গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি : গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে
অবিরাম বর্ষণে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে তলিয়ে গেছে বোরো
ধান ও পাটক্ষেত। নবনির্মিত কাশিয়ানী-গোপালগঞ্জ-
টুঙ্গীপাড়া রেল সড়কে অপরিকল্পিত ভাবে কালভার্ট
নির্মাণের কারণে এ জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এতে
উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে উপজেলার শতাধিক কৃষক।
গতকাল সরেজমিনে উপজেলার রাতইল ইউনিয়নের রেললাইন
সংলগ্ন এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, অপরিকল্পিত ভাবে রেল
সড়কে কালভার্ট নির্মাণ করায় বৃষ্টির পানি নিস্কাশন না
হওয়ায় প্রায় ২০ একর জমির ধান ও পাট ক্ষেতে পানি জমে
জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। পানির নিচে তলিয়ে গেছে
বোরো ধান ও পাট ক্ষেত।
উপজেলার রাতইল গ্রামের কৃষক নুর ইসলাম বলেন,
নবনির্মিত রেললাইনের কারণে আমার প্রায় ২ বিঘা পাট
ক্ষেতে পানি জমে নষ্ট হয়ে গেছে।
একই গ্রামের কৃষক বাদশা মোল্লা বলেন, নিচু জায়গায়
ব্রিজ নির্মাণ না করে উঁচু জায়গায় করেছে। যার কারণে
বৃষ্টির পানি সরতে না পেরে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে আমাদের
ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।
এদিকে, এবার কৃষকরা সহজ মূল্যে সার ও কীটনাশক ক্রয়
করে প্রয়োগ করেছেন। ফলে বোরো ধানের বাম্পার ফলনের
আশা করা হলেও গত কয়েক দিনের অবিরাম বর্ষণে উপজেলার
নিম্নাঞ্চলের প্রায় উঠতি বোরো ধানেরও ব্যাপক ক্ষতি
হয়েছে। বোরো ধানের বাম্পার ফলনের আশা করা হলেও চলতি
আবহাওয়ায় মাঠ ভরা পাকা ধান নিয়ে গভীর উদ্বিগ্ন
কৃষকরা। আগামী সপ্তাহ থেকে উপজেলার বিভিন্ন
এলাকায় বোরো ধান কাটা শুরু হবে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন
এলাকায় ধান কাটার শ্রমিকরা চলে এসেছেন। এমতাবস্থায়
বিরুপ আবহাওয়ার কারণে পাকা ধান কাটা ও মাড়াই নিয়ে
উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে কৃষকরা।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর ১১
হাজার ৫ শ’ ৫০ হেক্টর বোরো ধানের লক্ষ্য মাত্রা নির্ধারণ করা
হয়েছে। যা গত বছরের তুলনায় ২৫০ হেক্টর বেশি।
কাশিয়ানী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রসময়
মন্ডল জানান, এবার মাঠ পর্যায় বোরো ধানের বাম্পার ফলন
লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কিন্তু মৌসুমের শুরুতে প্রতিকূল
আবহাওয়ায় উৎপাদনের লক্ষ্য মাত্রা নিয়ে সংশয় রয়েছে।