অনলাইন ডেস্ক ঃ
আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে নড়িয়ার রাজনগরে আওয়ামী লীগের দু‘গ্রুপের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে ইকবাল হোসেন ফকির নামের এক যুবলীগ নেতা নিহত হয়েছেন।
এ সময় অন্তত ২০জন গুলিবিদ্ধসহ আহত হয়েছে ৪০ জন।
আহতদের শরীয়তপুর সদর হাসপাতাল, জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমেপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
নড়িয়া থানা ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া উপজেলার রাজনগর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান ও নড়িয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য জাকির হোসেন গাজীর সঙ্গে একই ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের সভাপতি দাদন মীর বহর ও সাবেক চেয়ারম্যান আলী উজ্জামান মীর মালত গ্রুপের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিন বিরোধ চলছে।
এ নিয়ে গত ১ বছরে অন্তত ১৫ থেকে ২০ বার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে প্রায় ২শতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়।
সর্বশেষ শুক্রবার জুময়ার নামাজের পর জাকির গাজীর সমর্থকরা রাজনগর ইউনিয়নের আন্ধার মানিক বাজারের দাদন মীর মালত ও সোহাগের দোকানে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করে। এ নিয়ে বিকালে উভয় গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে।
এতে রাজনগর এলাকার আমিন ফকিরের ছেলে ও একই ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড যুবলীগ নেতা ইকবাল ফকির গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায়।
তাকে স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় দাদন মীর বহর ও আলীউজ্জামান মালত গ্রুপের সমর্থক রাকিব সরদার, সবুজ মীর বহর, মজিবর মীর মালত, ফারুক মীর মালত, সাগর মীর মালত, আসলাম সরদার,বাবু কাজী,বিল্লাল সরদার, রোমান মীর বহর, ফারুক মীর বহর, হালান মীর মালত, চায়না মীর বহর, সুমাইয়া আক্তারসহ ২০জন গুলিবিদ্ধসহ অন্তত ৪০জন আহত হয়েছে।
এ ব্যাপারে বর্তমান চেয়ারম্যান জাকির গাজী বলেন, আমার তিনজন লোক দাওয়াত খেয়ে বাড়ি ফেরার পথে দাদন মীর বহর ও আলী উজ্জামান মীর মালতের সমর্থকরা মারধর করে। এর পর আমার সমর্থক হাবু মোল্যার বাড়ি ভাংচুরসহ তাকে গুলি ছোঁড়ে। এ নিয়ে সংঘর্ষ হয়।
রাজনগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি দাদন মীর বহর বলেন, চেয়ারম্যান গাজীর লোকজন আমার সমর্থকদের দোকান লুটপাট, হামলা ও ভাংচুর চালায়। এতে আমার সমর্থক যুবলীগ নেতা ইকবাল ফকির গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান।
নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসলাম উদ্দিন বলেন, আওয়ামী লীগেরে দুই গ্রুপের আধিপত্য নিয়ে সংঘর্ষ বাঁধে। এতে একজন নিহতসহ কয়েকজন আহত হয়েছে।