অনলাইন ডেস্কঃ
বান্দরবান সরকারি মহিলা কলেজের একাডেমি ভবন নির্মাণে রডের পরিবর্তে বাঁশের কঞ্চি ব্যবহার করা হচ্ছে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক শুরু হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের অর্থায়নে কলেজের একাডেমি ভবনের তৃতীয় তলার নির্মাণ কাজে এ অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এ কাজের ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৯০ লাখ টাকা। এদিকে কোন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নামে কাজটি করা হচ্ছে তা জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেছে কর্তৃপক্ষ।
বুধবার বিকেলে গিয়ে দেখা যায়, কলেজের একাডেমি ভবনের তৃতীয় তলা সম্প্রসারণের কাজ চলছে। তৃতীয় তলার ড্রপ ওয়ালগুলোতে বাঁশের কঞ্চি ব্যবহার করছেন নির্মাণ শ্রমিকরা। রাজমিস্ত্রি আলী হোসেন বলেন, ঠিকাদার যেভাবে বলেছে সেভাবে কাজ হচ্ছে। তিনি জানান, কলেজ ভবনের কাজটি সাব-ঠিকাদার হিসেবে নিয়েছেন মো. আঞ্জুমিয়া। তিনি তাকে কাজে নিয়োগ দিয়েছেন। সাব-ঠিকাদার মো. আঞ্জুমিয়ার সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা হলে তিনি বলেন, বেশ কয়েকদিন ধরে বাইরে থাকায় এ বিষয়ে কিছু জানি না। কাজের মূল ঠিকাদার উজ্জ্বল কান্তি দাশ ও তাপস কান্তি দাশ। তারাই কাজটি করছেন।
সূত্র জানায়, ওই ঠিকাদার প্রভাবশালী হওয়ায় শুধু ড্রপ ওয়াল নয়, ভবনটির ছাদেও কিছু অংশে বাঁশ ব্যবহার করা হয়েছে। কলেজের অধ্যক্ষ প্রদীপ বড়ূয়া বলেন, এ কাজে আমাকে কোনো কিছু জানানো হয়নি। কী ধরনের কাজ হচ্ছে তা বলতে পারব না।
জানা যায়, এ কাজে কোনো ধরনের টেন্ডার আহ্বান করা হয়নি। আওয়ামী লীগের স্থানীয় প্রভাবশালী নেতারা ভবনটির কাজ করছেন।
ঠিকাদার উজ্জ্বল দাশ ও তাপস কান্তি দাশ বলেন, আমরা এ ব্যাপারে কিছু জানি না। রাজমিস্ত্রি লোহার পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহার করছেন বলে সাংবাদিকদের মাধ্যমে জানতে পারছি। রাজমিস্ত্রি নিজের সুবিধার জন্য এমনটি করতে পারেন। কাজটির ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের নাম কী জানতে চাইলে তারা অপারগতা প্রকাশ করেন।
পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের বান্দরবান অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুল আজীজ বলেন, সাংবাদিকদের মাধ্যমে রডের বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গে কাজটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের নাম জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, এ মুহূর্তে জানা নেই। ফাইল দেখে জানাতে পারব।