মোঃ আশিকুর রহমান টুটুল, নাটোর জেলা প্রতিনিধি,
নাটোরের লালপুর উপজেলায় চলতি খরিপ-১ মৌসুমে ২শত মেক্টিকটন ভুট্ট
উৎপাদনের লক্ষমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। জমি থেকে
কৃষকের ভুট্টা সংগ্রহের কাজ প্রায় শেষ। বাড়ির আঙ্গিনায় কৃষক-
কৃষানী ভুট্টা বাছাই,মাড়াইও রোদে শুকানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য মতে লালপুর উপজেলায় ১৫ হেক্টর জমিতে ভুট্টা
চাষের লক্ষামাত্রা নির্ধারণ করা হলেও নির্ধাররিত লক্ষমাত্র ছাড়িয়ে প্রায় ২০
হেক্টার জমিতে ভুট্টার চাষ হয়েছে। উপজেলা কৃষি অফিস প্রাথমিক তথ্য
মতে চলতি খরিপ-১ মৌসুমে উপজেলায় ২শত মেক্টিকটন ভুট্টা উৎপাদিত
হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রতি হেক্টর প্রতি ৯/১০ টন এবং বিঘা প্রতি
২০-২৫ মণ হারে ভুট্টা উৎপাদন হয়। তবে উপজেলার ভুট্টা চাষীদের সঙ্গে কথা
বলে জানাগেছে ভুট্টার মোট উৎপাদন লক্ষমাত্র ২৫০ মেক্টিক টন ছাড়িয়ে
যাবে।
উপজেলার ওয়ালিয়া, নান্দরায়পুর,সেকচিলান,কদিমচিলান,লালপুরে বেশির ভাগ
ভুট্টা উৎপাদিত হয়ে থাকে। জমি থেকে ভুট্টা সংগ্রহ প্রায় শেষ হয়েছে
বলেই চলে ।তবে জমির ভুট্টা সংগ্রহরে পরে তা এখন কৃষকের বাড়ির
অঙ্গিনায় ভুট্টা খোষা ছাড়ানো, মাড়াই, ঝাড়াইও রোদে শুখানোর কাজে
ব্যস্ত সময় পার করছেন এলাকার গৃহবধূরা। ভুট্টা একটি লাভজনক ফসল ভুট্টা
বছরের কম বেশি সব সময় চাষ হয় তবে (রবি মৌসুম ও খরিপ-১
উল্লেখ্যযোগ্য) উপজেলার কৃষকগন চৈতালী (মসুর, খেষারী,গম,মটর) তুলে
জমিতে ভুট্টা চাষ করে থাকে। অনান্য ফসল চাষের তুলনায় ভুট্টা চাষে
পানিসেচও সার-কিটনাশক তেমন প্রয়োজন হয় না। শুধু মাত্র ভুট্টার বীজ
লাগানোর সময় কিছু পরিমানে রাসায়নিক সার ব্যবহার করতে হয় তা ছাড়া
ভুট্টার তেমন কোন রোগ বালাই হয়না বলে কিটনাশকও তেমন ব্যবহার করতে
হয় না। এব্যাপারে উপজেলার ওয়ালিয়ার ভুট্টা চাষী, হালিম, জাহাঙ্গীর, সোহেলর
সঙ্গে বথা বলে জানাগেছে প্রতি ১ বিঘা জমিতে ভুট্টা চাষ করতে প্রায়
৭-৮ হাজার টাকা খরচ হয় আর এক বিঘা জমিতে ভুট্টা হয় ২৫-৩০ মণ যার
বর্তমান বাজার দর হিসেবে প্রতি মণ ভুট্টা ৭০০ টাকা হারে ২৫ মণের দাম
১৭ হাজার ৫০০ টাকা। যা অনান্য ফসলের চেয়ে লভবান হওয়ায় কৃষকরা ভুট্টা
চাষে ঝুকছেন।
এব্যাপারে উপজেলা কৃষি অফিসার হাবিবুল ইসলাম খাঁন আমার সংবাদকে
বলেন, বিগত বছরের তুলনায় চলতি খরিপ-১ মৌসুমে লালুপর উপজেলায় লক্ষমাত্রা
অধিক হারে ভুট্টার চাষ হয়েছে এবং ফলনও আশানুরূপ হয়েছে । তবে মাঝ
খানে আবহাওয়া বিরূপ থাকায় কিছু কিছু জমির ভুট্টার ফল একটু খারাপ
হয়েছে। এছাড়াও মাটিতে জৈব সারের ঘাটর্তী থাকায় কোন কোন জমির
ভুট্টার ফলন একটু খারাপ হয়।