মাসুদ হোসেন, চাঁদপুরঃ চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনার অদূরে সদর উপজেলার ১৪নং রাজরাজেশ্বর ইউনিয়ন। হঠাৎ করে সেখানে দেখা দিয়েছে নদী ভাঙন। দেশের উত্তরাঞ্চলের বন্যার পানির চাপে চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনা তীরবর্তী এলাকাগুলোর এই অবস্থা। এতে কয়েকটি গ্রামের শত শত বসতঘর, ফসলি জমি, শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে নতুন করে ভাঙন আতঙ্কে এলাকাবাসী। উত্তর-পূর্বে মেঘনা, অন্য দু‘পাশে পদ্মা। এই হলো চাঁদপুর সদরের রাজরাজেশ্বর ইউনিয়ন। দ্বীপের মতো বিশাল এই জনপদটিতে হঠাৎ করে নদী ভাঙন শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে মান্দেরবাজার, গোয়ালনগর, বেপারিকান্দি ও লগ্গীমারা নামের কয়েকটি গ্রাম পদ্মা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে ভাঙন কবলিত এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো অন্যত্র স্থানান্তর করতে হচ্ছে। আবার নতুন করে ভাঙন আতঙ্কে অনেকেই দিশেহারা। ভাঙন রক্ষার দাবিতে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মানববন্ধনও করেছে। উত্তাল পদ্মা-মেঘনার প্রবল স্রোতে ভাঙনের কবলে পড়ে ভিটেমাটি হারিয়ে আর্তনাদ করছেন চাঁদপুর সদর উপজেলার ১৪ নং রাজরাজেশ্বর ইউনিয়নের প্রায় অর্ধশত পরিবার। আশ্রয়ের খোঁজে ছুটছেন এদিক সেদিক, কিন্তু চারদিকেই তো উত্তাল নদী ঘেরা। কোথায় যাবেন পরিবার-পরিজন ও গবাদি পশু সহ ভাঙ্গন কবলিতরা নানা চিন্তায় অসহায় হয়ে পড়েছেন। ভাঙ্গনকৃত ও ভাঙ্গনের আশংকাকৃত এলাকাগুলোতে পরিদর্শন করেন চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কানিজা ফাতেমা। বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষনাত অসহায় মানুষগুলোকে শুকনো খাবার ও ঔষধ নিয়ে ঘটনা স্থলে ছুটে যান সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কানিজ ফাতেমা ও সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অভিষেক দাস। ভাঙনের হাত থেকে রাজরাজেশ্বর ইউনিয়নকে রক্ষার ব্যাপারে চিন্তা ভাবনা চলছে বলে জানালেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কানিজ ফাতেমা। এ দুঃখ গাঁথা ইউনিয়নটিতে প্রায় ৩০ হাজার জনসংখ্যা অধ্যুষিত রাজরাজেশ্বর ইউনিয়নে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সাতটি, মাদ্রাসা ও উচ্চ বিদ্যালয় দুটি এবং বাজার রয়েছে তিনটি।