সাতক্ষীরা প্রতিনিধিঃ
দর্শক নন্দিত স্যাটেল্যাইট টিভি চ্যানেল আই মাটি ও
মানুষের কথা বলে সবার হৃদয়ে স্থান নিয়েছে। চ্যানেল আই
কৃষি, প্রকৃতি ও মানুষের জীবন নিয়ে কথা বলে।
মুক্তিযুদ্ধ, দেশ প্রেম, গণতন্ত্র ও উৎপাদনের কথা বলে। একই
সাথে চ্যানেল আই জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস ও মাদকের বিরুদ্ধে
একটি শক্তিশালী হাতিয়ার। চ্যানেল আই বাংলাদেশকে
একটি আলোকিত পথের সন্ধান দেয়। তারা দেশের উন্নয়নে
কাজ করে থাকে।
রোববার সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে চ্যানেল আইয়ের ১৯ বছরে
পদার্পন উপলক্ষে দর্শক ফোরাম আয়োজিত এক সুধি
সমাবেশে এ কথা বলেন অভ্যাগতরা। তারা বলেন, দেশে
গণতান্ত্রিক চর্চা হচ্ছে । একই সাথে বহু গণমাধ্যম
কাজ করছে। নতুন নতুন গণমাধ্যম আত্মপ্রকাশ করছে
উল্লেখ করে তারা আরও বলেন, চ্যানেল আই তার বস্তুনিষ্টতার
কারণে নিজের অবস্থানকে সুদৃঢ় করে রেখেছে। চ্যানেল
আই এখন বাংলাদেশের মানুষের আশা আকাংখার প্রতিক
হয়ে দাঁড়িয়েছে। চ্যানেলটি নতুন নতুন উদ্ভাবনী
দিয়ে সমাজ বিনির্মানে কাজ করে যাচ্ছে।
সাতক্ষীরা জেলা চ্যানেল আই দর্শক ফোরাম সভাপতি অধ্যক্ষ
আনিছুর রহিমের সভাপতিত্বে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাব
মিলনায়তনে রোববার সকালে অনুষ্ঠিত সুধি সমাবেশে
জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাতে এসেছিলেন অগণিত দর্শক।
জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, সমাজকর্মী,
কবি সাহিত্যিক ও সুশীল সমাজের সদস্যরা এ উপলক্ষে
মিলিত হন প্রেসক্লাব মিলনায়তনে। অনুষ্ঠানে স্বাগত
বক্তব্য রাখেন চ্যানেল আইয়ের সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
সাতক্ষীরা প্রেসক্লাব সভাপতি এড. আবুল কালাম আজাদ।
তিনি সকলকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, চ্যানেল আইয়ের
প্রতিটি কর্মসূচির মধ্য দিয়ে জনগনের ভাষা উচ্চারিত
হয়। চ্যানেল আই তার কর্মকান্ডের মধ্য দিয়ে দেশ ও বিদেশে
নিজস্ব অবস্থান করে নিয়েছে। ফলে দিন দিন তার দর্শক
প্রিয়তা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি সাতক্ষীরার তালা কলারোয়া
আসনের সংসদ সদস্য এড. মুস্তফা লুৎফুল্লাহ বলেন,
চ্যানেল আই সব সময় নতুন কিছু উদ্ভাবন করে
আসছে। বাংলাদেশের কৃষি উন্নয়নে চ্যানেল আইয়ের
ভূমিকা অনন্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারা উৎপাদন ও
সৃজনশীলতায় বিশ্বাস করে। চ্যানেল আই তার সংবাদের
বিশ্বস্ততা প্রতিষ্ঠা করেছে। তারা অতি রঞ্জিত তথ্য দেয় না।
আবার তথ্যে কোন ঘাটতিও থাকে না।
এভাবেই তারা নিজস্বতা অর্জন করেছে। চ্যানেল আই
দ্রুত বেড়ে উঠেনি, আবার দ্রুত পড়ে যাওয়ার কারণও নেই
উল্লেখ করে মুস্তফা লুৎফুল্লাহ বলেন, তারা মানুষের মাঝে
দেশপ্রেম জাগরিত করে। মানুষকে সঠিক নির্দেশনা দেয়।
চ্যানেলটি কৃষি, শিল্প, বাণিজ্য বিনোদন, শিক্ষা,
সংস্কৃতি এবং রাজনীতিসহ সকল ক্ষেত্রেই স্বচ্ছতার
পরিচয় দিয়ে আসছে। বাংলাদেশে বহু চ্যানেলের মধ্যেও
চ্যানেল আই তার নিজের অবস্থানকে পরিস্কার করতে পেরেছে।
অনুষ্ঠানের অতিথি জেলা প্রশাসক আবুল কাশেম মো.
মহিউদ্দিন বলেন চ্যানেল আই ঈদ আনন্দের কর্মসূচি
দিয়ে গ্রাম বাংলা থেকে হারিয়ে যাওয়া বিনোদনকে
জাগরিত করে। সমাজ থেকে জঙ্গিবাদ, মাদক ও কুপমন্ডকতা
দুরীকরনে তারা ভূমিকা রাখে। তৃতীয় মাত্রার মধ্য দিয়ে তারা
প্রতিটি বিষয়ের উপর আলোকপাত করে। এতে সামাজিক
সচেতনতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। একটি আলোকিত সমাজ গঠনে
চ্যানেল আই প্রশংসনীয় ভূমিকা রাখছে বলে উল্লেখ করেন
তিনি।
অনুষ্ঠানের অন্যতম অতিথি জেলা পুলিশ সুপার আলতাফ
হোসেন পিপিএম বলেন, চ্যানেল আই দেশের গ-ি
ছাড়িয়ে বিদেশে পৌঁছে গেছে। সেখানেও চ্যানেলটি
দর্শক প্রিয়তা অর্জন করেছে। চ্যানেল আই সব ধরনের
মানুষের কথা বলে। একই সাথে মানুষের সমস্যা ও তার
সমাধানও তুলে ধরে। চ্যানেলটির বস্তুনিষ্ঠতা তাকে ক্রমেই
দর্শক প্রিয় করে তুলছে।
সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান বাবু বলেন,
প্রতি রাতে তৃতীয় মাত্রা টক শো আমাদের সচেতন হতে
সাহায্য করে। এছাড়া রাত ১২ টায় আজকের বাংলাদেশ
শীর্ষক কর্মসূচিতে নতুন দিনের প্রকাশিত খবর আমরা
রাতেই জানতে পারি। চ্যানেল আই গ্রামের কৃষকদের কথা
বলে ও সাধারণ মানুষের কথা বলে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন, সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের তিন
সাবেক সভাপতি অধ্যক্ষ আবু আহমেদ, সুভাষ চৌধুরী ও
মনিরুল ইসলাম মিনি, প্রথম আলোর কল্যাণ ব্যানার্জি,
দৈনিক দৃষ্টিপাত সম্পাদক জিএম নুর ইসলাম, দৈনিক
দক্ষিণের মশাল সম্পাদক আশেক ই এলাহী, প্রেসক্লাব
সম্পাদক আব্দুল বারী ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক এম
কামরুজ্জামান। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মানবকণ্ঠের অসীম
বরণ চক্রবর্তী।
শুভেচ্ছা বক্তব্যে তারা বলেন, চ্যানেল আই তার দর্শক নন্দিত
কর্মসূচি দিয়ে মানুষকে জাগরিত করছে। তারা
কৃষিতে বিপ্লব এনেছে। জীবন ও প্রকৃতি, বিনোদন,
ক্রীড়া ও সামাজিক সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে নতুন গতির
সঞ্চার করেছে চ্যানেল আই । চ্যানেল আই মুক্তিযুদ্ধ, ভাষা
আন্দোলন ও গণতন্ত্রের কথা বলে । তারা জীবন-জীবিকা,
উৎপাদন ও উদ্ভাবনে বিশ্বাস করে বলেও মন্তব্য করেন তারা।
এর আগে চ্যানেল আইয়ের প্রতিষ্ঠা বাষিকীতে একটি
র্যালি বের করা হয়। এতে অংশ নেন অতিথিরা। পরে কেক
কেটে চ্যানেল আইয়ের জন্মদিন পালন করা হয়।