মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ১১:০৪ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
ম্যানুফ্যাকচারিং থেকে ইনোভেশনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে: বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ আনোয়ার হোসেন  ঢাকা-যশোর রুটে পুনরায় ফ্লাইট চালু করছে ইউএস-বাংলা বাংলাদেশের সার্বিক সংস্কার প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করতে চায় ইউএনডিপি ঢাকার পানি সংকট মোকাবিলায় ডেনমার্কের সহযোগিতা কার্যকর ভূমিকা রাখবে: এলজিআরডি মন্ত্রী ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনা অর্ধেকে নামিয়ে আনার লক্ষ্য: শেখ রবিউল আলম রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সমাবেশের অনুমতি না দেওয়ার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ  দেশে কোনো পশু সংকট নেই – সাভারে মন্ত্রী আমিন উর রশিদ সাভার ও আশুলিয়ায় অপরিকল্পিত বাসা বাড়িতে বসবাসে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন জনগণ প্রাণিসম্পদ খাতকে সমৃদ্ধ করতে সরকার-বেসরকারি উদ্যোগ প্রয়োজন – মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী   কুমিল্লার নাগরিক সেবায় নতুন অধ্যায়: গঠিত হচ্ছে ওয়াসা

ম্যানুফ্যাকচারিং থেকে ইনোভেশনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে: বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ আনোয়ার হোসেন 

এম এ আজম
  • আপডেট সময় মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ আনোয়ার হোসেন বলেছেন, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও শিল্পের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বাড়াতে ম্যানুফ্যাকচারিংনির্ভর অর্থনীতি থেকে ইনোভেশননির্ভর অর্থনীতির দিকে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। বর্তমান সরকার ক্রিয়েটিভ ইকোনমির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ফ্যাশন ডিজাইন ক্রিয়েটিভ ইকোনমির একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। এ খাতে নিজস্ব ব্র্যান্ড ও সৃজনশীল উদ্ভাবনের মাধ্যমে বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করার ব্যাপক সুযোগ রয়েছে।

 

আজ (মঙ্গলবার) ঢাকায় BGMEA University of Fashion & Technology (BUFT)-এর নবীনবরণ ও ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম ২০২৬ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

 

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব বলেন, ক্রিয়েটিভ ইকোনমির আওতায় ফ্যাশন ডিজাইনের পাশাপাশি আর্কিটেকচার, মিউজিক, ফিল্ম, এডভার্টাইজিং, অ্যানিমেশন ও গেমিংসহ বিভিন্ন খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ফ্যাশন ডিজাইনিংয়ে সৃজনশীলতার পাশাপাশি বাংলাদেশের নিজস্ব ব্র্যান্ড তৈরির যে সুযোগ রয়েছে, তা কাজে লাগিয়ে দেশের তরুণ প্রজন্মকে বিশ্ববাজারে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য প্রস্তুত হতে হবে।

 

তিনি বলেন, “আমাদের আসলে ম্যানুফ্যাকচারিং থেকে ইনোভেশনের দিকে যেতে হবে। ফ্যাশন ডিজাইনে আমাদের ক্রিয়েটিভিটির যে সুযোগ রয়েছে এবং নিজস্ব ব্র্যান্ড তৈরি করার যে সম্ভাবনা রয়েছে, আমরা তা দেখতে চাই। আপনারাই এই দেশকে সেই জায়গায় নিয়ে যাবেন।”

 

মোঃ আনোয়ার হোসেন বলেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় শিল্প ও গবেষণা খাতের মধ্যে কার্যকর সংযোগ স্থাপনের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। এ লক্ষ্যে মন্ত্রণালয় থেকে ‘Research to Market’ এবং ‘Innovate to Market’- এই দুটি ধারণা নিয়ে কাজ করা হচ্ছে।

 

তিনি আরও বলেন, ‘Research to Market’ উদ্যোগের আওতায় বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ (BCSIR)-এর সঙ্গে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরও কার্যকরভাবে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। BUFT-এর সঙ্গেও BCSIR-এর গবেষণা ও উন্নয়নমূলক সহযোগিতা রয়েছে, যা ভবিষ্যতে ফ্যাশন ও টেক্সটাইল খাতে উদ্ভাবনকে আরও এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

 

শিল্প খাতের সঙ্গে সহযোগিতার বিষয়ে তিনি বলেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় আন্তর্জাতিক পোশাক ব্র্যান্ড H&M-এর সঙ্গেও কাজ করছে। এ সহযোগিতার আওতায় এনার্জি ও ওয়াটার ব্যবহারে দক্ষতা বৃদ্ধি এবং কেমিক্যালের ব্যবহার কমানোর মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কাজ করা হচ্ছে।

 

বিজ্ঞান সচিব বলেন, ‘Innovate to Market’ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো উদ্ভাবনী পণ্য ও সেবাকে বাণিজ্যিকভাবে সফল করার পথ তৈরি করা এবং উদ্ভাবনকে বাজারের সঙ্গে কার্যকরভাবে যুক্ত করা। গবেষণা ও উদ্ভাবনের ফলাফল যাতে কেবল গবেষণাগার বা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে, বরং তা মানুষের ব্যবহার ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে বাস্তব অবদান রাখতে পারে, সে বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

 

জাতীয় পর্যায়ে ইনোভেশন ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার উদ্যোগের কথা তুলে ধরে সচিব বলেন, আগামী ১২ সেপ্টেম্বর ঢাকায় আগারগাঁওয়ে নভোথিয়েটারে তিন দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬’ আয়োজন করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ মেলার শুভ উদ্বোধন করবেন। মেলার মাধ্যমে দেশের উদ্ভাবক, গবেষক, শিল্পখাত, উদ্যোক্তা ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মধ্যে কার্যকর সংযোগ তৈরি করে একটি শক্তিশালী ন্যাশনাল ইনোভেশন ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

 

ইনোভেশনের ক্ষেত্রে মেধাস্বত্বের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি রাইটস (IPR) উদ্ভাবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। উদ্ভাবকদের মেধাস্বত্ব সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি উদ্ভাবনকে বাণিজ্যিক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থায়ন ও নীতিগত সহায়তা নিশ্চিত করাও জরুরি।

 

তিনি বলেন, দেশের ইনোভেশন ইকোসিস্টেমের ক্ষেত্রে ফাইন্যান্সিং একটি বড় গ্যাপ এবং পলিসি সাপোর্টও একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। কর্পোরেট ও বেসরকারি খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো গবেষণা ও উন্নয়নে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী হলেও বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা দূর করতে নীতিগত সহায়তা প্রয়োজন। এসব বিষয়কে সামনে রেখে জাতীয় ইনোভেশন ইকোসিস্টেম প্ল্যাটফর্ম তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

 

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, ভবিষ্যতের কর্মক্ষেত্রে শুধু চাকরির জন্য প্রস্তুতি নিলে হবে না; বরং জ্ঞান, সৃজনশীলতা, গবেষণা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে নতুন সুযোগ তৈরি করতে হবে। দেশের অর্থনীতি ও শিল্পের রূপান্তরে তরুণ প্রজন্মকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।

অনুষ্ঠানে তিনি BUFT-এর উপাচার্যসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, শিক্ষার্থী এবং সংশ্লিষ্টদের প্রতি দেশের ফ্যাশন, টেক্সটাইল ও ক্রিয়েটিভ ইকোনমির উন্নয়নে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

 

অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়টির পক্ষ হতে প্রধান অতিথিকে গাছের চারা উপহার প্রদান করা হয়।

 

অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য প্রফেসর ড. ইঞ্জি. আইয়ুব নবী খান, বিইউএফটি এর বোর্ড অফ ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান ফারুক হাসান, সদস্য মোহাম্মদ নাসির, স্নোটেক্স গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালকএস এম খালেদ,

বিভিন্ন ফ্যাকাল্টির ডিন এবং চেয়ারম্যানবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

 

 

 


প্রিন্ট

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © banglarprotidin.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themebazarbanglaro4451