রামগঞ্জ (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধিঃ
লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার কাটাখালী এইচটিসি এবং দেহলা মদিনা ইটভাটার কতৃপক্ষ ক্ষমতার দাপট
দেখিয়ে ফসলি জমির টপ সয়েল লুটের মহোৎসব চালিয়েছে। শুধু তাই নয় ইটভাটার মালিক ও ট্রলি
গাড়ীর মালিকের যোগসাজসে সরকারী খালপাড়ের মাটিগুলো তোলা হচ্ছে ইটভাটা। ভাটাতে বুতামের
গুড়া,তৈলের গাদ,গাড়ীর টায়ার,কাঠের গুড়াসহ নিষিদ্ধ রসায়নিক দ্রব্য পোড়ানোর ধোয়ার গন্ধের কারনে
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিশু শিক্ষার্থীও পাঠদানে ব্যাঘাত সৃষ্টি এবং এলাকাবাসী বসতঘরে বসবাস করতে
পারছে না। এই ছাড়াও বর্জগুলো খালের পানিতে ফেলে দেওয়ায় পানিগুলো কালো-তৈলাক্ত বর্ণ ধারন করে।
সেচ প্রকল্পের আওয়াতাধীন কৃষি জমিনে উক্ত পানি ব্যবহার করতে ফসল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ফলে চলতি বছরে
ইরি-রোবো লক্ষ্য মাত্রা অর্জনে বাধা হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
সরেজমিনে সোমবার সকালে গিয়ে দেখা যায় দেহলা মাঠে ৫০/৫৫টি ট্রলি গাড়ীতে ফসলি জমির
টপ সয়েল কেটে মদিনা ইটভাটাতে নেওয়া হচ্ছে। শ্রমিকেরা সরকারী খালের পাড়ের মাচিগুলো কেটে
একই ভাবে ভাটাতে তুলছে। কাটাখালী এইচটিসি ইটভাটার মালিক ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে ড্রেজিং
মিশিন বসিয়ে সরকারী খাল সংলগ্ন স্থানে বালি তোলায় খালের পাড়,কৃষকের জমি,সেচ প্রকল্পের ড্রেন
ভেঙ্গে পড়ছে এমনকি সেচ প্রকল্পে থাকায় বিদ্যুতের পিটার উপড়ে পড়ছে। দেহলা-সমেষপুর মাঠের
কৃষক মফিজ উল্যাহ,জহির ভুইয়া,মোস্তফা রশিদ বলেন,দেহলা ইটভাটার মালিক আমির হোসেন
মজুমদার নানা ভাবে প্রবাহিত করে নাম মাত্র টাকা দিয়ে ফসলি জমিনের টপ সয়েলগুলো কেটে নিচ্ছে।
কেই মাটি দিতে অস্বীকার করলে তার জমিনের ফসল নষ্ট করে দেয়।কিছু কিছু জমির এবং খালপাড়ের
মাটি কেটে খালের তলার চেয়ে গভীর করায় জমিনে পানি তোলা সম্ভাব হচ্ছে না। কাটাখালী সেচ
প্রকল্পের ম্যানেজার আকবর হোসেন ও কৃষক হাবিবসহ কয়েকজন বলেন,কাটাখালী এইচটিসি
ইটভাটার মালিক আমির হোসেন স্থাণীয় এক জনপ্রতিনিধির দাপট দেখিয়ে সরকারী খাল সংলগ্ন
স্থানে সামান্য সম্পত্তি ক্রয় করে ড্রেজার মিশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করে। বালু উত্তোলন শেষে পানি
নিস্কাশন করতে গেলে খাল পাড়,কৃষি জমি,সেচ প্রকল্পের পানি সরবরাহ ড্রেনভেঙ্গে পড়ে এবং বিদ্যুতের
পিলার উপড়ে পড়ে। মৌসুম শুরুতেই সেচ প্রকল্পের ড্রেন ভেঙ্গে পড়ায় ৫০একর জমিনে ইরি চাষীরা
দিশেহারা হয়ে পড়ছে। ব্রর্ক্ষপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিলু আরা বেগম বলেন,ইটভাটার
ধোয়ার গন্ধে শিক্ষার্থীরা ক্লাস করতে পারছে না,অনেক সময় শিশুরা অসুস্থ্য হয়ে পড়ে,ধোয়ার গন্ধ
এতোই খারাপ আমরা শিক্ষকেরা দুপুরের খাবার খেতে পারি না। দেহলা মদিনা ই্ধসঢ়;টভাটার মালিক আমির
হোসেন মজুমদার বলেন,ভাটার মালিকেরা উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে,ডিসির এলআর
ফান্ডে,নোয়াখালীতে পরিবেশ অধিদপ্তর,কৃষি অফিস সহ বিভিন্ন স্তরে ৮ লক্ষাধিক টাকা দিয়ে ভাটা
চালাতে হচ্ছে। সাংবাদিকেরা লেখালেখি করলে যারা ব্যবস্থা নিবে আমরা আগেই তাদের মুখ বন্ধ করে
রেখেছি। কাটাখালী এইচটিসি ভাটার মালিক আমির হোসেন বলেন,সেচ প্রকল্পটি আমার
জমিনে,দুর্গন্ধে শিক্ষার্থীরা অসুস্থ্য হওয়ার অভিযোগ ঠিক নয়। সংশ্লিষ্ট সবাইকে ম্যানেজ করেই
কিছু নিষিদ্ধ কাঠ,গাদ,কাঠের গুড়া ব্যবহার করছি।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আবু ইউসুফ বলেন,শীগ্রই ইটভাটার অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা
নেওয়া হবে।