শিক্ষিত বেকার যুবক হেলাল উজ্জামান ফকির। চাকুরী
খোঁজার ব্যর্থ চেষ্টা চালিয়ে পাড়ি জমায় বিদেশ ।
সেখানেও প্রতারিত হয়ে ফিরে আসে দেশে। দেশে ফিরে
সমস্ত হতাশা ঝেড়ে ফেলে দেশের মাটিতে সোনা ফলাবার
উদ্যোগ নেয়। শুরু করে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ও সবজি
চাষ প্রকল্পের। রাসায়সিক সার মুক্ত সবজি ও গ্রোধ
হরমোন ছাড়াই মাছ চাষ করে এখন যুবক হেলাল উজ্জামান
ফকির সফলতা ও স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন।
বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার পৌরসভার ২ নং
ওয়ার্ডের বাসিন্দা হেলাল উজ্জামান ফকির। পিতা মজিবর
রহমান ফকির। হেলাল উজ্জামান তার স্বপ্ন বাস্তবে রূপ দিতে
বারইখালী ইউনিয়নের চৌধুরি কাছারিবাড়ি এলাকায়
২০১৪ সালে ২ একর এবং ২০১৫ সালে সাড়ে ৪ একর জমি
লিজ নেয়। সেখানে বিভিন্ন প্রজাতির সবজি ও মাছ
চাষের জন্য পুকুর ও সবজি চাষের জন্য জমি তৈরীর কাজ শুরু
করেন ঝিদনি মৎস্য চাষ প্রকল্প-১ ও ২ নামে দু’টি প্রকল্প।
প্রকল্প দুটির জমির দুই পুকুর পাড়ের জমিতে পেঁপে, লাউ,
মিষ্টি কুমড়া, সিম, বরবুটি, বেগুন, শসা, খিড়াই,
টমেটো, বাঙ্গি, মরিচ, ঢেড়স, পালং শাক, করলা, মালঞ্চ,
লালশাক, ডাটা শাখ, চাষ কলমি, সহ নানা প্রজাতির
সবজির চাস করে। এসব চাষে মাটির উর্বরতার জন্য জৈব
সার প্রয়োগ করেন। তিনি কোন সবজিতে কিটনাশক
কিংবা রাসায়নিক সার ব্যবহার করেন না। যার কারনে
পাইকারী, খুচরা গ্রাহক ও গ্রামের বিভিন্ন পরিবারের
লোকজন তার প্রকল্পে এসে প্রয়োজনীয় জিনিস ক্রয়
করেন। পার্শ্ববর্তী পুকুরে চাষ করা হয়েছে দেশি শিং
মাছ ২ লক্ষ, ১ লক্ষ ২০ হাজার মনোসেক্স তেলাপিয়া সহ মিশ্র
কার্প জাতীয় মাছ্ধসঢ়; ।
সফল চাষী হেলাল উজ্জামান জানান, ইতোমধ্যে এ বছর ৫
টন তেলাপিয়া, ২ টন রুই, ৫শ’ কেজি পাঙ্গাস মাছ ৮ লক্ষ
টাকা ও ১ লক্ষ ৮০ হাজার টাকার সবজি বিক্রি করা হয়েছে।
এখনো ২টি প্রকল্পে বিক্রির অপেক্ষায় ১৫ টন মাছ মজুদ
আছে। ফাল্গুন মাসে এসব মাছ বিক্রি হবে। সফল
উদ্যোগতা হিসেবে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা অনুপম
রায়, তার প্রকল্পে ১০ ওয়ার্ডের সেলার সিষ্টেমের পোকা
দমনের আলোর ফাঁদ প্রদান করেন। হেলাল উজ্জামান পোকা
দমনে সেক্স ফ্রেমন ফাঁদ ব্যবহার করেন। উপজেলা কৃষি ও
মৎস্য কর্মকর্তা এ প্রকল্প পর্যবেক্ষন করেন এবং বিভিন্ন
পরামর্শ দেন। ৪ জন কর্মচারী মাসিক ৫ হাজার টাকা করে
বেতনে তার প্রকল্পে সার্বক্ষনিক তদারকি করেন। এ প্রকল্পের
সার্বিক সহযোগিতায় ইয়ন এগ্রো গ্রুপের
মার্কেটিং এক্সিকিউটিভ মো. খায়রুল ইসলাম ও
সিনিয়র মার্কেটিং অফিসার নেপাল হালদার প্রতি
মাসে ২বার তার প্রকল্পের মাছের ও সবজির রোগ বালাইয়ের
নাসিং ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করেন।
এ প্রকল্পে উপজেলা কৃষি অফিস থেকে জমি চাষের জন্য
তাকে বিনামূল্যে ইরি বীজও ধান প্রদান করেছে।
বর্তমানে পতিত জমিতে ইরি চাষের কার্যক্রম চলছে। সফল
চাষি হেলাল উজজামান জানান, প্রতি বছর তার এই প্রকল্প
থেকে খরচ বাদে ৫-৮ লক্ষ টাকা আয় করা সম্ভব। সরকারি বা
বেসরকারি সংস্থার আর্থিক সহায়তা পেলে তার প্রকল্পের
উন্নয়ন এবং নতুন প্রকল্প করে অত্র এলাকার দেশিও প্রযাতির
মাছ, শাক সবজির চাহিদা পূবন করে দেশের উন্নয়নে
তিনি ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবেন। তার এ প্রকল্পটি
বেকার যুবকদের অনুপ্রানিত করবে বলে সফল চাষি হেলাল
উজ্জামান ফকির আশাবাদি।