বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ০৫:৩৬ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
দেশে কোনো পশু সংকট নেই – সাভারে মন্ত্রী আমিন উর রশিদ সাভার ও আশুলিয়ায় অপরিকল্পিত বাসা বাড়িতে বসবাসে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন জনগণ প্রাণিসম্পদ খাতকে সমৃদ্ধ করতে সরকার-বেসরকারি উদ্যোগ প্রয়োজন – মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী   কুমিল্লার নাগরিক সেবায় নতুন অধ্যায়: গঠিত হচ্ছে ওয়াসা ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নিচে ছোট পাইপ স্থাপনের অভিযোগ আশুলিয়ার জামগড়া ইস্টার্ন হাউজিং বাজারে জলাবদ্ধতায় ব্যবসা-বাণিজ্য স্থবির, ব্যবসায়ীদের প্রতিবাদ গৃহবধূ হত্যা মামলার আসামি র‍্যাবের হাতে গ্রেফতার! আশুলিয়ার বাইপাইল- ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট, চরম দুর্ভোগে জনসাধারণ আশুলিয়ায় কিশোর গ্যাং কতৃক অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র অপহরণের পর হত্যা: ২০ মাস পর লাশ উত্তোলন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সৌদি রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

বগুড়ায় নির্যাতনের শিকার মা-মেয়ে এখন রাজশাহীতে

বাংলার প্রতিদিন ডেস্ক ::
  • আপডেট সময় বুধবার, ৯ আগস্ট, ২০১৭
  • ১৯১ বার পড়া হয়েছে

অনলাইন ডেস্ক ঃ 

বগুড়ায় শ্রমিক লীগ নেতা ও তাঁর স্বজনদের হাতে নির্যাতনের শিকার মা-মেয়েকে রাজশাহীতে নিয়ে আসা হয়েছে। নির্যাতিত কিশোরীকে রাজশাহীর পবা উপজেলার বায়ায় অবস্থিত সরকারি সেফ হোমে রাখা হয়েছে। আর মেয়েটির মাকে রাখা হয়েছে নগরীর শাহ মখদুম থানার সরকারি ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে।

সেফ হোমের ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট রোখসানা খাতুন জানান, আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে বগুড়া সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আসলাম সরকারের তত্ত্বাবধানে নির্যাতিত ওই কিশোরীকে সেফ হোমে আনা হয়। নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত এখন থেকে সে এখানেই থাকবে।

রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র সিনিয়র সহকারী কমিশনার (সদর) ইফতে খায়ের আলম জানান, ওই কিশোরীর মাকে শাহ মখদুম থানা ক্যাম্পাসে অবস্থিত ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে রাখা হয়েছে। বাইরে নিরাপদ মনে না করা পর্যন্ত তিনি এখানেই থাকবেন। মামলার প্রয়োজনে তাঁদের বগুড়া নিতে হলে পুলিশ তাঁদের নিরাপত্তা দিয়েই নিয়ে যাবে।

ইফতে খায়ের আলম আরো জানান, আদালতের সিদ্ধান্তেই নির্যাতনের শিকার মা-মেয়েকে আলাদা রাখা হয়েছে। তবে তাঁদের ভালো থাকার জায়গা ও উন্নত খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রয়োজন হলে তাঁদের উন্নত চিকিৎসারও ব্যবস্থা করা হবে।

গতকাল সোমবার সকালে মা-মেয়েকে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। পরে দুপুরের দিকে পুলিশ তাঁদের বগুড়ার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত-১ এবং শিশু আদালতের বিচারক ইমদাদুল হকের এজলাসে হাজির করে। এরপর নির্যাতিত মেয়েটি ও তাঁর মায়ের নিরাপত্তার ব্যাপারে আদালতের সিদ্ধান্ত চায় পুলিশ। বিকেলে এক আদেশে আদালত নির্যাতিত মেয়েটিকে রাজশাহী বিভাগীয় সরকারি সেফ হোমে ও মাকে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে পাঠানোর জন্য পুলিশকে নির্দেশ দেন। নির্দেশনা অনুযায়ী আজ পুলিশ তাদের নিজস্ব গাড়িতে করেই মা-মেয়েকে রাজশাহী নিয়ে আসে।

গত ১৭ জুলাই কলেজে ভর্তির বিষয়ে সাহায্যের নাম করে বগুড়া শ্রমিক লীগের নেতা তুফান সরকার ওই মেয়েকে বাড়িতে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ ওঠে। পরে এ ঘটনার বিচারের নামে মা-মেয়েকে ডাকা হয়। সেখানে ঘটনার জন্য উল্টো মা-মেয়ের ওপরেই দোষ চাপানো হয়। তুফান সরকারের স্ত্রী আশা সরকার এবং তার বড় বোন নারী কাউন্সিলর মার্জিয়া আকতার রুমকি ও তুফানের ক্যাডাররা ধর্ষণের শিকার মেয়েটি ও তার মায়ের ওপর নির্যাতন চালায়। এরপর দুজনেরই মাথা ন্যাড়া করে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় ধর্ষণের শিকার ছাত্রীর মা বাদী হয়ে গত ২৮ জুলাই রাতে বগুড়ায় মামলা করেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও বগুড়া সদর থানার পরিদর্শক (অপারেশন) আবুল কালাম আজাদ জানান, ধর্ষণ ও নির্যাতনের ঘটনায় দায়ের হওয়া দুই মামলায় বহিষ্কৃত শ্রমিক লীগ নেতা তুফান সরকার, তাঁর স্ত্রীর বড় বোন পৌর কাউন্সিলর মার্জিয়া আকতার রুমকিসহ গ্রেপ্তার ১১ আসামি এখন কারাগারে। এর মধ্যে গত রোববার দুদিনের রিমান্ড শেষে তুফান ও রুমকিকে বগুড়ার অতিরিক্ত মুখ্য বিচারিক হাকিমের আদালতে হাজির করে আবার রিমান্ড চাওয়া হয়। আদালত তা নামঞ্জুর করে আসামিদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আরো বলেন, তিন দফা রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে তুফান নির্যাতিত ছাত্রীকে ধর্ষণ এবং নারী কাউন্সিলর রুমকি নির্যাতন ও চুল কেটে দেওয়ার কথা স্বীকার করেননি। তবে এ মামলায় তুফান সরকারের সহযোগী আতিক, মুন্না ও নাপিত জীবন রবিদাস এরই মধ্যে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।


প্রিন্ট

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © banglarprotidin.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themebazarbanglaro4451