শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১২:২২ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
দেশে কোনো পশু সংকট নেই – সাভারে মন্ত্রী আমিন উর রশিদ সাভার ও আশুলিয়ায় অপরিকল্পিত বাসা বাড়িতে বসবাসে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন জনগণ প্রাণিসম্পদ খাতকে সমৃদ্ধ করতে সরকার-বেসরকারি উদ্যোগ প্রয়োজন – মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী   কুমিল্লার নাগরিক সেবায় নতুন অধ্যায়: গঠিত হচ্ছে ওয়াসা ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নিচে ছোট পাইপ স্থাপনের অভিযোগ আশুলিয়ার জামগড়া ইস্টার্ন হাউজিং বাজারে জলাবদ্ধতায় ব্যবসা-বাণিজ্য স্থবির, ব্যবসায়ীদের প্রতিবাদ গৃহবধূ হত্যা মামলার আসামি র‍্যাবের হাতে গ্রেফতার! আশুলিয়ার বাইপাইল- ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট, চরম দুর্ভোগে জনসাধারণ আশুলিয়ায় কিশোর গ্যাং কতৃক অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র অপহরণের পর হত্যা: ২০ মাস পর লাশ উত্তোলন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সৌদি রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

পথশিশু আমার সন্তান

বাংলার প্রতিদিন ডেস্ক ::
  • আপডেট সময় রবিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী, ২০১৭
  • ২৫৮ বার পড়া হয়েছে
পথশিশু পথে পথে ঘুরে বলেই আমরা তাদের এই নামে ডাকি। ব্যস্ত শহরে বসবাসরত এমন একজন মানুষও হয়তো পাওয়া যাবে না, যারা এদের মিনতির শিকার হয়নি! কখনও দুই টাকা দেওয়ার মিনতি, কখনও বা কারো হাতে থাকা খাবার খেতে দেওয়ার অনুরোধ। আমাদের মধ্যে বেশিরভাগ মানুষই এদের দেখে বিরক্ত হই। অফিস বা স্কুল কলেজে যাওয়ার তাড়াহুড়ায় এসব উটকো ঝামেলার মুখোমুখি হতে ইচ্ছে হয় না!
নগরীর ট্রাফিক সিগন্যাল বা বাণিজ্য মেলার প্রবেশমুখ, কিংবা বাস বা টেম্পু থামার জায়গায় অহরহ দেখা যায় এদের। বয়স হয়তো ২ বছর থেকে ১০ বছরের মধ্যে হয়। কেউ কেউ আবার কোলে করে নিজের এক বা দেড় বছর বয়সী ভাই বোনকে নিয়ে পথে নামে। উচ্চবিত্তদের দামি গাড়ির কাচের ফাঁক দিয়ে ওদের মিনতি পোঁছায় না, তাই সেখানে তাদের প্রাপ্তি প্রায় শূণ্য। তাই তারা মধ্যবিত্ত লোকাল গাড়িতে চড়া কিংবা রাস্তা দিয়ে হেটে যাওয়া মানুষগুলোর কাছেই হাত পাতে। কিন্তু মধ্যবিত্তদের সামর্থ্যই বা আর কতটুকু! একজনকে দিয়ে আরেকজনকে দিতে গেলে নিজের পকেটের হিসেব কষতে হয়!
সারা শরীরে ধুলো ময়লা বেষ্টিত বাচ্চাগুলো আদৌ কোনোদিন স্কুলে গিয়েছে কিনা কেউ জানে না। পরিবারের অন্নসংস্থানই তাদের জন্মের পর প্রধান দায়িত্ব হয়ে উঠে। আর তাই রাস্তার পাশে ধুলো পাথর নিয়ে খেলা এই বাচ্চাগুলো যখন মোড়ে কোনো গাড়ি থামতে দেখে বা ট্রাফিক সিগন্যাল এ গাড়ি গুলো দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে, দৌড়ে যায়। কখনও পাশ কাটিয়ে চলে যাওয়া কোনো পুরুষের শার্ট বা নারীর ওড়না ধরে মিনতি জানায়। আর আমরা পরিষ্কার কাপড় পড়া মানুষগুলো, নিজেদের পরিপাটি জামা নোংরা করে দেওয়ার জন্য কড়া ভাষায় তাদের ধমক দেই। খুব চিৎকার দিয়ে বলে উঠি ” সর! “
খুব স্বাভাবিকভাবেই আমরা এসব বাচ্চাদের তুই বলে সম্বোধন করি! কেন? তারা নোংরা বলে? নাকি তারা সমাজের নিচু স্তর বলে? কিন্তু নিজের ঘরের বাচ্চাটির সামনে আমরা কখনই তুই শব্দটা মুখেই আনি না, বাজে কথা শিখবে বলে! তবে এসব দরিদ্র শিশুদের প্রতি কেন এমন আচরণ? এরাও ভালো ব্যবহার পাওয়ার অধিকার রাখে। আর এটা তো আমাদের নৈতিকতাবোধেই আসা উচিত। কিন্তু আমরা কেন জানি এটাকে নিয়ম বানিয়ে ফেলেছি যে, এদের সাথে এইভাবেই কথা বলতে হবে!
ব্যক্তিগত ভাবে আমি এমন কিছু মানুষকে চিনি যারা এসব বাচ্চাদের নিয়ে কাজ করেন। অবশ্য তাদের বেশিরভাগই আমার মতোই ছাত্রজীবন শেষ করেছে মাত্র বা চালিয়ে যাচ্ছে। নিজেদের পকেটের টাকা খরচ করেই তারা এই কাজগুলো করছে। অন্য যারা সামর্থ্যবান, তাদের কাছ থেকে তেমন একটা সাহায্য পায় না! জিজ্ঞাস করছিলাম, কেন? উত্তরে তারা বললো, সবাই মনে করে এসব ভুয়া! সাহায্যের নামে টাকা নিয়ে নিজেরাই খরচ করে! তাই কেউ সাহায্য দিতে চায় না!
প্রায় প্রতিদিন ফেসবুকে বন্ধুদের বিভিন্ন দামী রেস্টুরেন্টে চেক ইন বা খাবার খাওয়ার ছবি আপলোড হতে দেখি। অনেকেই পুরো খবার খেতে না পেয়ে খাবার নষ্ট করে রেখে আসি। আর পরবর্তীতে সেই বেঁচে যাওয়া খাবারগুলোর স্থান হয় ডাস্টবিনে! আমরা কি পারি না সেই বেঁচে যাওয়া খাবারগুলো পার্সেল করে এনে এইসব পথ শিশুদের দিয়ে দিতে? অনেকের কাছেই সংকোচ হয়, এভাবে খাবার পার্সেল করে দিতে বলতে। কিন্তু এর বিনিময়ে কোনো এক অভুক্ত শিশুর খাদ্যসংস্থান হবে, সেই আনন্দ কি কোনো অংশে কম?
সমাজের এই পথশিশুগুলোর দায়িত্ব আমাদের কারো একার পক্ষে নেওয়া সম্ভব নয়, একথা সত্য। উন্নয়নশীল এই দেশে আমরা আমাদের নিজেদের কপাল ঘষতেই দিন শেষ, তাই সমাজসেবা করার সাধ থাকলেও সাধ্য থাকে না। কিন্তু কিছু ব্যাপার টাকার অংকে মাপা সম্ভব নয়। অন্তত একটু ভালো ব্যবহার তো করায় যায়। তাচ্ছিল্য না হয় নাই বা করলাম। দারিদ্রতা ওদের জন্মসাথী, কিন্তু আমাদের দুর্ব্যবহারকে কেন ওদের সইতে হবে?
সেদিনের সেই তরুণ বা সেই অভুক্ত বাচ্চাগুলোর মধ্যে কেউই ফেসবুকের ছবি আপলোড দেওয়ায় ব্যস্ত ছিলো না, কিংবা কেউ চেক ইন দিচ্ছিলো না। রেস্টুরেন্ট এর দামি ফ্রাইড রাইস বা ব্রোস্ট চিকেন নয় বরং তাদের আনন্দের উৎস ছিলো কিছু বনরুটি আর কেক। কিন্তু তাদের মধ্যে যে আনন্দ ছিলো, তা ফেসবুকের হাজারখানেক লাইক বা কমেন্টের চেয়ে কম ছিলো না। সত্য তো এটাই, সন্তুষ্টি কখনও লোক দেখানো বিষয় নয়, বরং সেটা পুরোপুরি নিজস্ব একটা ব্যাপার মাত্র…..
আপনি,আমি কিংবা পথশিশু আমরা সবাই মানুষ বিধাতার সৃষ্টিলীলা আপনার মুখে তুলে দিয়েছে সোনার চামচ আর একটা পথশিশুকে করেছে ধুলাবালি পূর্ণ।রাস্তা দিয়ে হেটে যাচ্ছেন।তো আপনার বিশেষ কোনো তাড়ার মাঝেও মিনিট দুয়েক সময় করে স্থির দৃষ্টিতে পথশিশুর মুখের দিকে একটু তাকান।আর ভাবেন আপনার সন্তানের কথা,আপনার ভাইবোনের কথা। ওদের ছলছল চোখের দিকে তাকিয়ে আপনার সন্তানকে কল্পনা করেন হাড্ডিসার হয়ে ময়লার স্তুপে খাবার খুজে যাচ্ছে।কল্পনায় ভাবেন আপনার সন্তানটা ক্ষুধার জ্বালায় পাগলপ্রায় হন্নে হয়ে দৌড়ে বেড়াচ্ছে এক মুঠো পচা ভাত আর লঙ্কা লবনের জন্য।ভাবুন
কাউকে বারবার টাকা চেয়ে বিরক্ত করার অপরাধে আপনার জীর্ণদেহ সন্তানটাকে কেউ থাপ্পড় দিয়ে ফেলে দিচ্ছে।একটাবার ভাবুন শীতের রাতে কারো দোকানপাট কিংবা বাড়ির বারান্দায় আপনার কঙ্কালসার সন্তানটা যখন একটু আশ্রয় খুজে তখন তাকে কানধরে দাঁড়োয়ান ঢেকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়া হচ্ছে।ভাবুন কিছু বুক ফাটা দুঃখ নিয়ে
আকাশ পানে মুখ তুলে বিধাতাকে খুজার ব্যর্থ চেষ্টা নিয়ে হাউমাউ করে কেঁদে যাচ্ছে আপনার সন্তান।এবার আপনি নিজের দিকে খেয়াল করেন।ফিরে আসেন আপনাতে।একাবারে বাস্তব আপনাতে।দেখুন
আপনার নিশ্বাস গাঢ় হয়ে এসেছে।বুকের বা পাশটা চিনচিন করছে।হার্টবিট খনিকের জন্য রুদ্ধ হয়ে ক্রমশ ঢেঁকীর মতো ধপাস ধপাস করে বেড়েই চলছে।আজকের পথশিশু হতে পারতেন আপনি, হতে পারতাম আমি।পথশিশুর মুখের দিকে তাকিয়ে একবার ভাবুন ও তো হতে পারতো আপনার সন্তান!!।পথশিশু হতে পারতো আমাদের সন্তান।

লেখক…….
মো:জুয়েল রানা তালুকদার
মানবাধিকার ও সমাজ কর্মী।


প্রিন্ট

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © banglarprotidin.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themebazarbanglaro4451