হরিণাকুন্ডু (ঝিনাইদহ) থেকে ফিরে ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ
ছুটি না নিয়েই একাধারে দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন
ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডু সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার। এতে
অফিসের কাজকর্ম চরমভাবে বিঘিœত হচ্ছে।
সূত্রে জানা গেছে, সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার হিসেবে প্রায়
তিন বছর আগে হরিণাকুন্ডুতে যোগদান করেন এস এম নূর-এ এলাহী।
যোগদানের পর থেকেই তিনি নানা বিতর্কের জন্ম দিয়ে আলোচনায় উঠে
আসেন। শিক্ষকদের সাথে খারাপ আচরন, অহেতুক শিক্ষকদের শোকচ করা,
শিক্ষকদের হুমকি দেয়া, শিক্ষকদের নামে ডিডি করা ও ক্লাষ্টার মিটিংয়ে
শিক্ষকদের জন্য বরাদ্ধকৃত টাকা কম দেয়াসহ নানাবিধ অনিয়মের অভিযোগ
উঠেছে এ শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।
একজন সহকারী শিক্ষককে বিনা কারনে বদলী করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে
উঠে আসেন তিনি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলার একাধিক শিক্ষক জানিয়েছেন ওই
কর্মকর্তা আমাদের সাথে কারনে অকারনে খারাপ আচরন করে থাকেন।
শিক্ষকদের মধ্যে গ্রুপিং সৃষ্টি করে ফায়দা লুটে থাকেন এ কর্মকর্তা।
উপজেলার শিক্ষকদের নিয়ে রাজনীতিও করে থাকেন তিনি। একমাস অর্জিত
ছুটি নেয়ার পরও কিভাবে ওই কর্মকর্তা একধারে কর্মস্থলে অনুপস্থিত
রয়েছেন তা নিয়ে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন।
এক নাগাড়ে অফিসে অনুপস্থিত থাকায় অফিসের কাজকর্ম চরম ভাবে
বিঘিœত হচ্ছে। একজন শিক্ষককে দিয়ে অফিসের তার কাজগুলো করানো
হচ্ছে। ওই কর্মকর্তাকে নিয়ে অনেক গুজবও শোনা যাচ্ছে। শিক্ষকরা ওই
কর্মকর্তার খুটোর জোর নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। সম্প্রতি একজন
সহকারী শিক্ষককে কারন ছাড়াই তিনি শোকচ করেছেন।
নুর-এ এলাহী শিক্ষকদের প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও বিভাগীয়
উপ-পরিচালকের ভয় দেখান। তিনি কেন এ দু’জন কর্মকর্তার ভয় দেখান এটি
এখন সাধারন শিক্ষকদের কাছে প্রশ্ন হয়ে দাড়িয়েছে।
এছাড়া ২০১৫ সালের বার্ষিক পরীক্ষার সহ-পাঠ্যক্রমিক প্রশ্নে ২০১৬ সালের ১ম
সাময়িক পরীক্ষা নেন সহকারী শিক্ষা অফিসার এস এম নুর-এ এলাহী। হাতে
লেখে এবং ফটোকপি করে পরীক্ষা নেয়া হয়। প্রায়ই শিক্ষকদের রান্না করে
খাবার নিয়ে আসতে বলেন তিনি।
দীর্ঘদিন ধরে একই কর্মস্থলে থাকায় পূর্বেও এ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নানা
প্রকার অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। এক নাগাড়ে এক উপজেলায় চাকরী করার
সুবাদে তিনি কোন কিছুকেই তোয়াক্কা করেন না। এসব বিষয়ে সহকারী
শিক্ষা অফিসার এসএম নুর-এ এলাহীর কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি ফোন
রিসিভ করেন নি।
কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে উপজেলা প্রাথমিক
শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মনোয়ার হোসেন রঞ্জু বলেন, ২৯ জুন নূর-এ
এলাহী মৌখিক ভাবে আমাকে জানিয়েছেন। তবে তিনি কোন লিখিত
আবেদন দেন নি অফিসে। কবে অফিসে আসবেন তাও তিনি বলতে পারছেন
না।
তবে এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আতাউর রহমান জানান,
লিখিতভাবে ছুটি না নিয়ে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকলে ওই কর্মকর্তার
বিরুদ্ধে শোকজ করাসহ প্রয়াজনীয় আাইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
বিষয়টি বদলীসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উর্দ্ধতন কর্তৃক্ষের
হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন হরিণাকুন্ডুর শিক্ষকবৃন্দ।