ফরহাদ/হেলাল শেখ ঃ
ঢাকার সাভারে অবহেলিত বেদেপল্লী এখন খুঁজে পেয়েছে এক আলোর পথ। যেখানে বেদেরা ঝাড়ফুঁক, সিংগা
লাগানো, দাঁতের পোকা ফেলা, সাপের লালন পালন ও বিক্রি, মাদক ব্যবসা, মাদক সেবনের টাকা জোগাড় করতে চুরি,
ডাকাতি, ছিনতাই ও চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ডের সাথে জড়িত ছিলো একসময়। ওই গ্রামে
চিরচেনা (ক্রাইম জোন) বেদেপল্লীতে এখন অন্য এক দুনিয়া! সেখানে দিনবদলের ছোঁয়া লেগেছে বর্তমান
সরকারের আমলে এক পুলিশ অফিসারের উদ্যোগে।
বিশেষ করে অবহেলিত বেদেপল্লীর জীবনচিত্র বদলে দেয়ার অসাধ্যকে সাধন করেছেন একজন পুলিশ অফিসার-জনাব
মোহাম্মাদ হাবিবুর রহমান হাবিব, তাহার একান্ত উদ্যোগে বেদে সম্প্রদায়ের বেশিরভাগ মানুষ তাদের নিজেদের
পেশা থেকে সরে আসেন। বিভিন্ন সামাজিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও সমাজকর্মী মহতী এই প্রচেষ্টায়
নিজেদের নিবেদিত করেন। বেদে পরিবারের জন্য বিনামূল্যে কারিগরি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা, প্রাথমিক শিক্ষা,
স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হয়েছে। শত শত বেদে পরিবারের মেয়েদেরকে সেলাই মেশিন কিনে দেয়া হয়েছে। তাদের
বসবাসরত গ্রামের রাস্তাঘাট উন্নয়ন, ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ ও বিভিন্ন চাকরির ব্যবস্থা করা হয়েছে। কিছুদিন
আগে বেদে পরিবারের তিন কন্যার বিয়ে জাঁকজমক ভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। মানব বন্ধু হাবিবুর রহমান
সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি বলেন, শুধু নির্দিষ্ট কোনো এলাকা নয়, ধীরে ধীরে দেশের অন্যান্য
বেদেপল্লীতেও উন্নয়নের ধারাবাহিকতা এগিয়ে যাবে।
বুধবার সরেজমিনে গিয়ে কয়েকজন বেদেপল্লীর বাসিন্দার সাথে আলাপ হয়-তারা বলেন, একজন অভিভাবকের বুকে
একটি পরিবার যেমন পৃথিবীর সবচেয়ে নিরাপদ জায়গা মনে হয়, তেমনি সমাজের অবহেলিত বেঁদে সম্প্রদায়সহ
অসহায় মানুষ ও মুক্তমনা সমাজের সকল পেশার মানুষের বন্ধু পুলিশ অফিসার হাবিবুর রহমান স্যার। হাবিবুর রহমান
কেমন মানুষ? এই প্রশ্নের জবাবে ট্রাফিক পুলিশের (টি এস আই) সাইফুল, পুলিশ অফিসার নেছার এ
প্রতিবেদককে বলেন, হাবিব স্যার খুব ভালো মানুষ। তিনি ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার থাকা অবস্থায় দেশ ও জনগণের
নিরাপত্তায় মানুষের কল্যাণে কাজ করেছেন। তিনি একজন সুন্দর মনের অধিকারী, মা-মাটি ও মানুষের নিয়ে ভাবনার
ধারক বাংলাদেশ পুলিশের আইকন, মানবপ্রেমী সাবেক ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার, বর্তমানে এ্যাডিশনাল
ডিআইজি (সংস্থাপন) জনাব হাজী হাবিবুর রহমান বিপিএম (বার), পিপিএম মহোদয়।

কয়েকজন পুলিশ বলছিলেন, কিছু সাংবাদিক পুলিশের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করতে বেশি আগ্রহ হওয়ার কারণ কি? জানি না। তবে সব
সাংবাদিক খারাপ নয়, সব পুলিশও খারাপ নয়। ১০ বছর আগের পুলিশ আর বর্তমান পুলিশ একরকম নয়। পুলিশ সদস্যরা
এখন বেশিরভাগই সাহসী ও সততার সাথে কাজ করছেন।
উল্লেখ্য কিছু ঘটনা প্রকাশ না করেই নয়, সাংবাদিক হেলাল শেখ, যুবলীগ নেতা রুবেল ও সমাজ সেবক ফারক
ভুঁইয়া মিলিত অবস্থায় ঢাকার জেলার সাভার উপজেলার আশুলিয়া থানার জামগড়ার ভুঁইয়া বাজারের পাশে রিপন সুপার
মার্কেটে একটি চায়না জুয়ার আসরসহ প্রায় ১৫-২০টি লটারী জুয়া বন্ধ করেছেন। জিরানী এলাকা থেকে আটক
করা হয় জুয়ারুদের। আশুলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবদুল আউয়াল কয়েকজন জুয়ারুকে ভ্রাম্যমান
আদালতের মাধ্যমে ১৫ দিন করে সাজা দিয়েছেন। স্থানীয়রা জানান, বর্তমান ওসি আউয়াল সাহেব আসার পর
কোনো প্রকার জুয়া খেলা নেই, তিনি এলাকায় জুয়া বন্ধ করেছেন, কিন্তু মাদক সন্ত্রাসীদের অত্যাচার বেড়ে
গেছে, এর কারণে সাভারের বিভিন্ন এলাকায় চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, খুন, ধর্ষণ, অপহরণ, চাঁদাবাজিসহ
নানারকম অপরাধ বাড়ছে। মাদকের টাকা জোগাড় করতেই এসব অপরাধমূলক কর্মকান্ড করছে মাদকসেবীরা বলে দাবি
সাভারবাসীর। অনেকেই বলছেন, শুধু বেদেপল্লীর উন্নয়নে কাজ করলেই হবে না, পুরো সমাজ থেকে মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত
করতে হবে। দেশ ও জাতির কল্যাণে-লেখক, সাংবাদিক, পুলিশ, আইনজীবি, জনপ্রতিনিধিসহ সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে
কাজ করতে হবে, তাহলেই সমাজটাকে পাল্টানো সম্ভব। সিস্টেম পাল্টাতে পারলে দেশের মানুষ নিরাপত্তায় বসবাস
করতে পারবে বলে অনেকেরই অভিমত।