গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি :
শ্রদ্ধা, সম্মান ও ভক্তির বহিঃপ্রকাশ স্বরূপ গোপালগঞ্জে বাবা ও মার পা ধুয়ে দিলো
প্রায় এক লাখ শিক্ষার্থী। ‘মাগো তোমার চরণ তলে’
নামে ব্যতিক্রমী এক আয়োজনের মধ্য দিয়ে গোপালগঞ্জে
এই কর্মসূচি পালিত হয়েছে। জেলা প্রশাসন ও জেলা
প্রাথমিক শিক্ষা অফিস যার আয়োজন করে।
গতকাল শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জেলার সাড়ে
৮শ’ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের লক্ষাধিক শিক্ষার্থী একযোগে
এ কর্মসূচিতে যোগ দেয়। আগে থেকেই ঘোষণা দেওয়া
থাকায় শিক্ষার্থীদের সমাগম ঘটে প্রচুর। বিভিন্ন স্কুলের
শিক্ষার্থীরা তাদের মা-বাবার পায়ের কাছে বসে পা ধুইয়ে
পরিষ্কার করে দেয় এবং পা মুছে দেয়। কর্মসূচিটি জেলার
সর্বত্র ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
প্রশাসক মোহাম্মদ মোখলেসুর রহমান সরকার জেলা শহরের
এস এম মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জেলাব্যাপী এ
কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এ সময় আরও
উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো:
মাসুদ ভূঁইয়া। গোপালগঞ্জে ৮৪৯টি প্রাথমিক
বিদ্যালয়ের ১ লাখ ৫২ হাজার শিশু মায়ের চরণ ধুয়ে দিয়েছে।
শনিবার জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা
অফিস আয়োজিত “মা-গো তোমার চরণ তলে” শীর্ষক
অনুষ্ঠানে একযোগে জেলার সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ের
শিক্ষার্থীরা মায়ের চরণ ধুয়ে দেয়। মাতা-পিতা, শিক্ষক ও
গুরুজনে শ্রদ্ধা ভক্তির প্রায়োগিক শিক্ষা প্রদানের জন্য এ
কর্মসূচীর আয়োজন করা হয়েছে বলে আয়োজকরা
জানিয়েছে।
গোপালগঞ্জ শহরের এস.এম মডেল সরকারি প্রাথমিক
বিদ্যালয়ে এ অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোখলেসুর রহমান সরকার। স্কুল
ম্যনেজিং কমিটির সভাপতি মোঃ রফিকুল ইসলাম মিটুর
সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলা
প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ মাসুদ ভূইয়া, স্কুলের
প্রধান শিক্ষক কাজী ইদ্রিস আলী, অভিভাবক বনানী
বিশ্বাস, বিথীকা হীরা, শিক্ষার্থী মুসলিমা সুলতানা,
আরিয়ান মঈনসহ আরো অনেকে। পরে শিক্ষার্থীরা মায়ের
চরণ তলে বসে মায়ের চরণ ধুয়ে দেয়।
অপর দিকে ৩৬ নং পশ্চিম হরিদাসপুর সরকারি প্রাথমিক
বিদ্যালয়ে এস এম মওদুদ হোসেন রেন্টুর সভাপতিত্বে
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বাবু পরেশ চন্দ্র রায় ও
বিদ্যালয়ের ৬ জন শিক্ষকের নেতৃত্বে ২৩০ শিক্ষার্থীরা মায়ের
চরণ তলে বসে মায়ের চরণ ধুয়ে দেয়।
আয়োজকদের মতে অনেক সময় মৌখিক উপদেশে
প্রত্যাশিত ফল পাওয়া যায় না। ফলে মা-বাবা, শিক্ষক ও
গুরুজনের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের এটি ব্যবহারিক
কার্যক্রম। এতে প্রতিটি কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীর মনে মা-
বাবা, শিক্ষক, গুরুজনদের প্রতি শ্রদ্ধা-ভক্তি ও সম্মান
প্রদর্শনের মানসিকতা গড়ে উঠবে।