাখিরা শীতের
তীব্রতা থেকে রক্ষা ও খাবারের সন্ধানে হাজারো মাইল পাড়ি দিয়ে
সাইবেরিয়া থেকে আসে এ সকল উপকুলীয় ও হাওরঞ্চলে। সুদূর থেকে
আসা এ সকল অতিথি পাখি শিকার স¤পুর্ণভাবে নিষিদ্ধ। অথচ এক
শ্রেনীর অসাধু পাখি ব্যবসায়ী ফাঁদ পেতে অতিথি পাখি নিধনে
মেতে উঠে। পাখি শিকারিরা এ সকল পাখি স্থানীয় হাটবাজারে বিক্রি
করছে প্রকাশ্যে। শীতের শুরুতেই এবার অতিথি পাখিদের আগমন শুরু হওয়ার
সাথে শুরু হয়েছে অতিথি পাখি নিধন। এক শ্রেনীর পেশাদার ও সৌখিন
শিকারিরা নির্বিচারে অতিথি পাখি নিধনের মহোৎসব শুরু করেছে।
চুয়াডাঙ্গার জেলার দামুড়হুদা,জিবননগর,আলমডাঙ্গা,চুয়াডাঙ্গা সদর
উপজেলার অধিকাংশ খাল-বিল ও জলাশয় গুলোতে অতিথি পাখি আশ্রয়
নিয়েছে। পাখি শিকার করা আইনত নিষিদ্ধ হলেও এ ব্যাপারে প্রশাসন
কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। অতিখি পাখি
নিধন বন্ধে সচেতনতা সৃষ্টি ও সংশ্লিষ্ট বন্যপ্রাণী দপ্তরসহ পুলিশ
প্রশাসনের হস্থক্ষেপ কামনা করছেন সচেতন মহল।
সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা যায়, প্রতিবছর শীত আসলেই
দেখা মেলে অতিথি পাখিদের। আর শীত শেষ হলই আবার ফিরে যায়
গন্ত্যব্যে। প্রতিবছর এসব অতিথি পাখি আসে সুদূর হিমালয় ও
সাইবেরিয়াসহ শীত প্রধান অঞ্চল থেকে। চুয়াডাঙ্গার চারটি উপজেলার
বিভিন্ন ছোট বড় খাল বিল,হাওর,জলাশয় ও ডোবায় বিপুল পরিমান
অতিথি পাখি আশ্রয় নিয়েছে। কিন্তু এক শ্রেনীর পেশাদার ও সৌখিন
শিকারিরা বিষটোবসহ নানা কৌশল অবলম্বন করে এসব পাখি শিকার
করছে। পাখি শিকারী দামুড়হুদা উপজেলার সীমান্তবর্তী
কার্পাসডাঙ্গা, কুড়–লগাছি,জুড়–ানপুর,মদনা,আন্দুলবাড়িয়া
এলাকার চিহ্নিত অনেক শিকারীরা রাত গভীর হলেই ফাঁদ পেতে,
কারেন্টজাল, বাঁশি বাজিয়ে, বিষটোপ, ছিকল দিয়ে পাখির ডাক
মোবাইলে রেকর্ড করে নানা কৌশলে অতিথি পাখি শিকার করছে। এরপর
পাখিগুলো বিভিন্ন বাজারে হাট বাজারে সুযোগ বুঝে বিক্রি করছে।
তবে ক্রেতারা ও খুব চতুর। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ক্রেতা জানায়,
শিকারীদের সাথে আমাদের যোগ-সাজস রয়েছে। অনেক সময় গোপনীয়
জায়গা থেকেও পাখি কিনতে হয়। আমাদের কাছ থেকে পুলিশ-
প্রশাসনের বড় কর্মকর্তারাও কিনে থাকেন। যার ফলে কোন সমস্যা
হয়না বলে তিনি জানান। পাখিদের মধ্যে রয়েছে কালকুচ পাখি, জলকুচ
পাখি, কড়ই পাখি, আলতি পাখি, ডাক পাখি, বাইল হাস, ডঙ্কুর
পাখি, কান পাখিসহ ইত্যাদি। এসব পাখি জোড়া প্রতি দেড়শত থেকে
শুরু করে ২শত টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।
২০১২ সালর বন্যপ্রাণি (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন অনুযায়ী,
পাখি নিধনের সর্বোচ্চ শাস্তি এক লাখ টাকা জরিমানা, এক বছরের
কারাদন্ড বা উভয় দন্ড। একই অপরাধ আবার করলে শাস্তি ও জরিমানা দ্বিগুণ।
আইন এসব শাস্তির উল্লেখ থাকলেও প্রয়োগকারী সংস্থার ধরা ছোঁয়ার
বাইরে চলে পাখি নিধন। উদাসীন বন বিভাগের নজরে আসেনা এসব
ঘটনা। মন্ত্রীপরিষদ বিভাগ সুত্রে জানা গেছে, অতিথি পাখি নিধন
বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সম্প্রতি জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দেওয়া
হয়েছে। জেলা প্রশাসকরা পুলিশ প্রশাসনের সহায়তা নিয়ে পাখি
নিধন বন্ধে পদক্ষেপ নেবে। এতে সহায়তা করবেন বন বিভাগ। জেলা
প্রশাসকরা স্থানীয় জনগণকে সচেতন করবে পাখি নিধন বন্ধ করতে।
চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রসাশক জিয়াউদ্দীন আহম্মদ বলেন, অতিথি পাখিরা
সুদূর হিমালয় ও সাইবেরিয়াসহ শীত প্রধান অঞ্চল থেকে আমাদের
এলাকায় এসে আশ্রয় নিয়েছে। জীবন বাঁচাতে আসা এসব
পাখিদেরকে শিকার করা দন্ডনীয় অপরাধ বলে আমি মনে করি। তাছাড়া
পাখি নিধন হলে পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি হবে। এ প্রসঙ্গে জেলা
বন্যপ্রাণি ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের কর্মকর্তা বলেন,
অতিথি পাখি নিধন বন্ধে এবার শক্ত পদক্ষেপ গ্রহন করা হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গার বিভিন হাটবাজারে মাইকিং ও বিভিন্ন সভা,পাখির
আবাসপ্রবন উপকুলীয় এলাকার সাধারন মানুষের মাঝে লিফলেট বিতরণ
করে অতিথি পাখি ও কচ্ছপ নিধন বন্ধে সাধারণ মানুষকে উদ্বুদ্ধ করলে
পাখি নিধন বন্ধ করা কিছুটা হলেও সম্ভব। এছাড়াও সাধারন জনগন
সচেতন হলে নির্বিচারে অতিথি পাখি নিধন সম্ভব।