মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬, ০৩:২৩ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
খাল খনন প্রকল্প বাস্তবায়নে কেউ দুর্নীতি করলে কঠোর ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হবে  -তথ্যমন্ত্রী  ১৪ নং ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থী মোঃ সুমন হোসেনের ঈদের শুভেচ্ছা দেশের মানুষের প্রত্যাশা সুশাসিত ও সুন্দর বাংলাদেশ  – -খাদ্য, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী                              আশুলিয়া সাংবাদিক সমন্বয় ক্লাবের উদ্যোগে দোয়া ও ইফতার মাহফিলে ৪টি সংগঠনের সভাপতির অংশগ্রহণ চট্টগ্রামে জমে উঠেছে ঈদের কেনাকাটা, দেশীয় টুপি ও নতুন নোটে বাড়তি আগ্রহ চট্টগ্রাম থেকে অগ্রিম টিকেটে ট্রেনে যাত্রীদের ঈদযাত্রা শুরু সরকার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন শুরু করেছে- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী  চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল উদ্দিন ভূমি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়ায় সার্বভৌমত্ব সুরক্ষা পরিষদের অভিনন্দন গণমাধ্যমের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হবে আমাদের কাজ – তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী খাজা মঈনুদ্দিন চিশতি (র.)-এর আশুলিয়ায় নায়েবে আমির মিজানুর রহমান চিশতির দরবার শরীফে ইফতার ও দোয়া অনুষ্ঠিত 

মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল জলিল মুক্তিযোদ্ধা ভাতা নয় গেজেটে নাম ওঠা দেখে মরতে চান।

বাংলার প্রতিদিন ডেস্ক ::
  • আপডেট সময় সোমবার, ১৩ জুন, ২০১৬
  • ৩৮২ বার পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার, ঝিনাইদহঃ

জীবনকে তুচ্ছ করে রনাঙ্গনে যুদ্ধ করেছেন আব্দুল জলিল। সংসার আর জীবনের

প্রতি তার কোন মায়া ছিল না। বরুদের গন্ধ তাকে পাক বাহিনীকে পরাস্ত

করতে যুদ্ধের মাঠে নিয়ে যেত। সেই মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল জলিলের মনে আজ

অব্যক্ত যন্ত্রনা। জীবন সায়াহ্নে এসে রনাঙ্গনের এই অকুতোভয় সৈনিক হেরে

গেছে আমলাতন্ত্রের কাছে।

মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষে সনদপত্রসহ সব প্রমান তার রয়েছে, কিন্তু গেজেটে তার

নাম নেই বলে সরকারী ভাতা পাচ্ছেন না। ঘাটে ঘাটে টাকা দিয়েছেন নাম

সরকারী গেজেটে ওঠানোর জন্য, কিন্তু কোন কাজই হয়নি। শেষমেশ হাল

ছেড়ে দিয়েছেন তিনি। আব্দুল জলিল ঝিনাইদহ সদর উপজেলার

রাঙ্গিয়ারপোতা গ্রামের মৃত ছানারুদ্দীনের ছেলে। তিনি ১৯৫২ সালে

জন্মগ্রহন করেন। বর্তমান তিনি সাধুহাটী ইউনিয়নের গোবিন্দপুর

গ্রামে বড় ছেলে ফারুক হোসেন ও ছোঠ ছেলে জিয়ার কাছে বসবাস

করেন। মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল জলিল জানান, ১৯৭১ সালে তার বয়স যখন ১৯ বছর

তখন তিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। তার কমান্ডার ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলার

সলুয়া গ্রামের ওয়াজেদ আলী। তার নেতৃত্বে তিনি কোটচাঁদপুরের

ধোপাবিলা, চুয়াডাঙ্গার খেজুরতলা, গড়াইটুপি, বংকিরা, গোবিন্দপুর ও

রাঙ্গিয়ারপোতা এলাকায় সক্রিয় ছিলেন।

সে সময় তার সহযোদ্ধা ছিলেন, গড়াইটুপির মরহুম সাবদার হোসেন,

মোহাম্মদপুর গ্রামের মরহুম এড আইয়ূব হোসেন, খেজুরতলার মরহুম

ফুটান, ধোপাবিলা গ্রামের আনসার, আবু তৈয়ব, আব্দুল প্রমুখ। এক

সঙ্গে যুদ্ধ করে সহকর্মীদের গেজেটে নাম উঠলেও আব্দুল জলিল বঞ্চিত

হয়েছেন। কাগজপত্র নিয়ে তিনি অফিসে অফিসে ঘুরেছেন, কিন্তু কেও

কথা রাখেনি। হবে হচ্ছে আশ্বাস দিয়ে সবাই তাড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি

আক্ষেপ করে বলেন, দেশের দুরাবস্থার এমন চিত্র হবে আগে জানলে যুদ্ধ করনতাম

না। আব্দুল জলিল মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষে প্রমানাদি দেখিয়ে বলেন, ২০০১ সালে

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কেন্দ্রীয় কমান্ডের

চেয়ারম্যান আব্দুল আহাদ চৌধূরী সাক্ষরিত সনদ তার রয়েছে (যার নং

৫৪১৪২)।

মুক্তিযোদ্ধা পুনর্বাসন সোসাইটি থেকেও তার সনদ প্রদান করা হয়েছে

যার নং ৫৮৩৭। তিনি ঝিনাইদহ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের একাধিক নেতার কাছে

দারাস্থ হয়েছেন বলে জানান। কিন্তু কেও তাকে পাত্তা দেয়নি। সবাই তার

কাছে টাকা চেয়েছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন। কিন্তু বর্তমান

পক্ষাঘাতগ্রস্থ আব্দুল জলিল এখন কোথায় টাকা পাবেন ?

এ বিষয়ে মালয়েশিয়া প্রবাসি মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল জলিলের ছেলে ফারুক

হোসেন জানান, তার বাবা গেজেটে নাম ওঠানোর জন্য ২০১১ সালে

মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর কাছে দরখাস্ত করেন। ২০১১ সালের ৯ মার্চ

প্রতিমন্ত্রী ১২৮৯ নং স্মারকে ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য সচিবকে নোট

দিয়েছিলেন। কিন্তু ৫ বছর পার হলেও কোন সাড়া নেই। বাবার নাম গেজেটে

ওঠেনি। মৃত্যুর আগে তিনি মুক্তিযোদ্ধা ভাতা নয়, গেজেটে নাম ওঠা দেখে

মরতে চান। তবেই তিনি মনে করবেন দেশের কল্যানে তার যুদ্ধ স্বার্থক ছিল

বলেন গ্রামের বাড়িতে থাকা ছোট ছেলে জিয়ারুল। 

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © banglarprotidin.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themebazarbanglaro4451