বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ০৩:২৬ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
দেশে কোনো পশু সংকট নেই – সাভারে মন্ত্রী আমিন উর রশিদ সাভার ও আশুলিয়ায় অপরিকল্পিত বাসা বাড়িতে বসবাসে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন জনগণ প্রাণিসম্পদ খাতকে সমৃদ্ধ করতে সরকার-বেসরকারি উদ্যোগ প্রয়োজন – মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী   কুমিল্লার নাগরিক সেবায় নতুন অধ্যায়: গঠিত হচ্ছে ওয়াসা ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নিচে ছোট পাইপ স্থাপনের অভিযোগ আশুলিয়ার জামগড়া ইস্টার্ন হাউজিং বাজারে জলাবদ্ধতায় ব্যবসা-বাণিজ্য স্থবির, ব্যবসায়ীদের প্রতিবাদ গৃহবধূ হত্যা মামলার আসামি র‍্যাবের হাতে গ্রেফতার! আশুলিয়ার বাইপাইল- ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট, চরম দুর্ভোগে জনসাধারণ আশুলিয়ায় কিশোর গ্যাং কতৃক অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র অপহরণের পর হত্যা: ২০ মাস পর লাশ উত্তোলন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সৌদি রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

ঝিনাইদহে পিতার দ্বারা নির্যাতনের শিকার ৪ সন্তান মাকে নিয়ে বাড়ি ফিরেছে

বাংলার প্রতিদিন ডেস্ক ::
  • আপডেট সময় শনিবার, ২২ জুলাই, ২০১৭
  • ১৮১ বার পড়া হয়েছে

 

মোস্তাফিজুর রহমান উজ্জল,ঝিনাইদহ প্রতিনিধি:
ঝিনাইদহে পিতার দ্বারা শারীরক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন তারই
১৯ বছরের প্রতিবন্ধ কন্যাসহ ৪ সন্তান। স্ত্রীর যৌতুকের কারণে সন্তানদেরকেও
মারধর করা হতো। বর্ববর ও নির্মম এই ঘটনাটি ঘটেছে ঝিনাইদহ সদর
উপজেলার বেতাই চন্ডিপুর গ্রামে। পুলিশ লম্পট পিতা বজলুর রহমানকে গ্রেফতার
করেছে। প্রতিবন্ধির মা গৃহবধু সাবিনা ইয়াসমিন (৪০) এ ঘটনায়
ঝিনাইদহ সদর থানায় একটি মামলা করেছেন। বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন
সংস্থার ঝিনাইদহ ইউনিটের সভাপতি সাংবাদিক আমিনুর রহমান টুকু খবরের
সত্যতা নিশ্চত করে জানান, ১৯৯২ সালে সদর উপজেলার ডাকবাংলা মাগুরাপাড়া

গ্রামের এহসানুল হকের মেয়ে সাবিনার বিয়ে হয় বেতাই চন্ডিপুর গ্রামের
মৃত রমজান কাজীর ছেলে মোঃ বজলুর রহমানের সাথে। বিয়ের সময় বজলুকে নগদ
এক লাখ টাকা দেওয়ার কথা থাকলেও যৌতুক হিসেবে পঞ্চাশ হাজার টাকা
পরিশোধ করা হয়। পরবর্তীতে বাকি পঞ্চাশ হাজার টাকা ও পিতার ফারাজের জমি
বিক্রি করে সাবিনা খাতুন ২০১৪ সালে আরো দুই লাখ টাকার যৌতুক দেয়
বজলুকে। এরপরও থামেনি নারী লোভী, লম্পট ও চরিত্রহীন বজলুর লালসা। নারী
নির্যাতনকারী বজলুর বিরুদ্ধে বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার
ঝিনাইদহ ইউনিটের সহযোগিতায় চার সন্তানের জননী সাবিনা বাদী হয়ে
আদালতে মামলা করেন। প্রায় ৩ বছর মামলা চলার পর বজলুর রহমানের খপ্পরে পড়ে
সাবিনা মামলা তুলে পুনরায় সংসার করার স্বপ্ন দেখে। কৌশলে মামলা তুলে
লম্পট বজলুর রহমান আবার নির্যাতন শুরু করে স্ত্রী ও কন্যাদের উপর। এমনকি বজলুর
অসভ্য আচরণের শিকার হতে বাদ পড়েনি তার ১৯ বছরের প্রতিবন্ধী কন্যা শারমিন।
মানবাধিকার কর্মী আমিনুর রহমান টুকু জানান, বাবা হয়ে প্রতিবন্ধী কন্যার
সাথে এমন অসভ্য বর্বর আচরণ দেখে ফেলে স্ত্রী সাবিনা ও মেজ মেয়ে শারজিনা
খাতুন। তারা ঘটনার প্রতিবাদ করেন। শুরু হয় স্ত্রী সন্তানদের উপর নতুন করে
নির্যাতন। গত ১৩ জুলাই বিকালে স্ত্রী সন্তানদের ঘরে আটকিয়ে চরমভাবে
শারিরিক ভাবে নির্যাতন করে এবং সন্ধ্যার দিকে তাদের বাড়ি থেকে বের করে
দেয় বজলুর রহমান। নিরুপায় হয়ে গৃহবধু সাবিনা ৪ টি সন্তান নিয়ে রাতে
মানবাধিকার সংস্থার ঝিনাইদহ অফিসে আসেন। সংস্থার ঝিনাইদহ ইউনিটের
সভাপতি আমিনুর রহমান টুকু ও কর্মী বাবলু কন্ডু ভিকটিমদের নিয়ে
ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তির ব্যবস্থা করেন। তিন দিন হাসপাতালে
চিকিৎসা শেষে সংস্থার অফিসে রাখা হয়। নির্যাতিত ভাসমান পরিবারটিকে
আইনী সহায়তা এবং বাড়ি দিতে মানবাধিকার কর্মী বাবলু কুন্ডু ও
মেহেরুনেছা (মিনু) ভিকটিমদের নিয়ে গত মঙ্গলবার সদর থানায় যান।
ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এমদাদুল হক শেখ বিষয়টি শুনে
তাৎক্ষনিক একটি এজাহার মামলা হিসেবে গ্রহন করেন এবং আসামী বজলুকে
গ্রেফতারের ব্যবস্থা করেন। এই মামলায় এখনো ৩ জন আসামী গ্রেফতার বাকী
আছে। পুলিশী সহায়তায় নির্যাতিত পরিবারটি নিজ বাড়িতে ফিরেছে।
বিষয়টি নিয়ে ঝিনাইদহ সদর থানার ওসি এমদাদুল হক শেখ জানান, পরিবারটির
উপর ব্যপক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়েছিল সত্য তবে প্রতিবন্ধি
কন্যার উপর পিতার অসভ্য আচরণের ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। তিনি জানান, এক
বছর আগে নাকি এমন কিছু এটা ঘটেছিলো। আমরা তদন্ত করে দেখছি।
তদন্তে অগ্রগতি পেলে কঠোর আইনী ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে ওসি জানান।


প্রিন্ট

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © banglarprotidin.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themebazarbanglaro4451