মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬, ০২:২৮ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে প্রবাসীদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করছে সরকার – ইরান-ইসরাইল যুদ্ধে নিহত প্রবাসীর জানাযায় প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী ভূমিকম্প পরবর্তী উদ্ধার অভিযানে ঢাকা মহানগরে ১ লাখ স্বেচ্ছাসেবক তৈরি করা হচ্ছে-দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী ঠাকুরগাঁওয়ে দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা, এসপি বরাবর অভিযোগ মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নিরসনে দোয়ার অনুরোধ ধর্মমন্ত্রী কায়কোবাদের খালে মাছের চাষ ও খালপাড়ে গাছ লাগানো হবে- আসাদুল হাবিব দুলু এমপি  ওসমান হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সালসহ ভারতে গ্রেপ্তার ২ এবার স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষ্যে কোনো আলোকসজ্জা করা হবে না- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাগেরহাটের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের সংবর্ধনা ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক দল  চট্টগ্রাম মহানগর প্রস্তুতি কমিটির আনন্দ শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত চট্টগ্রামে যুবলীগ ক্যাডার একাধিক হত্যা মামলার আসামী টেডি দিদার খুন

পীরগঞ্জ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ 

জাকির হোসেন,  ঠাকুরগাঁও
  • আপডেট সময় শুক্রবার, ৬ মার্চ, ২০২৬
  • ৮ বার পড়া হয়েছে

 

ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ পীরগঞ্জ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শাহজালাল সাজুর বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ উঠেছে।

 

গত বুধবার ৪ ফেব্রুয়ারি জনৈক এক ব্যক্তিকে দিয়ে জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর একটি মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করিয়ে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে সংবাদ প্রচার করে তার সম্মান হানি করার প্রচেষ্টা করছে একটি স্বার্থান্বেষী মহল। সেই অভিযোগের কোন সত্যতা নেই বলে দাবি করেছেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শাহাজালাল সাজু।

 

তিনি জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আবেদনের প্রেক্ষিতে তৎকালীন প্রধান শিক্ষক মফিজুল হককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

পরবর্তীতে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রমিজ আলমের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ও নিয়মতান্ত্রিক ভাবে আমাকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া হয়। আমি এখন পর্যন্ত নিষ্ঠার সহিত দায়িত্ব পালন করে আসছি।

 

আমার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বিদ্যালয়টির ৬৫টি দোকান ঘরের ভাড়া আদায়ে অনিয়ম করছেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক। তিনি নিজ ও পরিবারের সদস্যদের নামে তিনটি দোকানঘর নামমাত্র ভাড়ায় বরাদ্দ নিয়ে অধিক ভাড়ায় অন্যের কাছে প্রদান করে আর্থিক সুবিধা হাতিয়ে নিচ্ছেন। আসলে এই তথ্যটুকু সর্ম্পূণ ভুল ৬৫টি দোকানের ভাড়া সরাসরি জনতা ব্যাংকের একাউন্টে জমা করার মাধ্যমে পরিশোধ করা হয় আমার হাত দিয়ে আমি কোন ভাড়া গ্রহণ করিনা। এবং আমার নামে যে তিনটি দোকান বরাদ্দ নেয়া আছে সেগুলোর ভাড়া ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত নিয়মতান্ত্রিক ভাবে ভাড়া পরিশোধ করা আছে।

 

এছাড়া শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের ৩১ জুলাই ২০২৩ তারিখের প্রজ্ঞাপন অমান্য করে এমপিওভুক্ত শিক্ষক হয়েও বিদ্যালয় ফান্ড থেকে সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে বেতন গ্রহণ এবং অন্যান্য এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের প্রায় ১৬ লাখ টাকা লোকাল বেতন প্রদান করার বিষয়টি সঠিক নয়। পীরগঞ্জের সাবেক ইউএনও তাছবীর হোসেনের বদলির দিন বিদ্যালয় ফান্ড থেকে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের ছয় মাসের বেতন পরিশোধ করা হয়েছে এটা সঠিক তবে নিয়মতান্ত্রিক ভাবে তাদের সীমিত বেতন দেয়া হয়েছে কাউকে ২ হাজার টাকা কাউকে ২ হাজার ২’শ টাকা করে দেয়া হয়।

 

প্রভাতি শাখা বা খন্ডকালীন চাকরিচ্যুত ১০ জন শিক্ষকের বকেয়া বেতন পরিশোধের বিষয়ে যদি বলি, আমি যোগদান করার পর ২০২৩ সালের মার্চ মাস থেকে অক্টোবর পর্যন্ত মোট ৮ মাস তাদের বেতন পরিশোধ করি। পরে তাদের বেতন তৎকালীন ইউএনও ও বিদ্যালয়ের সভাপতি রকিবুল হাসানের নির্দেশে বন্ধ করা হয়। পরের ইউএনও তাছবির হোসেনকে আমি অনেক অনুরোধ করার পরেও তিনি বেতন বেতন না দেয়ার নির্দেশ দেন।

 

এসএসসি ২০২৫ পরীক্ষার কেন্দ্র ফি থেকে আদায়কৃত অর্থের ১৫ শতাংশ ভ্যাট দেখিয়ে অর্থ আত্মসাৎতের বিষয়টি বিদ্যালয়ের নয়। এটি ইউএনও বা সভাপতির বিষয়।

 

এবং ব্যবহারিক পরীক্ষার আয় থেকে যন্ত্রপাতি ক্রয়ের নামে কোন অর্থ তছরুপ করা হয়নি এই অভিযোগটি সর্ম্পূণ ভুয়া।

 

এছাড়াও ২০২৫ সালে একটি প্রকাশনীর কাছ থেকে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা গ্রহণ করে পিকনিক খাতে ৬০ হাজার টাকা ব্যয় দেখিয়ে অবশিষ্ট টাকা আত্মসাতের বিষয়টি ভিত্তিহীন বানোয়াট। বিদ্যালয়ের উন্নয়ন কার্যক্রমে প্রতিটি কাজের আয় ব্যয়ের সম্পূর্ণ হিসাব কিতাব আছে।

 

আমার বিরুদ্ধে ছাত্রীকে যৌণ হয়রানির অভিযোগে করা হয়েছে। যা একটি কাল্পনিক কাহিনী আমার চরিত্রে এ ধরনের কোন ইতিহাস নেই। আমার চরিত্র হননের চেষ্টা করা হচ্ছে।

 

এছাড়া শিক্ষক-কর্মচারীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, পছন্দের ব্যক্তিদের অতিরিক্ত শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ, ভোকেশনাল শাখার এক ট্রেড ইন্সট্রাকটরকে দ্বৈত বেতন সুবিধা প্রদান, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে মসজিদ ফি আদায় করেও ইমাম-মুয়াজ্জিনের বেতন পরিশোধ না করা এবং মামলা পরিচালনার নামে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ সঠিক নয়।

 

উল্লেখ্য যে, গত ২৪ নভেম্বর ২০২৪ ইং হতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককের দায়িত্ব গ্রহণ করার পর থেকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শাহাজালাল সাজু সুনাম ও দক্ষতার সাথে বিদ্যালয়টি পরিচালনা করে যথেষ্ট সুনাম অর্জন করেছেন যা বিদ্যালয়ের ছাত্র ছাত্রী অভিভাবক সহ সব শ্রেণীর মানুষের কাছে সাক্ষী হয়ে আছে। তার এই সুনাম ও বিদ্যালয়ের ঐতিহ্য নষ্ট করার জন্য একটি কুচক্রী মহল তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। সংবাদটি সম্পূর্ণরূপে বিভ্রাট ও তথ্য বিভ্রান্তিকর বলে সাধারণ মানুষ মনে করছেন।

 

 

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © banglarprotidin.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themebazarbanglaro4451