আওয়ামী লীগ প্রার্থী সেলিনা হায়াত আইভীর বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণ বিধি লঙ্ঘনসহ নানা অভিযোগ করেছেন বিএনপির প্রার্থী এডভোকেট সাখওয়াত হোসেন খাঁন। একই সঙ্গে সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশনকে সেনা মোতায়েনের দাবিসহ লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরীর আহবান জানিয়েছেন তিনি l মঙ্গলবার দুপুরে সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, এই নির্বাচন বিএনপির জন্য এসিড টেস্ট। সিটি কর্পোরেশন এলাকায় বিএনপির ভোট ৬০ ভাগ, তাই সুষ্ঠু নির্বাচন হলে বিএনপি এই নির্বাচনে হেসে-খেলে জয়লাভ করবে। বর্তমান মেয়র সেলিনা হায়াত আইভীর আচারণ বিধি লঙ্গন প্রসঙ্গে সাখাওয়াত বলেন, আচরণবিধির ২২ নম্বর ধারার ২নং অনুচ্ছেদে স্পষ্ট বলা আছে, নির্বাচন পূর্ব সময়ে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী সরকারি সুযোগ সুবিধা ভোগ বা সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারীগণকে ব্যবহার করতে পারবে না। অথচ, আইভী মেয়র পদে থেকেও সরকারি কর্মকর্তাকে দিয়ে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করিয়েছেন, সরকারি গাড়ি ব্যবহার করছেন। হঠাৎ করেই মেয়র আইভী ভোট পেতে পঞ্চবটি পার্কের প্রবেশ মূল্য অর্ধেক করার ঘোষণা দিয়েছেন। অন্যদিকে জেলা পরিষদের প্রশাসক আবদুল হাইও জেলা পরিষদে বসে শলাপরামর্শ করছেন, বক্তব্য দিচ্ছেন। ফলে নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি হয়নি। মেয়র আইভীকে ব্যর্থ বলে আখ্যা দিয়ে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, সারাবিশ্বে নারায়ণগঞ্জ দূষিত শহরের মধ্যে এক থেকে ১০ এর মধ্যে স্থান করেছে। সামান্য বৃষ্টিতে শহরের প্রধান সড়কে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। যানজটে নাকাল নারায়ণগঞ্জবাসি। নাগরিককে সেবা দিতে আইভী ব্যর্থ হয়েছেন। মাদক সন্ত্রাস প্রতিরোধে কোনো ভূমিকা তিনি পালন করতে পারেননি। সাত খুনের মামলায় তার একজন কাউন্সিলরকে হত্যা করলেও আইভী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনে ব্যর্থ হয়েছে। এছাড়া নাসিকের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা চলছে। আওয়ামী লীগের বিরোধ টেনে সাখাওয়াতে হোসেন বলেন, আইভী নিজের দলকেই ঐক্যবদ্ধ করতে পারেনি, তিনি কিভাবে জনগনকে কাছে টানবেন? বর্তমান নির্বাচন কমিশন সম্পর্কে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, এটা নির্বাচন কমিশনের শেষ সময়। বিগত নির্বাচনগুলোতে কারচুপি ও হরিলুট হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন সিটি নির্বাচনগুলোতে বিএনপির কাউন্সিলর প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র পর্যন্ত সংগ্রহ করতে দেয়া হয়নি। তবে নির্বাচন কমিশনের শেষ সময় আশা করছি অতীতের সকল ভুল ভ্রান্তিকে দূর করতে এবার নির্বাচন কমিশন অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দিবেন। কারণ, মানুষের মধ্যে নির্বাচন নিয়ে আগ্রহ আছে। মানুষ ভোট দিতে চায়। নির্বাচনে সুষ্ঠু পরিবেশ সৃষ্টি করতে হলে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করতে হবে। নির্বাচন কমিশনকে নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে হবে। এছাড়া সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে সেনা মোতায়েন করতে হবে। প্রার্থী হিসেবে সাখাওয়াত নিজে কতটা যোগ্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, সাত খুন মামলাসহ নারায়ণগঞ্জে সরকার বিরোধী আন্দোলনে বিএনপির নেতা কর্মীদের প্রায় ৩০০ মামলা দেখভাল করছি। এই তিনশ মামলায় প্রায় ১০ হাজার নেতা কর্মী রয়েছে। তাদের কাছে আমার দলীয় ইমেজের পাশাপাশি ব্যক্তি ইমেজ রয়েছে। আমার প্রতি আস্থা আছে দলের ভোটারদের। বিএনপির ভোটাররা মুখিয়ে আছে বিএনপির প্রার্থীকে ভোট দিতে। নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসন যদি সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারে আর ভোটাররা কেন্দ্রে যেতে পারে তবেই বিএনপির বাজিমাত দেখতে পাবে সকলে। নিজ দলের বিরোধ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দল আমাকে নমিনেশন দিয়েছে। এটা আমার একার নির্বাচন না। আপানার দেখেছেন এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জেলা শীর্ষ নেতা তৈমূর আলম খন্দকার, কাজী মনিরুজ্জামান, অ্যাডভোকেট আবুল কালামসহ সকল নেতা ঐক্যবদ্ধ। প্রার্থীতা ও নমিনেশন দেয়ার পর সকল শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে কথা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতেই আমাদের সভা হবে। আর ঢাকায় মনোনয়ন দেয়ার সময়ও আমরা একসঙ্গে ছিলাম। সেখানেও আমাদের কেন্দ্র থেকে দিক নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। নির্বাচনে বিএনপি শেষ পর্যন্ত থাকবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, নির্বাচনে আমরা শেষ পর্যন্ত থাকব। যদি সুষ্ঠু পরিবেশ থাকে। আমরা দেখতে চাই এ সরকার দেশের জনগণকে ভোটাধিকার দেয় কিনা! এদিকে রির্টার্নিং কর্মকর্তা নুরুজ্জামান তালুকদার জানিয়েছেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য যা যা করণীয় তার সবই করা হচ্ছে। যেহেতু নাসিক নির্বাচনের দিন দেশের কোথাও নির্বাচন নেই, তাই ঐ দিন আমরা পর্যাপ্ত আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তা পাব আশা করছি। এখনও কোনো প্রার্থী কোনো ধরণের অভিযোগ করেননি বলে জানিয়েছেন তিনি। নুরুজ্জামান বলেন, ভোটারদের সচেতন করতে আমরা শীঘ্রই বিভিন্ন ক্যাম্পেইন করতে যাচ্ছি। ১৯২ কাউন্সলির প্রার্থীর মনোনয়নপত্র সংগ্রহ: নারায়ণগঞ্জ জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও সহকারি রির্টার্নিং কর্মকর্তা মো. তারিফুজ্জামান জানান, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন (নাসিক) নির্বাচনে মনোনয়নপত্র বিতরণের ৬ষ্ঠ দিনে মঙ্গলবার সকাল থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাসদ(ইনু) মহানগর কমিটির সভাপতি মোসলেম উদ্দিন আহমেদ ও স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী মেজবাহ উদ্দিন ভুলু মেয়র পদের জন্য মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ৪০ জন ও সাধারণ কাউন্সিলর পদে মোট ১৯২ জন তাদের মনোনয়নপত্র