রামগঞ্জ প্রতিনিধি :
রামগঞ্জ উপজেলার নোয়াগাঁও ইসলামীয়া আলিম মাদ্রাসার জামে মসজিদের
খতিব মাওলানা আবু ইউসুফকে লাঞ্চিত করার প্রতিবাদে শনিবার সকাল
দশটায় মাদ্রাসার শ্রেণী কক্ষে তালা জুলিয়ে দেয় উত্তেজিত শিক্ষার্থীরা। এ
সময়ে শিক্ষার্থীরা দুর্বৃত্তদের শাস্তিদাবীতে মিছিল করেন। সংবাদ পেয়ে
থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করেন।
জানাযায় নোয়াগাঁও ভ’ইঁয়া বাড়ির বাসিন্দা মরহুম জাকির হোসেন
ভ’ঁইয়ার পরিবারের অনুরোধে শুক্রবার জুম্মায় নামাজ শেষে মসজিদের খতিব
মরহুমের আত্মার মাগফেরাতের কামনা করে দোয়া করেন। মরহুমের দোয়ার
প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় আ’লীগের সাবেক উপ-কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক
ও নোয়াগাঁও ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসার সভাপতি এমএ মমিন
পাটোয়ারী ক্ষীপ্ত হয়ে খতিব আবু ইউসুফকে মাদ্রাসার একটি শ্রেণী
কক্ষে নিয়ে বেদম মারধর করেন। এ সময়ে মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক আবুল
কাশেম বাধা দিলে তাকে ও মারধর করেন। ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়লে মাদ্রাসার
শিক্ষার্থীরা ক্ষীপ্ত হয়ে শনিবার সকাল দশটায় মাদ্রাসার শ্রেণী কক্ষে তালা
জুলিয়ে শিক্ষক লাঞ্চিতের বিচার দাবীতে মিছিল করেন।
জানাযায় মরহুম জাকির হোসেন ভ’ইঁয়া জীবদ্দসা ফ্রান্সে আ’লীগের
সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। গত দু’বছর আগে তিনি ফ্রান্সে ইন্তেকাল
করেন। শুক্রবার মরহুমের দ্বিতীয় মৃত্যু বার্ষিকীতে স্বজনদের অনুরোধে খতিব
দোয়া কামনা করেন।
গুরুতর আহত খতিব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্য্র ভর্তি হয়েছে। খতিব আবু
ইউসুফ নোয়াগাঁও আলীম মাদ্রাসার ধমীয় শিক্ষক ও মাদ্রাসার জামে
মসজিদের খতিব হিসেবে দায়িত্বে রয়েছে।
আহত খতিব আবু ইউসুফ জানান মরহুম জাকির হোসেন ভ’ইয়ার স্বজনদের
অনুরোধে তিনি জুম্মার নামাজ শেষ করে মরহুমের জন্য দোয়া করেন। নামাজ
শেষে মাদ্রাসার সভাপতি ও আ’লীগ নেতা মাদ্রাসার একটি শ্রেণী কক্ষে
তাকে নিয়ে তাপ্পড়,লাথি,কিল গুষি দিতে থাকে। এ সময়ে বাধা দিলে সহকারী
শিক্ষক আবুল কাশেমকে মারধর করেন। চিৎকার শুণে ইউপি চেয়ারম্যান
মোহাম্মদ হোসেন রানাসহ গ্রামবাসি তাঁকে উদ্ধার করেন। ঘটনাটি
জানাজানি না করার জন্য মমিন পাটোয়ারী ও ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ
হোসেন রানা তাকে হুমকিও দেয়।
মসজিদের সভাপতি অধ্যক্ষ মাওলানা মফিজ মিয়া,সাধারণ সম্পাদক বিলাল
হোসেন জানান মাদ্রাসার সভাপতি দায়িত্ব থেকে শিক্ষকে লাঞ্চিত ঘটনায়
সুস্থ বিচার দাবী করেন।
অভিযুক্ত মমিন পাটোয়ারী জানান মাওলানা ইউসুফ বিভিন্ন সময়ে সরকার
বিরোধী কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। সংবাদ পেয়ে আমি তাঁকে সর্তক করে
দিয়েছি। মারধর, মৃত্য ব্যাক্তি ঘটনাটি অসত্য ও বানোয়াট।
ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোসেন রানা জানান ঘটনাটি অনাকাঙ্গিত।
সৃষ্ট ঘটনা নিরসণের আশ্বস্থ করেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ আবু ইউসুফ জানান ঘটনাটি
তিঁনি জানতেন না। ঘটনা সত্য হলে অপরাধীকে শাস্তি পেতে হবে।