নাটোর প্রতিনিধি:
নাটোরের নলডাঙ্গার বাাঁশভাগ গ্রামের ১৫ হাজার মানুষের খাল পারাপারে বাঁশের
সাঁকোই এখন একমাত্র ভরসা হয়ে উঠেছে। নলডাঙ্গা নলডাঙ্গা উপজেলার বাঁশভাগ
গ্রামের ভিতর দিযে বয়ে যাওয়া একটি দীর্ঘ খালের ওপারে যানবাহন চলাচলের জন্য
কোন ব্রীজ বা কালভার্ট নেই। এলাাকাবাসী চলাচলের জন্য ওই খালে ওপর নিজেদের
প্রয়াজনে নিজেরাই ছয় থেকে সাতটি বাঁশের সাঁকো তৈরী করে নিয়েছেন।
গ্রামের দুই পারের মানুষ প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়েই ওই সাঁকোর ওপর দিয়ে
পারাপার হন। বিশেষ করে বাঁশভাগ গ্রামের ১৫ হাজার মানুষ জীবিকার তাগিদে
প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়ে ওই বাঁেশের সাঁকো দিয়েই হাটা-বাজার এবং
চিকিৎসা সহ শহরে আসা-যাওয়া করছেন। ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকোই তাদের
একমাত্র ভরসা হওয়ায় বড়দের সাথে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হতে
হচ্ছে বাঁশভাগ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শত শত শিশু শিক্ষার্থীদেরও। এতে
দূঘটনার শিকারও হতে হচ্ছে শিক্ষার্থীসহ ওই গ্রামের বৃদ্ধ মানুষদের। বাঁশভাগ
গ্রামবাসী একটি ব্রিজের জন্য সংলিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন-নিবেদন করেও
কোন সুফল পাননি। ওই গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল কাদের মাষ্টার জানান, কয়েকযুগ
ধরে তাদের গ্রামের মানুষের চলাচলের একমাত্র ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে কয়েকটি
বাঁশের সাঁকো। এতে প্রতিদিন মানুষের চলাচলের সময় দুর্ভোগেরও শেষ নাই।
বাঁশভাগ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা সকিনা বেগম জানান,
তার বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন জীবনের ঝঁকি নিয়ে বিদ্যালয়ে আসতে
বাঁশের সাঁকো পারাপার হতে গিয়ে মাঝে মধ্যেই দুঘটনার শিকার হচ্ছে।
কিছুদিন আগে শিশু শ্রেণির ছাত্র ইসতিয়াক স্কুলে আসার পথে বাঁশের
সাঁকো পারাপার হওয়ার সময় সাঁকো থেকে নিচে পড়ে মেরুদন্ডে আঘাত পেয়ে
তিনদিন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে। বাঁশভাগ সরকারী প্রাথমিক
বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি সোহেল রানা হেলাল বলেন, গ্রামবাসী ও
শিশু শিক্ষার্থীদের চলাচলের চরম দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে তারা স্থানীয় সংসদ
সদস্য মোঃ শফিকুল ইসলাম শিমুলের কাছে একটি ব্রীজ নির্মাণের আবেদন
জানালে তিনি ওই খালের ওপর দ্রুতই একটি ব্রীজ নির্মাণের আশ্বাস দিয়েছেন।