গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি.
নাটোরের গুরুদাসপুরে একই ব্যক্তি দুই প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছেন বলে
অভিযোগ উঠেছে। ওই ব্যক্তির নাম জয়নাল আবেদীন। তিনি পৌর সদরের
রোজী মোজাম্মেল মহিলা কলেজে আইসিটি শিক্ষক (ইনডেক্স নম্বর-
৬১৯৭৭৯) হিসেবে চাকরি করেন ২০০০ সাল থেকে।
পাশাপাশি চাঁচকৈড় নাজিম স্কুল অ্যান্ড কলেজে ২০১৫ সালের ২৮
ডিসেম্বর থেকে অধ্যক্ষ দায়িত্ব পালন করছেন। সেখানে আর্থিক আয়ন-
ব্যয়নের সাথে সংশ্লিষ্ট থাকার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
“শিক্ষা মন্ত্রনালয় কর্তৃক জারীকৃত এমপিও নীতিমালার ১৩ নম্বর
অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, বেতন ভাতাদির সরকারি অংশ প্রাপ্তির জন্য
শিক্ষক/কর্মচারিগণ একই সাথে একাধিক স্থানে চাকুরিতে বা আর্থিক
লাভজনক কোন পদে নিয়োজিত থাকতে পারেননা।” অথচ সরকারি
বিধিবিধান উপেক্ষা করে আর্থিক সুবিধা লাভের আশায় দুইটি
প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছেন তিনি।
চাঁচকৈড় নাজিম উদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজের কয়েকজন শিক্ষক জানান,
আইসিটি শিক্ষক জয়নাল আবেদীন অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদানের পর থেকেই
পদাধিকার বলে প্রতিষ্ঠানের আয়ন-ব্যয়ন, শিক্ষকদের বেতন-ভাতার কাগজে
স্বাক্ষর করছেন। অধ্যক্ষ হিসেবে পাঁচ হাজার টাকা করে সম্মানীভাতাও
নিচ্ছেন প্রতিষ্ঠান থেকে । এজন্য পরিচালনা কমিটির রেজুলেশনও রয়েছে।
এব্যাপারে দুই প্রতিষ্ঠানের সুবিধাভোগী জয়নাল আবেদীন বলেন,
পদাধিকার বলে প্রতিষ্ঠানের সকল আয়ন-ব্যয়নসহ কাগজপত্রে স্বাক্ষরসহ
প্রশাসনিক কর্মকান্ড পরিচালনা করতে হয়। পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে
রেজুলেশন করে ৫ হাজার টাকা করে সস্মানী ভাতা নেওয়ার অনুমোদন দেওয়া
হলেও তা নিচ্ছেননা তিনি। তাঁরমতে, আরো অনেকেই তারমত একাধিক
প্রতিষ্ঠানে চাকুরি করছেন। তিনি করলে দোষের কী?
চাঁচকৈড় নাজিম উদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি
আনোয়ার হোসেন বলেন, স্কুল শাখার শিক্ষকদের বেতন-ভাতা চালু থাকলেও
কলেজ শাখার শিক্ষকদের বেতন-ভাতা হয়নি। বিধিঅনুসরণ করে অভিজ্ঞতা
সম্পন্ন অধ্যক্ষ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এই প্রতিষ্ঠান থেকে সরকারি কোন
ভাতা নিচ্ছেননা অধ্যক্ষ।
রোজী মোজাম্মেল মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মো. ইব্রাহিম হোসেন বলেন,
জয়নাল আবেদীন তাঁর প্রতিষ্ঠানের আইসিটি শিক্ষক হিসেবে চাকরি
করছেন। সরকারি বেতনও উত্তোলন করছেন। অন্য প্রতিষ্ঠানে চাকরি করার
বিষয়টি তাঁর জানা নেই।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. হাফিজুর রহমান বলেন, একই ব্যক্তি
দুই প্রতিষ্ঠানে চাকরি করার বিধান নেই। কোন শিক্ষক এটা করে থাকলে তা
চাকরিবিধি পরিপন্থী। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা
নেওয়া হবে।